admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৩:০৪ অপরাহ্ণ
সনত চক্রবর্তী,ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম আকারের ইলিশকে ‘জাটকা’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আকারের ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে জেল-জরিমানার তোয়াক্কা করছেন না ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার জেলারা। প্রশাসনের অবহেলায় সদরপুরে এমন মাছের বাজার খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যেখানে জাটকে বিক্রি হয় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি মাছবাজারেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে চার ইঞ্চি আকারের জাটকা ইলিশ। প্রায় এক মাস ধরে উপজেলার সদর বাজারে নিলামের মাধ্যমে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাটকা বিক্রি বন্ধে বাজারগুলোতে মৎস্য অফিস ও প্রশাসনের তদারকি নেই। তাই জেলেরা শিকার করে প্রকাশেই এসব জাটকা হাটবাজারে এনে বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত জাটকা বিক্রি হচ্ছে দাশের জঙ্গল মাছবাজারে। নদী থেকে মাছ এনে ডালায় ঢেলে ডাক তোলেন আড়তদাররা। ডাকের মাধ্যমে মাছ কিনে বাজারে বসে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। বরফ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি হচ্ছে এসব ইলিশ।
এ ছাড়া উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী বাজারে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে জাটকা মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। তবে এ সময় জাটকা বিক্রি বন্ধে প্রশাসনকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় জেলে গণেশ দাস বলেন, জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা মাছ ধরেন। তারা সেই মাছ এই বাজারে বিক্রি করেন।
পিয়াজখালী বাজারের মাছ বিক্রেতা ধীরেন মালো বলেন, অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীরাও জাটকা বিক্রি করেছেন। প্রশাসন যদি জাটকা শিকার বন্ধ করে দিতে পারে, তাহলে বিক্রিও বন্ধ হবে। কাজী নজরুল নামে একজন জানান, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে জাটকা শিকার করে স্থানীয় আড়ত ও হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিবছর প্রশাসন কিছু কিছু অভিযান চালালেও এবার এখনো কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। দ্রুত জাটকা নিধন বন্ধের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এসি ল্যান্ড স্যার ছুটিতে থাকার কারণে ইউএনও স্যারের পক্ষে একা সব বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি খোঁজ নিয়েছি, নিয়মিত নদীতে জাটকা নিধন ও বাজারে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে। দ্রুতই আমরা হাটবাজারে অভিযান পরিচালনা করবো।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, ইতিমধ্যে জাটকা বিক্রি বন্ধে বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আবারও প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হচ্ছে বিষয়টি জেনেছি। খুব দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করব। উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে এবং তা বহাল থাকবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। এই আট মাস জাটকা আহরণ, ক্রয়, বিক্রয়, মজুদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে বড় আকারের ইলিশ ধরতে কোনো বাধা নেই।