admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০২৩ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ আবু মহী উদ্দীনঃ এ বছরের পর্যটন দিবসে ঢাকায় ছিলাম সে কারণে রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন ব্যানার পোষ্টার দেখেছি। তবে রাজধানীতে সাজগোজ করে অর্থ ব্যয় জায়েজ করা এবং উর্ধতনদের নজরে আসার প্রয়াস ছাড়া আর কিছু ভাবার খুব বেশী কারণ নাই। গত বছর পর্যটন দিবসেও ঢাকায় ছিলাম। আমার উনিকে অনেক বলে ক‘য়ে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আমার এক বন্ধু, বড়োভাই , রেজাউল করিম জোয়ারদারের বাসায় গিয়েছিলাম। জোয়ারদার ভাই আপ্যায়নে ত্রুটি রাখেননি। তিনি আমাকে কোথায় জানি নিয়ে যেতে চাইলেন।
তার শরীরটা ভালোন, তিনি না বুঝলেও আমি বুঝেছি। সুতরাং অনেক বলে ক‘য়ে বেড়িয়ে আসলাম। জোয়ারদার ভাই সম্পর্কে দু চার কথায় কিছু বলা সম্ভব হবেনা। খুবই সাহসী, বীরমুক্তিযোদ্ধা , অসম্ভব পরোপকারী এবং স্বেচ্ছাসেবী। স্কাউটিংয়ে নিখাদ ভালোবাসা আছে তার। এজন্য তাকে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। নিজের খেয়ে , খরচে অনেককে স্কাউটের দল গঠন করে দিয়েছেন , উপকরণ বানিয়ে দিয়েছেন। ঢাকা আঞ্চলিক স্কাউটস এর একাধিকবার সম্পাদক ছিলেন। স্কাউটিংকে খুব বেশী ভালো বেসেছিলেন , এখনো আছে তবে সে জন্য অবশ্য শাস্তিও ভোগ করেছেন। শাস্তি অবশ্য স্কাউটিংয়ের তরফ থেকেই পেয়েছেন। তবে উপকার করেছেন বেহিসেবী। কারণ হিসাবে বলা যায়, তিনি একটু বেশী স্পষ্টভাষী।
যা হোক তাকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। তার বাসায় গেছি। খুকুভাবী খুব ভালো একজন মহিলা ছিলেন , যিনি গত হয়েছেন। অসম্ভব ভালো জুটি। উভয়েই স্বেচ্ছাসেবক। জোয়ারদার ভায়ের মতোই তিনিও কাবিংয়ের জন্য মেধা ও শ্রম দিয়েছেন।
সেতারা বেগম সাংগঠনিক মহিলা। শিশু বয়সে পিতৃহারা হবার পর মায়ের শাসনে স্কুল কলেজ শেষ করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। বিছুদিনপর ফিরে এসে ব্যাংকের চাকুরীতে যোগদান করেন। তিনি নজরুল গীতির ভালো শিল্পী ছিলেন। খুবই অল্পে তুষ্ট তিনি। বেড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও আবহাওয়াজনিত সমস্যায় তিনি বাইরে যেতে চাননা। দিল্লী জাম্বুরীতে নিয়ে গিয়েছিলাম তার ২ মেয়ে সহ। কোলকাতা , আগ্রা , জয়পুর , মথুরা বৃন্দাবন , আজমীর ঘুরতে পেরে অসম্ভব খুশী হয়েছিল।
২৭ সেপ্টেম্বর পর্যটন দিবস সম্পর্কে তাকে খুবই উঁচু ধারণা দিয়েছিলাম। আমি আগে সোনারগাঁ দেখেছি। ৮০ ও দশকে চিত্রনায়িকা শবনমের বাবা ননী বসাক, ফিফা রেফারী এবং ঢাকা আঞ্চলিক স্কাউটস এর সেক্রেটারী মুনীর হোসেন , রেজাউল করিম জোয়ারদারের সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ হাই স্কুলে একটা স্কাউট লিডার বেসিক কোর্সে প্রশিক্ষক হিসাবে গিয়ে সোনারগাঁও , নারায়নগঞ্জ সাইলো , সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন, দেখেছিলাম। হাইকিংয়ে মামদোভুত টার্মটার সাথে পরিচিত হয়েছিলাম।
