মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মহিত তালুকদার ও সহ-সভাপতি আব্দুল মুত্তাকিন তালুকদার মুক্তার বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিদ্যাবীথি কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বুলবুল ফারুকের পরিবারের সদস্যরা।
ন্যায়বিচারের আশায় একাধিক বার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ও থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রয়াতের ওয়ারিশগণের পক্ষে রেনুকা ও জাহানারা গণমাধ্যম মহলে অভিযোগুলো তুলে ধরেন। তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে বুধবার দুপুরে বিদ্যাবীথি কিন্ডারগার্টেনে হিসাবরক্ষক পাল্টা বক্তব্য গণমাধ্যমে পেশ করে। যারফলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে ঘিরে এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও নানা প্রশ্ন। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রেনুকা বেগম ওয়ারিশগণ পক্ষে পাল্টা সংবাদের প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, ২০১৬ সালে সাজ্জাদ হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে বার্ষিক ৭৫ হাজার টাকা ভাড়ায় ২৪ বছরের জন্য জমি নিয়ে স্কুল ভবন ও প্রাচীর নির্মাণসহ প্রায় ৮০ লাখ টাকা (ফেরতযোগ্য) বিনিয়োগ করেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ফারুক। এরপর তিনি প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বিদ্যাবীথি মডেল স্কুল’ নামে একটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শিক্ষার মান ও সুশৃঙ্খল পরিচালনার কারণে অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই সময়ে স্কুলের পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণের জন্য বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি স্কুলের নামে এশিয়া ব্যাংকে দুটি হিসাব খোলা হয় এবং যেখানে প্রতিষ্ঠানের সব অর্থ সংরক্ষণ করা হতো। তবে পরিচালনা কমিটি থাকলেও স্কুলটি মূলত বুলবুল ফারুকের ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও একক মালিকানায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে নানা জটিলতা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। বুলবুল ফারুক নিঃসন্তান হওয়ায় ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তার স্ত্রী, মা ও ভাই-বোনরাই তার সম্পদ ও গচ্ছিত অর্থের বৈধ উত্তরাধিকারী। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর কয়েক মাস পর আব্দুল মহিত তালুকদার পরিচালনা কমিটি থেকে সরে দাঁড়ালে তার স্থলাভিষিক্ত হন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মোত্তাকিন তালুকদার মুক্তা।
এরপর তারা ব্যাংকে জমাকৃত স্কুলের অর্থ উত্তোলন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ও তারাই পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার স্কুলের হিসাবপত্র চাওয়া হলেও তারা আজ নয় কাল বলে সময়ক্ষেপণ করেন। শুধু তাই নয়, ওই সম্পদকে কেন্দ্র করে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। থানা পুলিশে সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আজও তারা মৃত ভাইয়ের সম্পদে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবী করেছেন।
অন্যদিকে, স্কুলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক রাবেয়া সুলতানা দীনা। তিনি বলেন, বিদ্যাবীথি মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম বুলবুল ফারুকের বোন রেনুকা বেগম স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মহিত তালুকদার এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মোত্তাকিন তালুকদার মুক্তার বিরুদ্ধে যে প্রতিষ্ঠান দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আদমদীঘি ইসলামী ব্যাংক শাখায় স্কুলের নামে খোলা হিসাবে বর্তমানে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩০৩ টাকা জমা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা দখলের ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। এদিকে দুই পক্ষের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মহিত তালুকদার মুঠোফোন গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বুলবুল আমার দলের সেক্রেটারি ছিলেন। সেই সময় আমাকে স্কুলের সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে তার মৃত্যুর পর আমি পদত্যাগ করে চলে আসি। ওই স্কুলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল মুত্তাকিন তালুকদার মুক্তা সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।ভুক্তভোগী রেনুকা বেগম জানান, একাধিকবার তাদের কাছে গেলেও কোনো সুষ্ঠু বিচার পায়নি। এছাড়া স্কুলের হিসাব জানতে চাইলে বারবার আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত বক্তব্য ও সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা এ বক্তব্য প্রদান করেন।