admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৪ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা এমপি এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ও চুক্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের লাল পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাসপোর্ট অধিদপ্তর তাদের পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সাধারণত দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা লাল পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। যেটিকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট বলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, উচ্চতর আদালতের বিচারপতি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সচিব, সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এবং বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের কর্মকর্তারাও এই পাসপোর্ট পান। লাল পাসপোর্টধারীদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। তারা সংশ্লিষ্ট দেশে অবতরণের পর অন অ্যারাইভাল ভিসা পান। কূটনৈতিক পাসপোর্ট সব দেশেই লাল রঙের হয়ে থাকে।
এ মুহূর্তে দেশে কত সংখ্যক লাল পাসপোর্ট রয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি। লাল পাসপোর্ট ধারীরা ৪৫ দিন ভিসা ছাড়াই বসবাস করতে পারেন। এই পাসপোর্টের সুবাদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিসা ছাড়া ভারতে অবস্থান করছেন। এ সময়ের আগে যদি তার লাল পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে তাকে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। একই সঙ্গে ভারতকেও এ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বরাদ্দকৃত সব কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিকিউরিটি সার্ভিস ডিভিশনের সিনিয়র সচিব মো. মশিউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে আদেশ জারি করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সচিব বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই অভিবাসন ও পাসপোর্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং আশা করছি শিগগির আদেশ জারি করা হবে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই সপ্তাহ পর এমন সিদ্ধান্ত নিলো অন্তর্বর্তী সরকার।
সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট পান। সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমরা যেহেতু কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করছি, এতে সাবেক মন্ত্রী-এমপির পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্টও বাতিল হয়ে যাবে। যদি কেউ (কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী) নতুন পাসপোর্ট নিতে চান, তাহলে প্রথমে লাল পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং তারপর আইন অনুযায়ী একটি সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে,’ বলেন তিনি। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, লাল পাসপোর্ট বাতিল হয়ে গেলে সাবেক মন্ত্রী-এমপি যাদের নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের সাধারণ পাসপোর্ট পেতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালতের আদেশ পেলেই তারা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।