নাগরিক ভাবনা,অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ দেশে নির্বাচিত কিছু টকশোজীবি আছেন , যাদের ঝগড়া ঝাঁটি শুনে বিষয়ের জ্ঞানের অগভীরতা অনুভব করে শ্রোতারা মজা পায়। আবার তার দলীয় লোকেরা উজ্জীবিত হয়। টকশোতে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ টা বেশী পায়। নিজেদের অতীত যে কালিমাময় সেকথা স্বীকার করতে চায়না। আর সরকারি দলের সমর্থক বিরোধী দলের সাথে তাদের কাজের তুলনা করে। আমাদের প্রশ্ন হলো বিরোধী দল অকাম করেছে বলেই তো মানুষ আপনাদের পছন্দ করেছে। তারা খারাপ করলে আপনারা ভাল করবেননা কেন। ওরা করেছে বলে আপনারাও করবেন তাতো গ্রহণযোগ্য নয়।
টিভি টক শোতে ২/৪ জন বাদ দিলে বাঁকীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পালামেন্টারী ভাষা রপ্ত করে টকশোতে আসার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। কিছুদিন আগে আমাদের টকশো জীবিরা করোনা সম্পর্কে যে ভাবে মতামত দিচ্ছিলেন তাতে মনে হয় তারা করোনা বিষয়ে যথেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ , এবং আলোচনা শুনে মনে হয় তারা অনেক আগে করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯ নিয়ন্ত্রন ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করে দারুন সফলতা অর্জন করেছেন। আমার মতো মোটামুটি বোকা সোকা একজন লোকের কাছে মনে হয় কর্তারা টকশোতে বসে গলাবাজি করে , সরকারের দোষ , ব্যর্থতা , ফাঁকাবুলি , উন্নয়নের মিথ্যা ফুলঝুরি ইত্যাদি খুঁজতে ছাড়েননা। বলতে বসেন করোনা সম্পর্কে আর শুরু করেন খিস্তি খেউড়ি।
এসব শোনার জন্য আমরা বসে থাকিনা , আর চ্যানেলগুলোতে কিছু আবাল দলকানা মানুষকে টকশোতে নিয়ে আসেন যারা কি বিষয়ে তাদের সম্পর্কে বলবেন তাই বোঝেননা। এ বিষয়ে তাদের সম্পর্কে বলা যায় “তারা কি বোঝেননা সেটাই বোঝেনা ” টকশোজীবিদের আমরা সাধারণ মানুষরা একটা পরামর্শ দিতে পারি , তা হলো দেশের মানুষকে একেবারে হিসাবের বাইরে রেখে আপনি অন্য গ্রহ থেকে আসা হিসাবে নিজেকে বিবেচনা করবেননা। করোনা দুর্যোগ বিশ্বের সমস্যা , কোন দেশেরই অভিজ্ঞতা নাই। ডাক্তারদেরই নাই ,আপনার নিজেরতো নাইই। এমন কি দুনিয়ার মোড়ল দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পৃথিবীর কোন দেশের সরকার প্রধাণের দিকে তাকিয়ে দেখলে সেই সরকার প্রধান ধন্য হয়ে যায়।
যদিও সেই প্রেসিডেন্ট একটু পাগলাটে। তারপরেও তাদের মাসুল দিতে হচ্ছে। আপনি যে দেশে বাস করেন সে দেশের মানুষের রুচি অভ্যাস , কৃষ্টি কালচার সম্পর্কে আপনর জ্ঞানের এতো অভাব আগে কম বুঝেছি। আমাদের দেশে বাসায় কেউ আসলে সে যদি কিছু না খেয়ে যায় তাহলে গৃহকর্তা দুঃখে বাঁেচননা , মনে হয় সর্বনাশ হয়ে গেল। এই জাতি বড্ড অতিথি পরায়ন। কোলকাতার চেয়ে আমাদের কত তফাৎ তা আপনার অজানা নয়। কলকাতায় অতিথি আসলে কয়েক ঘন্টা আলাপের পর ওই যে চালু আছে ‘খেয়ে এসেছেন নাকি গিয়ে খাবেন’। আর বিদেশে অথ্যাৎ সভ্য দেশে শুধুই জিজ্ঞাসা কোল্ড অর হট। অতিথি যদি বলেন নো থ্যাকংস। ব্যস আপ্যাায়ন পর্ব ওখানেই শেষ। জাপান চায়নায় হ্যান্ডশেক করেনা।
