admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ মে, ২০২০ ১২:১৯ অপরাহ্ণ
করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃতের সংখ্যায় স্পেন ও ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাজ্যঃ করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃতের সংখ্যায় স্পেন ও ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। বুধবার দেশটিতে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের সংশোধিত তালিকা প্রকাশের পরপরই বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। নতুন তালিকায় হাসপাতালের বাইরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবিসি কেয়ার হোমসহ অন্যান্য জায়গায় মারা যাওয়া করোনা রোগীদের সংখ্যা যোগ করার পর যুক্তরাজ্যে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজারের বেশি। গত মঙ্গলবারও সরকারি হিসাবে দেশটিতে প্রাণহাণির সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৬৭৮। যুক্তরাজ্যে হাসপাতালে মৃতুবরণকারী করোনা রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে এর বাইরে বিভিন্ন কেয়ার হোম বা অন্যান্য জায়গায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হয় সাপ্তাহিকভাবে। এদিকে, একদিনে চার হাজারের বেশি মৃতুর তথ্য প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রম্নত লকডাউন জারি না করাসহ মেডিকেল কর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) সরবরাহে ব্যর্থতার দায়ে কনজারভেটিভ সরকারকে দুষছেন বিরোধীদলীয় লেবার পার্টির নেতারা। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব জানিয়েছেন, তালিকায় যুক্ত মৃত ব্যক্তিরা একদিনেই মারা যাননি। এর মধ্যে গত ২ মার্চ থেকে হাসপাতালের বাইরে মৃতদের নামও রয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারে তথ্য মতে, মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাজ্যের ওপরে রয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি। ইতালিতে মারা গেছে ২৭ হাজারের বেশি। তবে মহামারিকালের হিসাবে ইতালি কয়েক সপ্তাহ এগিয়ে রয়েছে। গত কয়েকদিনে সেখানে মৃতের সংখ্যাও বেশ কমে এসেছে। সেদিক থেকে মৃতের হিসাবে ইতালিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। হাসপাতালে থাকা এক-তৃতীয়াংশই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’র হাসপাতাল গুলোতে ভর্তি হওয়া করোনা আক্রান্তদের এক-তৃতীয়াংশই মারা যাচ্ছে।
এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি রোগীকে ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপাইরেটরি অ্যান্ড ইমার্জিং ইনফেকশনস এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষকরা যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, রোগীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মারা গেছে, ৪৯ শতাংশ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১৭ শতাংশ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভেন্টিলেটর থাকার পরও মারা গেছেন ৫৫ শতাংশ। আইসিইউতে থাকা ৪৫ শতাংশ ভাইরাসের কাছে পরাজিত হয়েছে, অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করেছেন। আর ৩১ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ২৯ হাজার ছাড়িয়েছে ।
সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ২৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া, ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৩২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে। আর আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১০ লাখ মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৮ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৯ হাজার ৮১৭ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির সংক্রমণে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটিতে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। আর মৃতের সংখ্যা ৬২ হাজার পেরিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৮ হাজার ৪২৮ জন। আর মারা গেছে দুই হাজার ৩৯০ জন। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। নতুন ৩২৩ জনসহ দেশটিতে মারা গেছে ২৭ হাজার ৭৮২ জন। দেশটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮৬ জন। মৃতের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা স্পেনে অবশ্য ইতালির চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় চার হাজার ৭৭১ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮৯৯ জন। আর নতুন ৪৫৩ জনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৪ হাজার ২৭৫ জন। এছাড়া, ফ্রান্সে ২৪ হাজার ৮৭ জন, বেলজিয়ামে সাত হাজার ৫০১ জন, জার্মানিতে ছয় হাজার ৪৬৭, ইরানে পাঁচ হাজার ৯৫৭, ব্রাজিলে পাঁচ হাজার ৫১১, নেদারল্যান্ডে চার হাজার ৭১১ জন, তুরস্কে তিন হাজার ৮১ জন মারা গেছে।