admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৩ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
মো:লিটন উজ্জামান,কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ৯ আগস্ট বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গত পরশু এক স্কুল ছাত্রী গলায় ওড়না পেঁছিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।এর কারণ হিসেবে জানা যায় কুমারখালী কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর মাহাতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী স্কুলের ছাদে বসে ধুমপান করছিলো।
বিষয়টা স্কুলের দুজন শিক্ষক টের পেয়ে ছাদে গিয়ে ভিডিও করে এবং তাদেরকে নিচে অফিস রুমে নিয়ে এসে মারধর করে এবং উক্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে ঐ স্কুল ছাত্রী জিনিয়া খাতুন (১৪) অপমানিত বোধ করে এবং লোক লজ্জার ভয়ে বাড়িতে এসে ঐ রাতেই আত্মহত্যা করে বলে খবরে প্রকাশ।
বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর বলে মনে হয়।যদি এমনটাই হয়ে থাকে তাহলে বলা যায়,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েদেয়া হবে বলে শিক্ষক যদি বলে থাকে তাহলে তা বলা সমীচিন ছিলোনা বলা যায়।আবার শিক্ষক যদি ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে থাকে যাতে করে সে ভবিষৎ এ এমন কাজ আর না করে শুধুমাত্র সেজন্যে তা হলে ধরে নেয়া যায়,তার শাসন করার দায়িত্ব আছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় দেখা যায়, শিক্ষকদের অপমান সহ্য করতে না পারা আত্মহত্যা করা সেই স্কুল ছাত্রীর মরদেহ নিয়ে নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তারা দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করে।
ঘটনাটা এখানেই শেষ নয়। আত্মহত্যা করা সেই স্কুল ছাত্রীর লাশ একনজর দেখার জন্য উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক পৌঁছলে আত্মহত্যার স্বীকার ঐ ছাত্রীর স্বজন ও এলাকাবাসি তাকে প্রচন্ড প্রহার করে রক্তাক্ত জখম করে এবং জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এসে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে হেফাজত করেন।আত্মহত্যাকারি স্কুল ছাত্রী সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যায়ন করতো বলে জানা যায়।কে কয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের জিল্লু শেখ’র কন্যা।
মানুষ অনেকটা আবেগ প্রবণ তা এ ঘটনা থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়। সেকারণে শাসন করার ক্ষেত্রে উচ্চারিত শব্দ গুলো উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে গুরুজনদের সাবধানী হওয়া দরকার। কারণ কম বয়সীরা আবেগ বা খেয়ালের বশে কথা বা শাসন হজম করতে না পেরে দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে পারে।আবার সন্তানদের পারিবারিক, সামাজিক শিক্ষা দিয়ে ভাল মন্দ বোঝাতে হবে।
প্রয়োজনে ইউনিয়ন,ওয়ার্ড,পাড়া,মহল্লায় সভা সেমিনার করে আমাদের সন্তানদের ভাল মন্দ শিক্ষার ব্যবহার শেখাতে হবে। একটি ঘটনা পরবরাতীতে যেন নতুন কোন ঘটনার জন্ম না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাৎতে হবে, যেখনটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে করা হয়েছে।
অতি উৎসাহী হয়ে কোন কিছুই করা ঠিক নয়। আর এজন্যে সমাজ পতিদেরও লক্ষ্য রাখা উচিত বলে মনে করি। একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সমাজপতিদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।