admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২২ ৯:৩০ অপরাহ্ণ
রেড্ডিউ নিংদার, স্টাফ রিপোর্টার ইন্দোনেশিয়াঃ ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল ম্যাচে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১৭৪ জন মারা গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ স্টেডিয়াম বিপর্যয়ের মধ্যে একটি ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল ম্যাচে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১৭৪ জন মারা গেছে। ইন্দোনেশিয়ায় একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে একেবারে ভয়াবহ ঘটনা গেল। শনিবার রাতে জাভা প্রদেশের মালাং শহরের কাঞ্জুরুহান স্টেডিয়ামে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ লিগ বিআরআই লিগা ওয়ানের একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন রীতিমতো দাঙ্গা বেঁধে যায়। দাঙ্গা এবং তার পরে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
নিহতদের মধ্যে শিশু এবং পুলিশও রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের মালাং শহরের কাঞ্জুরুহান স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে ফুটবল ম্যাচটি চলছিল। মুখোমুখি হয়েছিল পার্সেবায়া সুরাবায়া এবং আরেমা ফুটবল ক্লাব। পার্সেবায়া তার ঘরের মাঠে আরেমাকে হারিয়ে দেয়। আর এর পরেই শত শত বিক্ষুব্ধ সমর্থক মাঠে নেমে পড়ে। শুরু হয় ঝামেলা। পূর্ব জাভা প্রদেশের ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ প্রধান নিকো আফিন্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ঘটনায় ১২৭ জন মারা গিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা। ৩৪ জন স্টেডিয়ামের ভিতরেউ মারা গিয়েছেন এবং বাকিরা হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মালাংয়ের কাঞ্জুরুহান স্টেডিয়ামের মাঠে নেমে ঝামেলা করছে লোকজন। ছুটে বেড়াচ্ছেন। এবং পুলিশ তাদের সরানোর জন্য তাড়া করছে। লাঠিচার্জ করছে। পুলিশ ঝামেলা বন্ধ করতে গেলে, তা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রচুর পরিমাণে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। যার ফলে ধোঁয়ার মেঘ তৈরি হয়েছিল। এটাও ছিল পদদলিত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএসএসআই) শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি জারি করেছে এবং বলেছে যে, খেলার পরে কী ঘটেছিল তা তদন্ত শুরু করতে একটি দল মালাংয়ে রওনা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পিএসএসআই কাঞ্জুরুহান স্টেডিয়ামে আরেমা সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত। আমরা দুঃখিত এবং ঘটনার জন্য নিহতদের পরিবার এবং সমস্ত পক্ষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। সেই জন্য পিএসএসআই অবিলম্বে একটি তদন্ত দল গঠন করেছে এবং অবিলম্বে সেই দল মালাংয়ে গিয়েছে।
এই দাঙ্গার পরে এক সপ্তাহের জন্য লিগ ম্যাচগুলি স্থগিত করা হয়েছে। আর হবে নাই বা কেন। এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে রোমহর্ষক। ফুটবল ম্যাচ দেখতে এসে ১২৭ জন প্রাণ হারান এবং ১৮০ জন আহত হন। আরেমা এফসি দলের উপর এই মরসুমের বাকি টুর্নামন্টের জন্য ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।