admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ জুন, ২০২৪ ৭:১৩ অপরাহ্ণ
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন,পঞ্চগড় প্রতিনিধি: বলা হয়ে থাকে বাবা-মায়ের পরে শিক্ষা গুরুর স্থান। জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর শিক্ষক। চাকরিজীবন শেষে সেই গুরুর অবসরে যাওয়ায় ব্যতিক্রমী এক আয়োজন হয়েছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায়।
গলায় পুষ্প মাল্য, সঙ্গে সম্মাননা স্মারকসহ নানা উপহার দিয়ে শিক্ষিকাকে বেলুনে সাজানো গাড়িতে তুলে পৌঁছে দেয়া হয় বাড়িতে। এ সময় সেই গাড়ি রশি দিয়ে টেনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে রাস্তায় তোলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ফুল ও বেলুনে সাজানো গাড়িতে করে শিক্ষিকা মোছা. মাছুম বেগমকে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ঝলই শালশিড়ি ইউনিয়নের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও ম্যানেজিং কমিটি সহকারী শিক্ষক মোছা. মাছুমা বেগমকে বিদায় জানাতে বিশেষ এ আয়োজন করে। প্রিয় শিক্ষাগুরুকে বিদ্যালয় থেকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আক্তার সময় সংবাদকে বলে, ‘ম্যাডাম আমাদের অনেক যত্নসহকারে পড়াতেন। পড়ার ফাঁকে ম্যাডামের সঙ্গে আমরা অনেক মজা করতাম, সময় কাটাতাম। আজ ম্যাডামের বিদায় হচ্ছে। খুব খারাপ লাগছে।’
একই কথা বলে একই শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার। সে সময় সংবাদকে বলে, ‘আমরা যখন স্কুলে আসি ম্যাডাম আমাদের ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করতেন। ক্লাসে সুন্দরভাবে পড়াগুলো বুঝিয়ে দিতেন। আজ ম্যাডাম স্কুল থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন, খুব কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে এই শিক্ষিকার বিদায়ের কথা শুনে বিদ্যালয়ে ছুটে আসা সাবেক শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম ও সাহেদা আক্তার মুক্ত কলমকে বলেন, ‘আমরা এই বিদ্যালয় থেকে পাশ করে মাধ্যমিক শেষ করে কলেজে পড়াশোনা করছি। আমরা যে সময় বিদ্যালয়ে পড়তাম সে সময় থেকে ম্যাডামকে দেখে আসছি। প্রতিদিন সকালে ম্যাডামকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসতে দেখতাম। তবে আজ থেকে আর ম্যাডামকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতে দেখা যাবে না। খবর পেলাম আজ বিদ্যালয় থেকে তিনি বিদায় নিচ্ছেন। তাই আমরা খবর পেয়ে ম্যাডামকে সম্মান জানাতে বান্ধবীরা মিলে বিদ্যালয়ে ছুটে আসি।
১৯৯০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলে শুরু থেকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন শিক্ষিকা মাছুমা বেগম। দীর্ঘ ৩৪ বছরের শিক্ষা জীবনে শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো স্নেহ মমতায় বড় করে তুলেছেন। বিদায় বেলায় তার স্বীকৃতিও পেলেন। সবার ভালোবাসা পেয়ে ফিরলেন অবসর জীবনে। একজন সৃজনশীল শিক্ষিকার এমন সংবর্ধনায় অন্য শিক্ষকরাও অনুপ্রাণিত হবে এমন প্রত্যাশা সবার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিন আক্তার সময় সংবাদকে বলেন, ‘দিনটিকে স্মরণ করে রাখতে আমরা ম্যানেজিং কমিটিসহ এই আয়োজন করেছি। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গেছেন। যেহেতু চাকরির বয়স শেষ তাই তাকে বিদায় দিতে আমরা বাধ্য হয়েছি। একটা সময় আমাদেরও বিদায় নিতে হবে। আমরা দোয়া করি তিনি যেখানে থাকন, সব সময় ভালো থাকুন।
চাকরি জীবনের শেষ দিনে সবার এমন ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত বিদায়ী শিক্ষিকা মোছা. মাছুমা বেগম। তিনি সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে আসছি। কিন্তু চাকরির বয়সসীমা অনুযায়ী আজ বিদায় নিতে হচ্ছে। খুব খারাপ লাগছে, এতদিনের একটি পরিবার থেকে আমাকে বিদায় নিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সবাই যেন ভালো থাকে সব সময় এই দোয়া করি।