আমার ধারণা তারপর ৩৫ বছর কেটে গেছে। দেশে পর্যটন কপোর্টরেশন স্মার্ট হয়েছে। তারা দেশে বিদেশে ট্রেনিং করেছে। সোনারগাঁও নিশ্চয় খুব ভালো পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে। সেই সোনারগাঁও বাংলার রাজধানী তাও আবার পর্যটন দিবস। বেশ আশা নিয়ে অনেকটা গর্বের সাথেই বলে ক‘য়ে পারসু করে তাকে নিয়ে গেলাম। বাস অটো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁও পৌছুলাম। টিকিট করতে গিয়ে বিপত্তি বাধলো। বিক্রেতা আধাভাঙ্গা একটা বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে খেতে গেছে। তবে কেউ চাইলে বাঁশ অতিক্রম করে ভিতরে যেতে পারবেনা তা নয়। টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকে ক্রমাগত অবাক হতে শুরু করলাম। সেই যে হতাশ হওয়া শুরু করেছিল শেষ পর্যন্ত হতাশা কাটলোনা। হতাশার ষোল কলা পুর্ন করেই বেড়িয়ে আসলাম।
পাশে কোথাও একটা স্কুল আছে বলে মনে হলো। কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা প্রেম কুঞ্জ বানিয়েছে। তাদের ছবি তোলার পোজ দেখতে আশে পাশে কোন ভদ্রলোকের অবস্থান মোটেও সম্ভব নয়। বিল্ডিংগুলিতে কেবল মাত্র ক্রমিক নং লাগানো হয়েছে। আর নিরাপত্তাজনীত কারণে বিল্ডিংয়ে ঢোকা নিষেধ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এবারে আসলাম মিউজিয়াম দেখতে। মিউজিয়ামটি নুতন সংযোজন। মিউজিয়ামটা বেশ চমৎকার , কালেকশনও প্রচুর।
এর পর ফেরার পথে চমৎকার সরদার বাড়ী। ১০০ টাকা করে টিকিট করে ঢুকলাম। খুবই অবাক হবার পালা। বাড়ীতে দরজা আর ঘর অসংখ্য। তবে ঘরগুলো খুব ছোট ছোট। তবে একটি ঘরে এই বাড়ীটার একটা ছোট মডেল আছে, ঐ পর্যন্তই। তবে কপাল ভালো , একটা শাড়ীর কোম্পানীর শাড়ী বিক্রির মডেল এর সুটিং হচ্ছিল ওটাই দেখলাম। তবে এই প্রতারণটা না করলেই পারতো। মোটামুটিভাবে অপমান হয়েই ফিরে আসলাম। সেতারা বলছিল আজ পর্যটন দিবস , সোনারগাঁও প্রাচীন বাংালার রাজধানী , আজতো হাজার হাজার মানুষের এখানে আসার কথা , এটাতো ভিন্ন সাজে সাজবার কথা , এই জায়গাটাতেই যখন পর্যটন বিভাগ কাজ করেনি , মানে সারা দেশেই কিছু করেনি। পর্যটন কর্পোরেশন তার আবার মন্ত্রণালয় , মন্ত্রী , সচিব , কত কিছু আছে।
তারাতো প্রতিবছর বিদেশের পর্যটন কেন্দ্র ঘোরেন কিন্তু নিজের দেশের জন্য কিছু করেনা। এদেরকে রাখার কি দরকার। তাদের পোষারতো কোন প্রয়োজন নাই। স্থানীয় জেলা প্রশাসক জেলা পরিষদ বা এমপি সাহেবদের নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারতো, নিজ নিজ এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করার জন্য। পর্যটন মানে বাইরে থেকে লোক জন আনতে হবে , তারা আসবে আর এখানে টাকা খরচ করবে। ওদের খরচ, স্থানীয়দের আয়। সুতরাং যত বেশী মানুষকে আনা যাবে তত আয় বাড়বে। তারা যখন এটা করতে পারেনা তাহলে এই বোঝা বহণ কেন? অর্থাৎ পর্যটন কর্পোরেশন রাখার কোন দরকার নেই ওদের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের দ্বায়িত্বে লাগালেই তো হয়।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||