আমির হোসেন সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের আহমদবাদ পয়েন্ট (ইচ্চারচর) এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৫টায় থেকে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে আহতরা হলেন মাছুম চৌধুরী (৩১), পিতা আতিকুর রহমান চৌধুরী এবং নাফি চৌধুরী (২১), পিতা মুহিবুর রহমান চৌধুরী। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদোষী ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায় দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী সাবেক অতিরিক্ত (ওএসডি) কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে তার স্বজনরা অতর্কিত হামলা চালায় একই এলাকার মাছুম ও নাফির উপর। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র লাঠি,লোহার রোড, দাড়ালো রামদা, চুলফি ঝাঁটা হাতে নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা করে। এসময় হামলায় গুরুতর আহত হন মাছুম ও নাকি।
জানা যায় সাবেক অতিরিক্ত (ওএসডি) কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে আবুসুফিয়ান, লুবন,সাবাজ মিয়া, জানিস, জেমিম, মাহিম, এহসান, সাহিনসহ একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গোরারং ইউনিয়নের আহমদাবাদ( ইচ্ছারচর) পয়েন্টে এ হামলার ঘটনাটি ঘটে। বিগত কয়েকদিন আগে আহমদাবাদ পয়েন্টে অবৈধ ভাবে তেল মজুদ রাখায় প্রশাসন একজনকে ১০ হাজার টাকা জড়িমানা ও ৬মাসের কারাদন্ড এবং ২২শত লিটার তেল জব্দ করেন। এতে সচিব জিল্লুর রহমান কিপ্ত হন এবং এলাকার সাধারণ মানুষদের সন্দেয় শুরু করেন।
কেন তেল জব্দ করা হয়েছে এরই আক্রুশে এবং এলাকায় আদিপত্ব বিস্তার করতে জিল্লুর রহমান এই হসমলার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান আহতদের স্বজনরা। এঘটনা এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে । খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ পিপিএম”র নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকের সাথে আলাপ করে জানা যায় তারা বলেন, বিকেলের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে হঠাৎ করে জিল্লুর রহমানের লোকেরা এসে লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন-যাতে এলাকায় আর কোনো সহিংস ঘটনার পুণরাবৃত্তি না ঘটে। এব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন সেখ (পিপিএম) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মারামারির সংবাদ জেনেই তাৎক্ষণিকভাবে এসআই রবিউলসহ সঙ্গীত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।