admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ মে, ২০২৪ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষে ট্রেনের দুই পরিচালক’ সহ (গার্ড) মোট পাঁচজন আহত হয়েছে । বৃহস্পতিবার বিকেলে সোয়া পাঁচটার দিকে পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে। সেনাবাহনীর সদস্যরা ট্রেনের পরিচালকের কামড়া ও পাশের ইঞ্জিন রুমে ভাংচুর করেছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছে । সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে । এ ঘটনায় স্থানীয় রেলওয়ে কর্মচারীরা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে কাঠ ফেলে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে । সমগ্র ষ্টেশন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত ট্রেন পরিচালক ও পরিচার্যকের বরাত দিয়ে সান্তাহার ষ্টেশনের ষ্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে প্রবেশ করে । ট্রেন থামার পর যাত্রীরা ছোটাছুটি করতে থাকে এ সময় ট্রেনের ভেতর থেকে আব্দুল মালেক নামের এক পরিচার্যককে রক্তাত্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ । সে সময় ট্রেনের ভিতর ব্যাপক হৈ চৈ ও চিৎকার শোনা যায় । আহত পরিচার্যক আব্দুল মালেক জানান, সেনাবাহিনীর বিপূল সংখ্যক সদস্য ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন । এ সকল সদস্যদের অনেকের কাছে টিকিট ছিল না । ট্রেনের পরিচালক(গার্ড) আব্দুস সাত্তার সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিকট টিকিট চাইলে তাঁরা পরিচালকের সাথে তর্কে বিতর্কে জড়িয়ে যান । এক পর্যায়ে সেনাবাহনীর কয়েকজন সদস্য পরিচালক আব্দুল রাকিব ও আব্দুস সাত্তারকেও ব্যাপক মারপিট করে আহত করে । এ সময় তারা ট্রেন পরিচালকের কামড়া ও পাশের ইঞ্জিন রুমে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ।
ট্রেন পরিচালকের কামড়ার মেঝেতে অনেক রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং সেখানে মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল । সেনাবাহিনীর সদস্যদের হামলায় দুই ট্রেন পরিচালক ও পরিচার্যকরা ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যায়। এ সময় ছবি তুলতে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রেল পুলিশ ও সাংবাদিকদের বাধা প্রদান করে। সেনাবাহিনীর এ সকল সদস্যদের কারো গায়ে কোন পোশাক ছিল না। তাঁরা কোন ক্যান্টনমেন্টের সদস্য তা তাৎক্ষনিক জানা যায়নি।
পরে পুলিশ দুই ট্রেন পরিচালককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন । সেখানে তাঁরা কান্না করতে থাকেন । এই প্রতিবেদন পাঠানোর সময় পর্যন্ত পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে আটকা ছিল । সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি মোক্তার হোসেন জানান, বিষয়টি রেলওয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে ।