admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২০ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁও থেকেঃ করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্বপ্ন ভেঙে গেছে ঠাকুরগাঁও জেলার সবজি চাষিদের । জানা গেছে, বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে গায়ের ঘাম পানি করে ক্ষেতে সবজি চাষ করে ভরে তুলেছেন জেলার চাষিরা। সবজি চাষ করে জীবিকার চাকা সচল রেখেছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক পরিবার। প্রতি বছর এ জেলার উৎপাদিত ফসল ও শাক-সবজি এ জেলায় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু বর্তমান দেশের চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চাষিদের স্বপ্ন যেন দূঃস্বপ্ন হয়ে পড়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি বর্গা নেওয়া সবজি চাষীদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিওতে, সরকারীভাবে কৃষি ঋণ গ্রহণ করে, মহাজনদের কাছে উচ্চ সুদে ধার-দেনা করে কেউ আবার গৃহস্থালী পণ্য বিক্রি করে কিছু লাভের আশায় রাত-দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তরমুজ, করলা, লাউ, শসা, বেগুন ও টমেটো সহ রকমারী শাক – সবজি এবং ফসল উৎপাদন করে দিনাতিপাত করে আসছিল। কিন্তু এবার কোভিট-১৯ এর কারনে এলাকার সবজি চাষীদের মুনাফা অর্জনের স্বপ্ন যেন স্বপ্নেই থেকে গেল। এ প্রসঙ্গে বড়দেশ্বরীহাটের বর্গা নেয়া কৃষক বেলাল হোসেন আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, তিনি প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ২ একর জমিতে মিষ্টি কুমড়া, ভূট্টা ও মরিচ চাষ করেছেন এবং এখন পর্যন্ত এক টাকাও বিক্রয় করতে পারেননি।একই বেদনার কথা জানান ওই এলাকার চাষি মোঃ আব্দুল হাই। তিনি বলেন, প্রায় দেড় একর জমিতে সবজি চাষে প্রায় খরচ ৬০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। ২১নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের চাষি মেজু আহম্মেদ জানান, আমি ২ একর জমিতে লাউ, শশা চাষ করি খরচ প্রায় জমির দামসহ ২লক্ষ টাকা।
দাম না থাকায় আমি মানসিক ভাবে হতাস হয়েছি। একই অবস্থা জেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক শারীরিক ভাবে করোনায় আক্রান্ত না হলেও আর্থিক ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে একাধিক কৃষক বেদনার কন্ঠে জানান। করোনায় দেশ প্রায় স্থবির হওয়ার কারণে তাদের উৎপাদিত পচনশীল সবজি রাজধানী ঢাকা সহ বাহিরে সরবরাহ করতে না পারায় স্ব স্ব এলাকায় নাম মাত্র মূল্যে স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট সবজি ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিত বিবেচনা নিয়ে অনেকে আবার সবজি ক্ষেত ভেঙ্গে নতুন করে ভূট্রার আবাদে ঝুকে পড়ছেন।

এমতাবস্থায় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে সবজি চাষীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষনের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোবাশ্বেরুল ইসলাম জানান , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার প্রতি বর্গ ইঞ্চি জমিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের উৎসাহিত করে আসছেন। কিন্তু আকস্মিক করোনায় লকডাউনের কারনে ক্রেতা-আড়তদার না থাকায় এলাকার উৎপাদিত সবজি ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারছেন না চাষীরা।আবার কিছু কিছু বাজারজাতের ব্যবস্থা থাকলেও নাম মাত্র দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। তিনি বলেন, সবজী চাষীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ অথবা পৃথক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা না হলে উপজেলার কৃষকরা আগামী কয়েক বছরেও মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমার আশংকা।