পজিরুল ইসলাম, বালিয়াডাঙ্গী প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
গত ১১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ২০:০০ ঘটিকার সময় প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও জেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে হানিফ পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন নিটল-টাটা সার্ভিসিং সেন্টারের বাউন্ডারির ভিতর থেকে নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ আব্দুর রহমান (৫৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং নিহতের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত মোঃ আব্দুর রহমান গত ১১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকার সময় নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে বের হন। কর্মস্থলে পৌঁছে তিনি রাত্রিকালীন ডিউটিতে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী তোয়াবুর রহমানের নিকট থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় নিহত ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা বলেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। একই দিন দুপুর আনুমানিক ১৩:৪৫ ঘটিকার সময় নিহতের ছেলে তার বাবার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে কর্মস্থলে গেলে বাইরে থেকে গেট বন্ধ দেখতে পেয়ে তিনি ফিরে যান।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা আনুমানিক ১৯:৩০ ঘটিকার সময় রাত্রিকালীন ডিউটিতে যোগদানের জন্য নিরাপত্তা প্রহরী তোয়াবুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে বাইরের গেট তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।একই সময়ে নিহতের ছেলেও তার বাবার খোঁজ নিতে সেখানে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিয়ে উভয়ই আলোচনা করে তোয়াবুর রহমান দেয়াল টপকে বাউন্ডারির ভিতরে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী জুয়েলকে শনাক্ত করে।
জুয়েলকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও শহরের সেনুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামী জুয়েল (১৯) এর অবস্থান শনাক্ত করে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়ালপাড়া এলাকায় তার নানার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামী জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদে সে উক্ত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ কর্তৃক নিহত আব্দুর রহমানের ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী জুয়েল (১৯) পূর্বে একই প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিল।সে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের জানালার থাই গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামতের জন্য তার বেতনের অর্থ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভিকটিম আব্দুর রহমানকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। আসামী জুয়েল জানালার থাই গ্লাস মেরামত করলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভিকটিম আব্দুর রহমান আরোও কিছু কাজ ঐ টাকা দিয়ে করতে চাইলে আসামী জুয়েল ও ভিকটিমের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।এবং আসামী জুয়েল ধারণা করেন যে, উক্ত কাজ ভিকটিম আব্দুর রহমান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করাচ্ছে।ফলশ্রুতিতে আসামী জুয়েল ভিকটিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দিন আসামী জুয়েল রানা নিটল-টাটা সার্ভিসিং সেন্টারের বাউন্ডারির দেওয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে ভিকটিমের অজান্তে লাঠি দিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জুয়েল জানায়।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাইসহ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।