সোহরাব আলী,তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:২৮ অপরাহ্ণ
পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে আমিনুল ইসলাম( ৪০) নামের এক যুবক। জানা গেছে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আটোয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা। এর আগে শিশু দুটিকে ধর্ষণের পর অভিভাবকরা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করলে
গত সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম কে গ্রেফতার করেছে আটোয়ারী থানা পুলিশ। এজাহারে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই শিশু অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দাদু বলে ডাকত। এই সুবাদে তারা মাঝেমধ্যে ওই যুবকের বাড়িতে খেলতে যেত। বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত যুবক কৌশলে বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুদের বিভিন্ন সময়ে নিজের বসতবাড়ির শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ঘটনার পর শিশুদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কান্না না করতে এবং পরিবারের সদস্যদের না জানাতে বলা হয়। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ও শনিবার (১১ জুলাই) ৬ বছর বয়সী শিশুকে এবং রোববার (১২ জুলাই) একইভাবে ৫ বছর বয়সী অন্য এক শিশুকেও ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী এক শিশুর আত্মীয় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, শিশু দুটিকে অস্বাভাবিক কান্নাকাটি করতে দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করেন। তখন ৬ বছর বয়সী শিশুটি ভয়ে কিছুই বলতে না পেরে শুধু কাঁদছিল। এরপর পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হয় এবং পরে তাদের চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাছুদ হাসান বলেন, ‘শিশুদের শারীরিক পরীক্ষার সময় তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশু দুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ।
এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা সময় সংবাদকে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একইসঙ্গে থানা হেফাযতে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এখন তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি।