লেখক,মাহবুবা আখতার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
শুভঙ্কর বন্ধু আমার,শুভঙ্কর,শুধু তোমার জন্য আমি আছি নিষিদ্ধ পাহাড় আগলিয়ে,জঙ্গলের অরণ্য পাশকাটিয়ে চোরাপথে তোমার কাছে পৌঁছে যাবো বলে।
নিশানা রেখেছি যতটুকু দৃষ্টি যায় আমার গন্তব্যের,
পূর্ণিমার ভরা বসন্তে অমাবস্যার জলে দারুণ দাবদাহ,
পুড়ে গিয়েছে যৈবতী টাঙ্গনের ভরা যৌবন।
“শুভঙ্কর”—
টানে না আর যৈবতীর শারীরবৃত্তের রসায়ন, শীর্ণকায়
পাণ্ডুরতার বেনোজলে মহাপ্রলয়।
কতোটুকু উচ্ছ্বাস গভীরতা পায় জানিনা – শুভঙ্কর।
ঘুটঘুটে অন্ধকারে শ্বাস নিই তোমার অস্তিত্ব ছুঁয়ে,আরো
কিছু সময় বেঁচে থাকার ভয়ংকর আকুলতায়।
মৃত্যুর পরে মৃত্যুর অন্তিম শয়ান- দেহ ছেড়ে আত্মা পরমাত্মার
বিভৎসতার রুগ্ন বিলাপ।
হায় জীবন!
শুভঙ্কর বন্ধু আমার,
শুধু তোমার জন্য চোখের জল ছাপিয়ে স্বপ্ন বুনি অদৃশ্য দ্বৈরথে!
হাতের মুঠোয় জীবন পুরে প্রার্থনায় থাকি প্রত্যাখ্যানের উপেক্ষার অবহেলায়,
অনাদরে আরো কিছু সময় বেঁচে থাকি,বেঁচে থাকি অপেক্ষায়
হয়তো ফিরবে তুমি —
হয়তো ফিরবে!
সুখ-স্বপ্ন ভাঙচুরের খামারি তুমি তাবৎ ইচ্ছেদের মাড়িয়ে
মুখ ফিরিয়ে রাখো,
আমার সমূহ আয়োজন ধীরে ধীরে অস্তিত্ব বিহীন ফসিল
বৃক্ষ হয়!
কোনো লালন নেই
কোনো শুশ্রূষা নেই,
কোনো আকাঙ্ক্ষার সুগন্ধি প্রেম নেই!
শুভঙ্কর বন্ধু আমার
দারুচিনি দ্বীপে প্রবালের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে নীলপদ্মের পোড়া গন্ধ, অশরীরী বাৎসায়ন ফিসফিস শীৎকারে আকাশ ভেঙে ঝড় নামায়।
ছেঁড়া স্মৃতির মায়াজালে পুঁতে রাখি দুর্বিষহ ‘জাদুর পেরেক’
নতজানু প্রার্থনায় থাকি
সেহেতু তুমিই একান্ত আরাধ্য আমার,
তোমাকেই চাই আমি জন্ম-জন্মান্তর শুধু তোমাকেই!
যদিও এখন আমার নিদারুণ বিষাদগ্রস্থতা বিপণ্নকাল।
আমাদের কোন ঋণ কোনো দায় আর থাকেনা শুভঙ্কর–
থাকেনা কোনো ঋণ –কোনো দায়!