admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ২:৪৬ অপরাহ্ণ
আফগানিস্তান তালেবানের হাতে মার্কিন অস্ত্রে শঙ্কিত ভারত। তালেবান যোদ্ধারা এখন আর বন্দি নয়। তাদের হাতে রয়েছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র। এটা ভারতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পরিচালক জেনারেল পঙ্কজ সিং সম্প্রতি এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন। গত আগস্টে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান বাহিনী। এরপর মার্কিন বাহিনী দেশটি থেকে চলে যায়। তবে সেখানে রয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের নানা ধরনের অস্ত্রসম্ভার। মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার আগে কিছু জঙ্গি বিমান, হেলিকপ্টার নষ্ট করে গেলেও সামরিক যান ও অস্ত্রশস্ত্র ছিল অক্ষতই।
পরে সেগুলো দিয়েই নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সজ্জিত করেছে তালেবান। এমনকি কাবুলের রাস্তায় মার্কিন সামরিক যানে তালেবানের প্যারেডেও সেসব অস্ত্রের ঝলকানি দেখা গেছে। তালেবানের এই অবস্থান যে ভারতের জন্য স্বস্তির নয়, তা শুরু থেকেই নয়াদিল্লির বিভিন্ন কার্যকলাপে প্রকাশ পেয়েছে। ভারতের সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তা থেকে সরকারের বিভিন্ন স্তরের আমলাদের কথাবার্তায় সেই ভাব ছিল স্পষ্ট। এর মধ্যে তালেবানের সাথে আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু তাদের হাতে থাকা মার্কিন অস্ত্রের ব্যাপারে ভারত সরকারের শঙ্কা কাটেনি।
তাদের মূল ভয়, এসব অস্ত্র দিয়ে তালেবান কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। ভারত সরকারের ভাষায়, যার ফলে কাশ্মিরে ব্যাপক রক্তক্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। গত মঙ্গলবার বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল পঙ্কজ সিং বলেন, তালেবান যোদ্ধারা এখন আর বন্দি নয়। তাদের হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র। এটা ভারতের জন্য উদ্বেগের। আমরা এই বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছি। দেশের নিরাপত্তায় মোতায়েন বাকি সামরিক বাহিনীকেও এ বিষয়ে অবগত করেছি আমরা।
একই সময়ে তিনি পাকিস্তান থেকে ড্রোনে করে অস্ত্র, মাদক পাচার বা হামলা রুখে দেয়ার ব্যাপারে বিএসএফের তৎপরতার কথাও জানান। বিএসএফ প্রধান বলেন, নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে এ পর্যন্ত পাকিস্তানের ৬৭টি ড্রোন ধরা পড়েছে। সেগুলো আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট এবং অধিকাংশই মেড ইন চায়না। প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই ড্রোনের মাধ্যমে দেশের অন্দরে মাদক পাচার করা হচ্ছে। সীমান্তে ড্রোনের গতিবিধি আটকাতে আমরা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ইনস্টল করেছি।
আমরা আরও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করছি। তবে বিএসএফ প্রধান বলেন, ভারত-পাকিস্তানের ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা জুড়ে ড্রোনের ওপর নজরদারি কঠিন। আর সীমান্তের সব স্থান দিয়ে ড্রোন প্রবেশ আটকানোর বিষয়টি বেশ খরচসাপেক্ষও। এই কারণে বিকল্প পদ্ধতির কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।