admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২২ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেস্কঃ ১৯৮২ সালের ২৩শে অক্টোবর জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান উন্নয়ণ, সুশাসন, সংস্কার ও সমৃদ্ধির মহানায়ক প্রেসিডেন্ট পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ গঠন করেন। শত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা ভেঙে গণমানুষের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতেই তিনি উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রবর্তণ করে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ৪৬০টি উপজেলা পরিষদ গঠন করে মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সেবাসমূহ তৃণমূল মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছিলেন।
শহরের সকল সেবা গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল, মুন্সেফকোর্ট, পশু চিকিৎসা, কৃষি উন্নয়নসহ সব সেবা নিশ্চিত করেছিলেন। প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষা ও ক্রীড়া উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ সময় শত বছরের ঘুণে ধরা ১৯টি জেলা ও ৪২টি মহকুমাকে ভেঙ্গে ৬৪টি জেলা তৈরী করেন তিনি। মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা সদর দপ্তর নির্মাণ করেন। সরকারী সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অসংখ্য সরকারী ভবন নির্মাণ করেন।
সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্য করেন উপজেলায় গিয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য। ১৯৮৮ থেকে ৯০ সালে সারা দেশে ৫৬৮টি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করে ২১ হাজার ছিন্নমূল ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেন। জাতি গঠনের লক্ষ্যে সার্বজনীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেন পল্লীবন্ধু। শিক্ষাকে বাস্তবমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং অর্থনৈতিক চাহিদার পূর্ণ উপযোগী হিসেবে ঢেলে সাজান।
প্রতি ২ কিলো মিটার এলাকা বা ২ হাজার মানুষের বসবাস এলাকায় একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তিনিই পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই, খাতা ও পেন্সিল বিতরণ শুরুই করেন তিনি। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেন। চারটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা একই দিনে নেয়া শুরু করেন। প্রতিটি উপজেলায় একটি বালক ও একটি বালিকা বিদ্যালয় এবং জেলা সদরে একটি কলেজকে আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। ২১টি কলেজকে জাতীয়করণ করেন। ৯ টি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা ৭০ ভাগ বৃদ্ধি করেন। ৬টি বিশ্বদ্যিালয় হল এবং ১৭টি কলেজ হোস্টেল নির্মাণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের নামে কোনো হল নির্মাণ না করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানের নামে দুটি হলসহ মেয়েদের জন্য বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল নির্মাণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ ছাড়াও জনগণের কল্যাণে আরো অসংখ্য অনেক উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছেন পল্লীবন্ধু যা স্বল্প পরিসরে লিখে শেষ করা যাবেনা। রাষ্ট্র পরিচালনায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে উন্নয়নের যে কীর্তি গড়েছেন তা এক কথায় বলে শেষ করা সম্ভব নয়। উন্নয়নের কীর্তির মাঝেই বেঁচে থাকবেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০–১৪ জুলাই ২০১৯) বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দেশ পরিচালনাকে অনেকেই সামরিক একনায়তন্ত্রের সাথে তুলনা করেন। তিনি জাতীয় পার্টি নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে বেশ কিছু উপদলে বিভক্ত হয়। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন হতে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং তিনি একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৮৩ সালে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং সামরিক শাসন জারীর মাধ্যমে দেশ শাসন করেন। দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুন:প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ঘোষণা করে তিনি ১৯৮৬ সালে সংসদীয় সাধারণ নির্বাচন দেন। এই নির্বাচনে তিনি স্বপ্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে অংশ গ্রহণ করেন এবং পরে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে গণবিক্ষোভের চাপে এবং সেনাবাহিনীর সমর্থনের অভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।