admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ ১:৪৫ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ অ্যাড আবু মহীউদ্দিনঃ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নুতন সংযোজন এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে। মাথার উপর দিয়ে গাড়ী যাচ্ছে। কোন ক্রসিং নাই , যানজট হবার কোন সুযোগ নাই। অভিজাত এই রাস্তায় চলাচল করতে টোল দিয়ে চলতে হবে। বিমান বন্দর থেকে ফার্ম গেট ১০ মিনিট সময় লাগে। গনপরিবহনে সাধারণভাবে দেড় / দু ঘন্টা লাগে। তবে গণপরিবহণ এখনই এটা ব্যবহার করতে রাজী নয়। কেননা গণপরিবহন তো সারা রাস্তা যাত্রী উঠানামা করবে।
এটাতো ১০/২০ টাকার পরিবহন। সস্তায় এখানে সেখানে যাওয়া যায়, এক্সপ্রেস ওয়ের গোটা ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি, আংশিক চালু হয়েছে। সুতরাং পুরো সমালোচনার সময় এখনো আসেনি।
তবে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন আমরা করতেই পারি- আমরা মফ:স্বল থেকে মাঝে মধ্যে রাজধানীতে আসি। রাজধানীতে এসে আর কিছু দেখি আর না দেখি কিন্তু রাস্তা খোঁড়াখুড়ি সব সময়ই দেখেছি। অবশ্য সব সময়ই আমাদের মেধাবী কর্মকর্তা রাজধানীর মানুষের চলা ফেরার সুবিধা করার কাজে নিয়োজিত। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে করা যাবেনা তাতো না। যেমন তারা কাঁচঘেরা ঠান্ডা ঘরে ডিজাইন করেন , প্ল্যান এস্টিমেট করেন , যানজট নিরসনের পরিকল্পনা করেন, অফিস থেকে বের হয়ে এসি সমৃদ্ধ কালো গøাসে বন্ধ গাড়ীতে রাস্তায় চলেন , বাসায় গিয়ে এসিতে ঘুমান। ফলে রাস্তার সাধারণ মানুষ কোন আবহাওয়ায় কতসব বিপত্তি মোকাবেলা করে চলাচল করেন সেটা অনুভব করার কোন সুযোগ তাদের হয়না।
ফলে অদ্ভুত একটা এস্টিমেট আর ডিজাইনে কাজ করে ২/৩ ভাগ কাজ শেষ হলে বোঝা যায় নকশাতেই ভুল ছিল। আবার সে নকশা সংশোধন , নুতন এস্টিমেট বাজেট বরাদ্দ , খরচ, সময় বাড়ে ,সাথে সবই বাড়ে। বাড়তী খরচের বোঝা বহণ করতে হয় আম পাবলিককে। এই যে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে তৈরি করা হলো এটার একটা বাংলা নাম করলে কি হতো? বিস্তর অর্থ ব্যয় করা হলো । বিরোধী রাজনীতিকরা তারস্বরে চিৎকার করছে , দূণীতি হয়েছে , বা হচ্ছে , কিন্তু তারা বলতে পারছেনা সুনির্দিষ্টভাবে কতটাকার দূর্ণীতি হয়েছে। তাদের রাজনীতির দলেও প্রচুর ইঞ্জিনিয়ার , ব্যারিষ্টার , ব্যবসায়ী , রয়েছে। জাতিকে একটু খোলাসা করে বলুন বা বলবেননা ,বা বলতে পারবেননা , আরো বলতে পারবেননা আমরা দেশ শাসনের দ্বায়িত্ব পেলে এই সব টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করবে। আপনারাও যে দেশ শাসন করেননি তাও নয় আবার আপনাদের আমরা একেবারেই চিনিনা তাতো নয়।
