admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬ ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নে একই নাম ও নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে পৃথক সাইনবোর্ড টানানোকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে প্রায় চার ঘণ্টা পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে একই নামের শ্রমিক ইউনিয়নের পৃথক সাইনবোর্ড টানানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন একাংশের শ্রমিক। তারা ভজনপুর বাজারে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের আশ্বাসের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভজনপুরে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে পঞ্চগড় জেলা ট্রাক, ট্যাংকলড়ী, কাভার্টভ্যান ও ট্রাক্টর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ২৬৪ এর ভজনপুর শাখা কার্যালয়, পঞ্চগড় জেলা ট্রাক (মিনি ট্রাক) ট্রাক্টর, ট্যাংকলড়ি ও কাভার্টভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন ২০০০ এর শাখা কার্যালয়, তেঁতুলিয়া উপজেলা পাথর বালি লোড-আনলোড লেবার শ্রমিক ইউনিয়ন ২৮৫০ ও তেঁতুলিয়া উপজেলা পাথর বালি লোড-আনলোড শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন ৩৪৪১।
কিন্তু সম্প্রতি তেঁতুলিয়া উপজেলা পাথর বালি লোড-আনলোড লেবার শ্রমিক ইউনিয়ন-২৮৫০ এর নাম ও নিবন্ধনের দাবি করে গোলাব্দিগছ এলাকায় নতুন একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিরোধ তৈরি হয়েছে। নতুন সাইনবোর্ড অপসারণের দাবি জানানো হলেও তা না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে আসেন।
অভিযোগ উঠেছে, আসিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নতুন করে একটি শাখা ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগে নতুন এই সাইন বোর্ড তুলেছেন। আর এ থেকে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সৈকত আলী বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে নিবন্ধন নিয়ে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের কাছে সকল ধরণের ডকুমেন্ট রয়েছে। এর মাঝে আসিরুল ইসলাম নতুন সাইন বোর্ড তুলে দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। তাই আমাদের শ্রমিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে সড়ক অবরোধ করে। প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তবে, আবারো কঠোর অবরোধ কর্মসূচি পালন করব আমরা।’
এদিকে একই নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে নতুন সাইন বোর্ড তোলা নিয়ে অভিযুক্ত আসিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনে পাওয়া যায় নি।
ঘটনায় তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। ইউনিয়ন-২৮৫০ নিয়ে এই অবস্থার তৈরি হয়েছে। রাতেই তাদের আমার় অফিসে সংগঠন বা ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।