admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২২ ৩:০৭ অপরাহ্ণ
মোঃ মজিবর রহমান শেখ,জেলা প্রতিনিধিঃ রাস্তার মোড়ে ছেঁড়া জুতা সেলাই করছেন মধ্য বয়সী এক নারী। জুতা জোড়া বা সেলাই করে মজুরি পাবেন ১৫/২০ টাকা। সেলাই-কালি (রং) করে হাটের দিন আয় হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। হাট ছাড়া মাঝে মাঝে ৫০ টাকাও আয় হয় না। থাকেন ভাড়া বাড়িতে। এ আয় দিয়েই চলে তাঁর সংসার।
তাঁর কিশোর ছেলে সবেমাত্র নরসুন্দরের কাজ শিখছে। খেয়ে না-খেয়ে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ৮ বছর ধরে তিনি চর্ম শিল্পের পেশায় আছেন। সংগ্রামী ঐ নারীর নাম শেফালি দাস। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রয়াত রমেশ দাসের স্ত্রী। তাঁর স্বামী ঠাকুরগাঁও সদরের রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলার হাটের একটি মোড়ে চর্ম শিল্পের কাজ করতেন। সেখানেই এখন বসেন তিনি।
সপ্তাহে শুক্র ও মঙ্গলবার হাট বসে। ১১ নভেম্বর শুক্রবার হাটে শেফালি দাসের সাথে কথা হয় মুক্ত কলম প্রতিনিধি মোঃ মজিবর রহমান শেখ এর সাথে। শেফালি তাঁকে জানান গত ৮ বছর আগে আকস্মিকভাবে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। হঠাৎ পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন জীবন চালানোর কথা ভেবে শেফালি। ক্ষুধার তাড়নায় স্বামীর রেখে যাওয়া চর্ম শিল্পের কাজ শুরু করেন।
প্রথমে তেমন কাজ না পারলেও পরে ধীরে ধীরে শিখে নেন। যা আয় হতো তা দিয়ে ৪ জনের সংসারে কোনো দিন এক বেলা, আবার কোনো দিন দুই বেলা ভর্তা-ভাত খেয়ে পার করতেন। আমিষ তো বছরেও মুখে ওঠেনি, তাঁর ১৪ বছরের ছেলে দীপুকে শেখাচ্ছেন স্যালুনের কাজ। বছর খানেক ধরে শেফালির আয় কমে গেছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর মনে হচ্ছিল ভিক্ষা করব। পরে চিন্তা করি সৃষ্টিকর্তা সুস্থ শরীর ও ভালো দুটি হাত দিয়েছেন। পরিশ্রম করে খাবো সে কারণে স্বামীর রেখে যাওয়া পেশাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিই।
এমনটি বলছিলেন শেফালি দাস। এলাকার ভোটার হলেও বিধবা ভাতা পাননি শেফালি। জোটেনি আশ্রয়ণের ঘরও। ভাতার জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের বলেও কাজ হয়নি। এখন তাঁর শরীর আগের মতো নেই। এ কারণে দিন দিন চিন্তা বাড়ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকারি ভাতা পাব কিনা জানি না। মরার আগে যদি ছেলেকে নিজস্ব জায়গাতে রেখে যেতে পারতাম তা হলে মরেও শান্তি পেতাম। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান বলেন, শেফালির বিষয়ে জানা ছিল না। আবেদন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁর বিধবা ভাতাসহ সরকারি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
মুক্ত কলম টীম চেষ্টা করবে সরকারী পর্যায় যেসব সুযোগ সুবিধা আছে তা শেফালি দাসকে পাইয়ে দিতে পাশে থাকবে এই নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা সরকারী দপ্তর গুলোতে যোগাযোগ করবো এবং এর ফলোয়াপ জানাবো।