admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘এক দফা, এক দাবি’র আন্দোলনে নামছে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল, বিএনপি! নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করতে রাজপথে সোচ্চার হচ্ছে দলটি। গত কয়েকদিনের টানা বৈঠকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ প্রায় সব নেতা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পক্ষে জোরালো মত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের। সেইসঙ্গে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের পক্ষে মত দিয়ে তাতে শীর্ষ নেতাদের সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার কথা বলেন তারা।
গত ১৪, ১৫, ১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির তিনটি দীর্ঘ সভায় অংশ নেন ২৪৯ জন নেতা। তাদের মধ্যে ১১২ জন বক্তব্য রাখায় ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে আলোচনা। এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহযোগী সংস্থাগুলোর শীর্ষ নেতারা। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ার্পারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভার্চুয়ালি অংশ নেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই সব বৈঠকের আলোচনা-পর্যালোচনা করতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসে গতকাল শনিবার রাতে।
সবশেষ এই বৈঠকে অংশ নেয়া বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, আগের বৈঠকগুলোতে প্রায় সব নেতাই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন বয়কটের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে নামার কথা বলেছেন তারা। এসব বিষয় জানাতে গতরাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বাসায় দেখা করেছেন মির্জা ফখরুল।
এরপরই নির্বাহী কমিটির বাদবাকি সদস্যদের সঙ্গে আগামী ২১, ২২, ২৩ সেপ্টেম্বর মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত নেন বিএনপি নেতারা। তাদের কাছ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য আসলে দলটির সর্বোচ্চ ফোরাম স্থায়ী কমিটির ফের বৈঠক ডাকা হবে। সেখানে আবারো পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বলছেন দলটির নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন বিএনপির শীর্ষ নেতা জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৈঠকের বক্তব্য বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে একদফা দাবিতে কঠোর আন্দোলনের বিকল্প নেই। এখন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে দলীয় কৌশল নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার জন্য ১০-১২টি বিষয় ঠিক করেছেন তারেক রহমান।
তারা আরো জানিয়েছেন, এসব বিষয়ের ওপর পরামর্শ ও মতামত জানার চেষ্টা করছে বিএনপির হাইকমান্ড, যার ওপর ভিত্তি করে দলীয় পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হবে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর এমন ধারাবাহিক বৈঠক করলো বিএনপি। একই সঙ্গে তারেক রহমান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর সবচেয়ে বড় বৈঠক এটি। জানা যায়, আগামীতে দলটির সম্ভাব্য রাজনৈতিক কৌশল, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি এবং ভবিষ্যতে করণীয় ঠিক করতে একের পর এক বৈঠক করা হচ্ছে। এরইমধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে দীর্ঘদিন পর নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা আলোচনা করেন নেতারা।