যাহোক যা বলছিলাম এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে।
এত বড় একটা প্রেষ্টিজিয়াস স্থাপনা হলো , যা নিয়ে গর্ব করাই উচিত। কিন্তু তা বলতে গেলে ফাঁকা পরে আছে। প্রতিদিন যতো পরিমান গাড়ী যেতে পারবে , তার চেয়ে গিয়েছে অনেক কম। কম গাড়ী গেছে মানে কম আয় হয়েছে। জানজট কমানো , যাত্রায় সময় কমানো , এই স্থাপনাটি ব্যবহারের কারণ । গোটা না হলেও আংশিক উদ্বোধন হয়েছে। যতটুকু উদ্বোধন হয়েছে ততটুকু ই সর্বোচ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটা বানানো হয়েছে অভিজাতদের জন্য। ওখানে গণপরিবহন , সিএনজি , মোটর সাইকেল উঠার অধিকার পাবেনা। কুলিনদের গাড়ীর সামনে এই সব কমদামী পরিবহণ যাবে তাতো হয়না । ঋনের টাকায় বানানো হয়েছে। এই ঋনের অর্থ সবাইকে পরিশোধ করতে হবে। তাহলে এই স্থাপনা ব্যবহার করতে পারবেনা কেন? গণপরিবহনে কম খরচের যাত্রা হলেও একমাত্র সময় বাঁচানোর জন্য বেশী অর্থ ব্যয় করে সিএনজি , বাইকে লোকজন যাতায়ত করে। কিন্ত তাদের প্রবেশাধিকার নেই। এক্ষেত্রে মৌলিক কিছু বিষয় উত্থাপন করা যেতেই পারে। তাহলো এই স্থাপনা বানানোই হয়েছে জানজট কমানোর জন্য , পরিবহণের যাত্রা সহজ করা, সময় বাঁচানো তাই যদি হয় তাহলে নীচের রাস্তার গাড়ী কমাতে হবে। এই সব গরীব পরিবহণকে যদি প্রবেশাধিকার নাই ই দেয়া সম্ভব হয় , তাহলে আভিজাত্যের প্রতীক ছোট গাড়ী (কার) গুলোকে বাধ্যতামুলকভাবে এক্সপ্রেস ওয়ে ব্যবহার করতে হবে। আর একটা কাজ করতে হবে , একটা গাড়ী একই রুটে যতবার উঠবে ততবার টোল দিবে।
কিন্তু সমস্যা হলো দুরত্ব যা ই হোক টোল সমান দিতে হবে এটা ঠিকনা। বর্তমান সময়ে এক্সপ্রেস ওয়ে ছুঁয়ে দিলেই সমান টোল দিতে হবে। যেমন এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট কারের টোল ৮০ টাকা , কাওলা থেকে উঠলেও ৮০ টাকা , কুড়িলে উঠলেও ৮০ টাকা। আমাদের যাদেরকে উবার নিতে হয় তাদের অবস্থাটা ভাবুন। কর্তৃপক্ষের অতি ‘মেধাবীরা’ নিশ্চয় ভেবেছেন , দুরত্ব অনুসারে ভাড়া নিলে সবাই কর্ম দুরত্বের ভাড়া দিবে। আশংকাটা অমুলক নয়। তবে উন্নত প্রযুক্তির এই সময়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করা কি অসম্ভব? মোটেও না।
রাস্তায় ছোট গাড়ীগুলোই বেশী চলে। এই গাড়ীগুলোকে এক্সপ্রেস ওয়েতে তুলে দিলে রাস্তা চলাচল খুবই সহজ হবে , আয়ও বাড়বে।পরীক্ষামুলকভাবে ৭ দিন করে দেখুন , ফলাফলে বলবেন ‘ ইহাতো আমারও মনে ছিল’ এই সাধারণ বিষয়টা আমরা উম্মীরা বুঝতে পারলেও মেধাবীরা কেন বুঝতে পারেলোনা সেটাই মিলিয়ন ডলারস কোশ্চেন।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||