আর আমাদের হ্যান্ডশেক কোলাকুলি ইত্যাদি ছাড়া অন্তরঙ্গতা প্রমান করাই যায়না। আমাদের টকশোজীবিরা জাতিকে খুবই জ্ঞান দিতে থাকেন। সরকারের এটা করা উচিত ছিল, ওটা করা উচিত ছিল, এটা ব্যর্থতা , ওটা ফাঁকা আওয়াজ , জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি। তবে ১ টা বিষয় স্বীকার করতে হবে তা হলো আমাদের মন্ত্রী পরিষদে কিছু সদস্য আছেন তারা আর যাই হোক মন্ত্রী হিসাবে ততটা চৌকষ নয় যতটা প্রধানমন্ত্রী ভরসা করেন। এদের বাদ দিলে কি হবে আর কেউ আছে কিনা তা আমাদের জানা নাই। এদের অনেককে ভাষা শিক্ষা ইন্সটিটিউটে ভর্তি করার দাবী অযৌক্তিক নয়। এবিষয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে যে মন্তব্যগুলো দেখি তাতে , তা যদি তারা পড়েন তাহলে মন্ত্রী পরিষদে থাকা দুরের কথা দেশেই থাকতেননা।
শিক্ষা মন্ত্রীর যেমন বিভিন্ন দেশের শিক্ষার জ্ঞান থাকা দরকার তেমনি স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাক্তার হলে এসব সমস্যার সমাধান সহজ হতো। কারণ ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য কর্মীরাই করোনা বিষয়ক ফ্রন্ট ফাইটার। তাদের সেফটি সিকিউরিটির বিষয়ে কড়া নজর দিতে হবে। সে বিষয়ে মনে হয় আমাদের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়টি টেকনিক্যাল। এটা বুঝতে টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকা দরকার। ডাক্তারদের বরখাস্ত করে সমস্যার সমাধান করা যাবেনা। যারা বরখাস্ত করেছে তাদের জবাব দিতে হবে যে ডাক্তারদের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ঠেকে ঠেকে শিখবেন তা হবেনা। সীমাবদ্ধ থাকার পরও তাদের সাথে বসে তাদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তাদের পরামর্শ নিতে হবে।
নিউজিলান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভুল রাস্তায় গাড়ি চালিয়েছেন , তিনি যখন বুঝতে পেরেছেন যে তিনি ভুল ক্রমে তা করেছেন , সাথে সাথে তিনি পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন তবে ক্ষমতা কিছুটা কমিয়েছেন। আমাদের দেশে এ রকম নজীর কেউ সৃষ্টি করতে পারেনি। হতে পারে কোন মন্ত্রীর পদত্যাগের সুযোগ হয়নি বা কোন ঘটনা ঘটেনি। যারা খুব বেশি সমালোচনা মুখর তারাও কিন্তু অল্প অতীতে সরকার পরিচালনা করেছেন। আওয়ামী লীগ একটানা আর ওরা মাঝে মাঝে বাদ দিয়ে খুব কম সময় নয়। তাদেরও এই জাতীয় মন্ত্রী ছিল তারাও পদত্যাগ করেনি। সব সরকারের মন্ত্রীদের ২/৪ জন একটু বাচাল মন্ত্রী থাকে। তারা বেশি স্তাবকতা করেন। ভিতরে হাঁড়ী শুন্য।
জানেনই তো শুন্য হাঁড়ি বাজে বেশী। মন্ত্রীরা নিজেদের সামর্থের বিষয়টি জনসাধারণকে খোলাশা করে না বলে মেঠো বক্তৃতা দিয়েছেন , প্রস্তুতি আছে , নিয়ন্ত্রনে আছে। উপকরণের অভাব নেই , তবে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম এতো শক্তিশালী যে কেউ একটা পারুটি বিতরণ করলেও গোপন থাকেনা , আবার টুপি ছাড়া নামাজ পড়লেও তা প্রচার হয়ে যায়। । অনেক চ্যানেল , সাংবাদিকরা হন্যে হয়ে সংবাদ খোজে। ওদেরতো কাজই তাই। কিছু সাংবাদিকের উপস্থাপিত সংবাদ বিড়ম্বনার সৃষ্টি করলেও অধিকাংশ সাংবাদিক জীবনের ঝঁিুক নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে। ফলে সরকারও তাদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে আবার জনসাধারণও প্রশিক্ষিত হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী সম্পর্কে দেশের মানুষ বিরুপ মন্তব্যই করেছে। কেননা স¦াস্থ্য মন্ত্রীর অতীত আওয়ামী লীগের ক্যারিয়ার তত উজ্জল নয়। তিনি এই দুৃর্যোগে কাংখিত দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি। । এটা আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবেনা। দেশের মানুষের আস্থার প্রয়োজনে দলেও একটা শক্ত সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে। বিষয়টি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এখতিয়ার।