admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কে দাবিতে আন্দোলনকারী ইলিয়াস কাঞ্চন একশ’ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে যে মানহানির মামলা করেছেন, আদালত তা গ্রহণ করেছে। মি: কাঞ্চন পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ঢাকার জজ আদালতে মামলাটি করেছিলেন গত বুধবার। এ ব্যাপারে সাবেক মন্ত্রী এবং পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত । শাজাহান খান বলেছেন, তিনি আদালতের কাছে যথাসময়ে তার ব্যাখ্যা বা জবাব দেবেন। বৃহস্পতিবার শুনানির পর আদালত মামলাটি গ্রহণ করে। মি: কাঞ্চনের পক্ষের আইনজীবী মো: রেজাউল করিম বলেছেন, তার মক্কেলকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তারা মামলাটি করেছেন। আদালত শাজাহান খানের প্রতি সমন দিয়েছে। তাকে এখন নিজে গিয়ে বা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী ইলিয়াস কাঞ্চন বিভিন্ন সময় সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের একটা বড় অংশের তোপের মুখে পড়েছেন। কয়েকমাস আগে সরকার পরিবহন আইন কঠোরতর করার পর মি: কাঞ্চনকে পরিবহন শ্রমিকরা বাস টার্মিনালগুলোতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে গত ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এবং সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান তার বক্তব্যে ইলিয়াস কাঞ্চনের আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই বক্তব্যকেই উল্লেখ করে মামলাটি করা হয়।

শাজাহান খান
শাজাহান খান বলেছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি এখন জবাব বা ব্যাখ্যা দেবেন। আমি আমার ব্যাখ্যা দিয়ে দেবো। আমি ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। উনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। আমি সময়মতো আদালতে সব বলবো। ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষের আইনজীবী মামলার শুনানিতে এই অভিযোগও তুলেছেন যে, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৯৯৩ সাল থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন। এই আন্দোলনে সমর্থন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে বলেই তাকে বাধাগ্রস্ত করার কৌশলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য দেয়া হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। তবে সিনিয়র আইনজীবীদের অনেকে বলছেন, দেশে মানহানির অভিযোগ সম্পর্কিত মামলা নিস্পত্তি হওয়ার নজির খুব কম।
সুপ্রিমকোটের আইনজীবী রাশনা ইমাম বলছিলেন, অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। অনেক সময় মামলার নিস্পত্তি হতে ২০/২৫ বছরও লেগে যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগ্রহই হারিয়ে ফেলে। মানহানির মামলা নিস্পত্তি হওয়ার নজির খুবই কম। এধরণের মামলায় ব্যয়ও অনেক বেশি হয়। আইনজীবীরা বলছেন, মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণ যা দাবি করা হয়, তার আনুপাতিকহারে একটা মোটা অংকের কোর্ট ফি দিতে হয়। এই মামলাটি করার জন্য ইলিয়াস কাঞ্চনকে কোর্ট ফি দিতে হয়েছে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। মামলার এই পর্যায়ে ইলিয়াস কাঞ্চন তার আইনজীবীর বাইরে নিজে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।