admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২০ ৩:২৭ অপরাহ্ণ
বিএনপি’র করোনাভাইরাস সচেতনতায় রাজধানীতে লিফলেট বিতরণ, করোনা ভাইরাস নিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করছে না, সরকারের দোষত্রুটি ধরিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রীদের এই সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁর মোড় পর্যন্ত ফুটপাতে পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের হাতে ‘করোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন’ শিরোনামে এক পৃষ্ঠার লিফলেট তুলে দেন। এই লিফলেটে ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ কথাটাও লেখা রয়েছে। লিফলেট বিতরণের সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, সেলিম রেজা হাবিবসহ নেতৃবৃন্দ ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, করোনা ভাইরাস একটা মহামারি। এরসঙ্গে তো রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, সেই রাজনীতি নেই বলেই আমরা সরকারের দোষক্রটিগুলো ধরিয়ে দিতে পারবো না- তারা বলবেন যে, রাজনীতি করবেন না। আমরা এখানে কোনো রাজনীতি করছি না। আমরা পুরোপুরিভাবে আমাদের যে একটা দায়িত্ব দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে, সেই দায়িত্ব আমরা পালন করছি। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে আজকে আমরা ঢাকাসহ সারাদেশে করোনা ভাইরাস নিয়ে জনসচেতনতার জন্য লিফলেট বিতরণ শুরু করেছি। এই লিফলেট বিতরণের একটি মাত্র উদ্দেশ্য যে, এই ধরনের মহামারি থেকে রক্ষায় জাতিকে সচেতন করা এবং আক্রান্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো। দলের সব কর্মসূচি স্থগিত রাখার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো অলরেডি একটা বড় কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আমাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের যে সমস্ত কর্মসূচি ছিলো তার বেশির ভাগই স্থগিত করেছি। আজ থেকে সারাদেশেই এই লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। আমাদের সব শাখাগুলোকে বলে দিয়েছি তারা সজাগ থাকবে, সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং আক্রান্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। জনগণের কাছে আমরা আহবান জানাব, তারা যেন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হন এবং সচেতনভাবে একে প্রতিরোধের জন্য সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যেকটা দেশেই এই করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার জন্য, এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে তারা ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এবং প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের যে, বাংলাদেশে সেই সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়নি। আমরা লক্ষ্য করলাম প্রথম দিকে এটাকে গুরুত্বই দেয়া হয়নি। সরকারের ভাষ্যতে তিনজন আক্রান্ত হওয়ার পরে কিছু কিছু ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। আমরা এখন যেটা লক্ষ্য করছি যে, আমাদের পোর্টগুলোতে এই ধরনের স্ক্যানিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই, আমাদের এয়ারপোর্টে যে স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা আছে এটা এতোই অপর্যাপ্ত যে, এটা চীনা রাষ্ট্রদূতকে পর্যন্ত বলতে হয়েছে যে, এখানে পর্যাপ্ত স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা নেই। আজকের খবরের কাগজে দেখলাম যে, ঢাকা এয়ারপোর্টে একটি স্ক্যানিং মেশিন বাড়ানো হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মোট তিনটা বাড়ানো হয়েছে। এটা একেবারেই অপ্রতুল। অন্যদিকে যে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে সেগুলোতে সব রকম সুযোগ-সুবিধা এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আমরা এটা (করোনা ভাইরাস) নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। আমরা বলতে চাই যে তারা (সরকার) অনেক দেরি করে এই কাজগুলো শুরু করেছেন। এর কারণটা হচ্ছে যে, রাজনৈতিক কারণে বিশেষ বর্ষ পালনের কারণে তারা এই দিকে কোনো নজর দিতে পারেননি। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের উন্নয়নের যে ডামাডোল বাজানো হচ্ছে সবসময়ই, দুর্ভাগ্য যে আমাদের স্বাস্থ্য সেবা, আমাদের হেলথ সেক্টর এতোই দুর্বল, এতো অপ্রতুল এবং এতো অব্যবস্থাপনা তার মধ্যে যে সাধারণ মানুষ কখনোই সেখানে সেবা পাচ্ছে না।
আজকে দেখুন, ব্যাঙের ছাতার মতো সমস্ত মেডিকেল কলেজ তৈরি হচ্ছে, টাকা দিয়ে শুধুমাত্র সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের ঢুকানো হয় এবং একটা সার্টিফিকেট দেয়া হয়। সত্যিকার অর্থে তারা চিকিৎসক হয়ে বেরুতে পারছে বলে কেউ মনে করছেন না। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোতে যে অব্যবস্থাপনা এটা কখনোই একটি সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের জন্যে এটা কাম্য নয়, হতে পারে না। যেহেতু তারা জোর করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা দখলদার সরকার, জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই, জবাবদিহিতা নেই বলে স্বাস্থ্য সেবার কি হলো, শিক্ষা ব্যবস্থায় কি হলো এখন পর্যন্ত সেটা তারা সেইভাবে জনগণের কাছে জানাতে পারছে না।