admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা: আবু মহিউদ্দিন: আগে একটা গল্প শুনুন। মেয়ে পক্ষ পাত্র দেখতে গেছে। খাওয়া দাওয়া করার পর গাছের ছায়ায় বসে পাত্রী পক্ষ বিশ্রাম করছে। এর মধ্যে দু একজনের খুব আগ্রহ ছেলে কি করে তা জানার। দেখা গেল পাশে পাত্রের ছোটভাই ঘুরে বেড়াচ্ছে। উৎসাহী ২/১ জন তাকে ডেকে জানতে চাইলো , তার ভাই (পাত্র) কি করে ? ভাই জবাব দিলো, ভাইয়া বিএ ফেল করে। কতদিন থেকে ? ৫/৬ বছর। ভাইটির ধারনা ওর বড় ভাইএর কাজ ই হলো বিএ ফেল করা। পাত্রী পক্ষের যা বোঝার তা বুঝে ফেললো।
আজকের পত্রিকায় ৮/৯/২৩ সোমবার খবর বেড়িয়েছে, মাউশির আইসিটি প্রকল্পে গত ২০১৬ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কেবল দূর্ণীতি , অর্থের অপচয় , তছরুপ ই করেছে। গোটা অডিট রিপোর্ট পড়লে ধারণা করা যাবে তাদের দূর্ণীতি আর সরকারি অর্থের তছরুপ করা ছাড়া আর কোন কাজ ছিলনা। গল্পের সেই পাত্রের বিএ ফেল করার মতো শুধু দূর্ণীতিই করেছেন। ১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার অডিট আপত্তি তৈরি হয়েছে। ম্যানেজ করার পরও অডিট কমিটি বাধ্য হয়ে যে হিসাব দিয়েছে তাতেই এই অবস্থা, গবেষণার উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্পে কি কি খাতে এবং কতভাবে দূর্ণীতি, অনিয়ম, তছরুপ করা যায় তার প্রশিক্ষণ যদি কেউ নিতে চান বা গবেষণা করতে চান তাহলে এই রিপোর্টটা দেখে ট্রেনিং নিতে পারেন। কি হয়নি এখানে? এখানে একটি বিল্ডিংয়ের একটি করে ঘর একটি করে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসাবে কাজ করেছে। মানে আলাদা ট্রেনিং ভেন্যু দেখিয়ে ছাড়া আদায় করা হয়েছে। এই ভাড়া সরকারের ঘরে জমা দিতে হবে , জমা দেওয়া হয়নি। তারা খুব সম্মানী লোক , নিয়ম থাকুক আর না থাকুক সম্মানী নিয়েছেন, দিয়েছেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করেই সম্মানী ভাতা নিয়েছেন। কার সই কে করেছে এটাও আর এক গবেষণার বিষয়। মডেম ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে কি হবে সাড়ে তের হাজারেরও বেশি ইন্টারনেট মডেম বিতরণ করা হয়েছে। সেগুলো কোনদিন ব্যবহার হয়নি।
ট্রেনিং ভেন্যুতে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে কি হবে , ১৯ লাখ ৪১ হাজার টাকার ইন্টারনেট বিল শোধ করা হয়েছে। এতেও কুলায়নি ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকার অতিরিক্ত ইন্টারনেট বিল শোধ করা হয়েছে।এই সব অনিয়ম দূর্ণীতির বিষয়ে মাউশির পরিচালককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন বিষয়টি তার জানা নাই। অবশ্যই খোজ নেবেন। বিষয়টি পরিস্কার হলো তিনি এখনো খোঁজ নেননি?
প্রকল্প শুরুর পর সাড়ে ছয় বছরে অগ্রগতির হার ৮.৬৪ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
মৌলিক প্রশ্ন হলো তারা এই কাজগুলো গত ৮ বছর ধরে করে আসছে , এদের দেখার কেউ কি ছিলনা। তাহলে সবাই মিলে ঝিলে এই মহৎ(?) কাজটি করেছে। এখন তদন্ত হবে কয়েক বছর ধরে । প্রতিবেদন হবে , বিভাগীয় মামলা হবে , চলবে অনন্ত কাল ধরে। অবশেষে লঘু শাস্তি হবে। কিন্তু তাড়াতাড়ি করার জন্য যে কাজের প্রকল্প তৈরি করে পিডি , কর্মচারী নিয়োগ করা হলো, যন্ত্রপাতি , গাড়ীঘোড়া কেনা হলো , গাড়ীর পিছনেও খরচ হলো, অনেক কর্মকর্তাকে ট্রেনিং দেওয়া হলো , এসবের কি হবে?
যে কাজের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল , সেটা পিছিয়ে গেল তার কি হবে? এ সবের জন্য যে ক্ষতি হলো তা পুরণ হবে কেমন করে? আবার নুতন বা প্রকল্প সংশোধন করে কাজগুলো হয়তো করা যাবে কিন্তু ক্ষতিটা পোষাবে কে এবং কিভাবে? এই প্রকল্পে যারা চাকুরী করেছেন , তাদের পরিবারের সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ৩৫ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে নিয়ে, ক্ষতিপুরণ নিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ গুলো করা। তাহলে পরবর্তীতে আর কেউ এই জাতীয় কাজ করতে দু বার চিন্তা করবে?
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||