admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১০:৫২ অপরাহ্ণ
গোলাম রববানী হরিপুর ঠাকুরগাঁও: মানচিত্রের উত্তর জনপদ পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে জাতীয় সংসদ আসন ঠাকুরগাঁও -২, দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও মহকুমায় প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিচালনা হতো। এখানকার জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক সচেতনতা কিছুটা কম। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানি আমলে প্রাদেশিক সরকারে আমলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, বালিয়াডাঙ্গী বামুনিয়া গ্রামের মো,দবিরুল ইসলাম।১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এম,এল এ নির্বাচিত হন।
স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলায় রূপান্তর হয়। এই জেলায় জাতীয় সংসদের আসন হয় সংখ্যা তিনটা ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা মো,দবিরুল ইসলাম ও ১৯৮৮ জাতীয় পাটির নেতা মির্জা রুহুল আমিন এই এলাকার রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন ।
স্বাধীনতা পরবর্তী যে কয়েকটি নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারায় শুরু হয়, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও -২ সংসদীয় আসনে যারা প্রার্থী ছিলেন, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির প্রার্থী মো, দবিরুল ইসলাম প্রাপ্ত ভোট( ৪৬,৪৫২), বিএনপির প্রার্থী মো আলতাফুর রহমান প্রাপ্ত ভোট(১৭,৭০৭), জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা,আঃ হাকিম প্রাপ্ত ভোট (১৭,২৮৮),জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো,আঃ করিম প্রাপ্ত ভোট( ১৩,৭২০), জাকের পার্টি প্রার্থী আঃ জব্বার প্রাপ্ত ভোট( ৩২৩), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো,নুর কুতুব আলম: প্রাপ্ত ভোট( ৬৪০),ফ্রীডম পার্টির প্রার্থী মো,বদরুল আলম চৌধুরী প্রাপ্ত ভোট ( ২৭০)।ঐ নির্বাচনে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি প্রার্থী জয়ী হয়, ভোটের ব্যবধান ছিলো(২৮,৭৪৫)। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠাকুরগাঁও-২ আসনে যে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেন। আওয়ামীলীগের আলহাজ্ব মো,দবিরুল ইসলাম প্রাপ্ত ভোট( ৪৮৩৪৪), বিএনপির মো, জুলফিকার আলি মুর্তজা চৌধুরী প্রাপ্ত ভোট( ২১৩১৪) , জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মাওলানা আঃ হাকিম প্রাপ্ত ভোট( ১৪৯৩৩), জাতীয় পাটির মো, আসাদুজ্জামান প্রাপ্ত ভোট( ২৮,৭৫৭) কমনিস্ট পাটি মো,মহসিন আলী সরকার প্রাপ্ত ভোট( ৬৭৩), জাকের পার্টির মো,শামসুদ্দিন প্রাপ্ত ভোট( ৩৮৮), প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় জাতীয় পাটি ও আওয়ামীলীগের মধ্যে ভোটের ব্যবধানে( ১৯,৫৮৭) ছিলো।
আওয়ামীলীগের প্রার্থী,দবিরুল ইসলাম জয় লাভ করে।২০০১ সালে যে সব রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, আওয়ামীলীগের আলহাজ্ব মো,দবিরুল ইসলাম প্রাপ্ত ভোট( ৬২.৪৮৩) চার দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আঃ হাকিম প্রাপ্ত ভোট (৫৭,২৯৬) জাতীয় পাটির সুরেশ চন্দ্র প্রাপ্ত ভোট (১৬.৫৬৫) কমনিউস্ট পাটির মো,মহসিন আলী সরকারের প্রাপ্ত ভোট (৩৩৯) স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ মো,নুরুল ইসলাম প্রাপ্ত এর ভোট( ২৪.০৮১), স্বতন্ত্র প্রার্থী এনায়েত আলীর প্রাপ্ত ভোট( ৪৩৪), মুলত প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় বিএনপি জামাত জোট ও আওয়ামীলীগের প্রার্থীর মধ্যে। (৫২৫৩) ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়।
২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ঠাকুরগাঁও- ২ আসনে আওয়ামীলীগের আলহাজ্ব মো, দবিরুল ইসলাম এর প্রাপ্ত ভোট (১.০২৮৩৩) ,চারদলীয়জোট মাওলানা আঃ হাকিমের প্রাপ্ত ভোট (৯৮,৪৫৬) স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা, শিরিন আকতার এর প্রাপ্ত ভোট (১,০৫২)। চারদলীয়জোট ও আওয়ামীলীগের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়। আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম (৪.৩৭৭) ব্যবধানে জয়ী হয়।২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণমুলক হয়নি বিধায়,এককভাবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জয়ী হয়।
ইতঃমধ্যে চায়ের দোকানে মানুষের আলাপচারিতা উঠে আসে কে হবেন, ঠাকুরগাঁও -২ এর আগামীর সাংসদ। বিগত নির্বাচন গুলোর হিসাবনিকাশ আর নানান মুখরোচক গল্পে চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে ভোটের হিসাব।
আসন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ২০২৫/ ২০২৬ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও -২ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে চষে বেড়াছেন,ডাঃ আব্দুস সালাম ও জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের প্রার্থী মাওলানা আঃ হাকিম, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে গ্রামে পাড়া-মহলায় অলিগলিতে পদচারণা করছেন। অন্যান্য দলের তেমন কোন শক্তিশালী কোন প্রার্থী চোখে পরে না। এবার পতিত সরকারের কোন প্রার্থী না থাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ মেলানোর কঠিন। ১৯৯১ সালে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হয় বিএনপির প্রার্থীর
১৯৯৬ সালে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হয় জাতীয় পাটির। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হয় চার দলীয় জোটের প্রার্থীর কিন্তু তিনি অল্পের জন্য হেরে যায়। এইবার মাঠপর্যায়ে ভোটের হিসাব আলাদা। সময়ের পরিবর্তন ভোটের হাওয়া কোন দিকে মোড় নিবে ভাবনা বিষয়। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন কে হবে আগামীর ঠাকুরগাঁও-২ এর অভিভাবক।