admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৩ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় ভয়াবহ যানজট,লোডশেডিং ও প্রচন্ড গরমে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এতে দু:সহ হয়ে উঠেছে জন-জীবন। অসহনীয় এই পরিস্থিতিতে মানুষ হাঁস-ফাঁস করছে। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই কারোর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা আরও করুন। এই পরিস্থিতিতে তারাই বেশি কষ্ট পাচ্ছে। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া অনেক শিশুকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়া শহরে দিন দিন তীব্র হচ্ছে যানজট। কোরবানির ঈদের আগে যানজট আরও বেড়েছে। এই ধারাবাহিতায় বৃহস্পতিবারও শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। দিনভর এই যানজট থাকে। যানজটে পড়ে নাকাল হন হাজারো মানুষ। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে চারগুণ বেশি যানবাহন চলছে এই শহরে। সেইসাথে প্রতিদিনই নতুন নতুন অটোরিক্সাসহ অন্যান্য গাড়ী নামছে শহরে। এতে যানজটে ন্যূয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাগুলো।
সেইসাথে শহরের বুক চিঁড়ে যাওয়া রেলপথ যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শহরের অভ্যন্তরে এক নম্বর, দুই নম্বর ও তিন নম্বর রেল ঘুমটিতে রয়েছে রেলওয়ের গেইট বেরিয়ার। গেইট বেরিয়ারগুলো অতিক্রম করে রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন ১৪টি ট্রেন চলাচল করে।
এ জন্য প্রতিটি ট্রেন চলাচলের সময় কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে গেইট বেরিয়ার বন্ধ করে রাখে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই হিসাবে দিন ও রাতের বিভিন্ন সময় ট্রেন চলাচলকালে এই তিনটি গেইট বেরিয়ারে ১৪০ মিনিট আটকা থাকে বিভিন্ন যানবাহন। এতে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট মানুষের কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। শুধু তাই নয়,ট্রেন চলাচলের সময় গেইট বেরিয়ারগুলো বন্ধ থাকায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, স্টেশন সড়ক, ফলপট্টি, থানা মোড়, চাঁদনি বাজার, চেলোপাড়া, বাদুড়তলা চকযাদু সড়ক, রাজা বাজার, ফতেহ আলী মোড়, ঝাউতলা, বড়গোলা, দত্তবাড়িসহ শহরের বিশাল এলাকা জুড়ে যানজট লেগেই থাকছে। এমনকি এই যানজটের ঢেউ আঁচড়ে পড়ছে জলেশ্বরীতলা, কালিবাড়ি মোড়, ইয়াকুবিয়া মোড়, সুত্রাপুর মফিজ পাগলার মোড়, শেরপুর সড়ক, গোহাইল সড়ক, স্টেশন সড়ক, সেউজগাড়ীসহ অন্যান্য স্থানেও।
এ ছাড়া বনানী, তিনমাথা, চারমাথা ও মাটিডালি এলাকাতেও যানজট হচ্ছে। এক কথায় রীতিমত যানজটে ন্যূয়ে পড়ছে পুরো শহর। প্রধানত শহরের অভ্যন্তরে রেলপথ থাকায় সবচেয়ে বেশি যানজট হচ্ছে। তাছাড়া ফুটপাত দখল,অবৈধ রিক্সা চলাচল,অবৈধ গাড়ি পার্কিং এর মত ঘটনাও যানজটের অন্যতম কারণ। স্টেশন সড়কে ফলের আড়তগুলো বেশি যানজট বাড়াচ্ছে। এসব আড়তকে ঘিরে স্টেশন সড়কে যানজট লেগে থাকছে। সেখানে রাস্তার একাংশ দখল করে ফলের পাইকারি কেনা-বেচা হয়। যে কারণে স্টেশন সড়কে যানজট বাড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরে ৪০ হাজারেরও বেশি রিকশা চলাচল করে এই শহরে। যার মধ্যে ৩৮ হাজারের মতো রিকশা ব্যাটারি চালিত। এই রিকশাগুলোর সরকারি অনুমোদন নেই। এগুলো অবৈধ। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো শোরুম বিক্রির জন্য থাকলেও এই রিকশাগুলো বৈধ। বৈধভাবেই রিকশাগুলো আমদানি করা হয়। অথচ ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো রাস্তায় নামলেই হচ্ছে অবৈধ। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। শহরে শতাধিক ব্যাটারি চালিত রিকশার শোরুম রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে থ্রি হুইলারসহ মোটা চাকার রিকশার শোরুমও। এ সব শোরুম থেকেই প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রিকশা কেনা-বেচা করা হয়। কেনার পর এই রিক্সাগুলো রাস্তায় নামান চালক-মালিকরা। ফলে শহরে রিকশার সংখ্যা বাড়ছেই।
যে কারণে বাড়ছে যানজটও। শুধু রিকশা ও থ্রি হুইলার বা ইজিবাইকই নয়, শহরে চলাচল করে ১৩ হাজারেরও বেশি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা। যার বেশিরভাগেরই রেজিস্ট্রেশন নম্বর নাই। এগুলোও অবৈধ। মূলত অবৈধ যানবাহনের চাপেই শহর যানজটের ভারে নূয়ে পড়েছে। যানজটের ঢেউ আছড়ে পড়ছে শহরের লিংক রোডগুলোতে। সেই সাথে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, কাঁঠালতলা, বাদুড়তলা চকযাদু সড়ক,ফতেহ আলী মোড়, টেম্পল সড়ক, সার্কিট হাউজ সড়ক, শেরপুর সড়ক ও গোহাইল সড়কের দুপাশে ফুটপাট ও রাস্তার একাংশ দখল করে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করে হকাররা। যে কারণে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করা পথচারীদের কঠিন হয়ে পড়ে। ফুটপাত দখল আর রাস্তার একাংশ দখল করে রাখায় এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ টিআই (প্রশাসন) মো: মাহবুবুল ইসলাম খান বলেন,বগুড়া শহরে যানবাহনের ধারণ ক্ষমতা ২০ হাজার। অথচ সেখানে এর চারগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করে। ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বগুড়া শহরে নতুন নতুন রিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহন নামছে। এতে যানজট বাড়ছে। এ ছাড়া শহরের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া রেলপথ যানজট বাড়াচ্ছে। শহরের অভ্যন্তরে তিনটি রেল ঘুমটি এলাকায় ট্রেন আসার ২০ মিনিট আগেই গেইট বেরিয়ার ফেলে রাখা হয়। যে কারণে শহরজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের যা জনবল আছে তা দিয়েই যানজট নিয়ন্ত্রনে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে,রোদের প্রচন্ড তাপে বিপর্যস্ত জনজীবন। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত কংক্রিটের এই শহর যেনো রূপ নেয় উত্তপ্ত মরুভূমিতে। দীর্ঘদিন ধরে বইছে তাপপ্রবাহ। এছাড়া গ্যাস, কয়লা সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এজন্য হচ্ছে ঘন ঘন লোডশেডিং। ঘরে বাইরে কোথাও রেহাই মিলছে না। আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর অবস্থা চরমে উঠেছে। বিদ্যুৎ ও তাপদাহের দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলছে না।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বগুড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বাতাসে আদ্রতা বেশি ছিল। যে কারণে মানুষ বেশি গরম অনুভব করেছেন এবং বেশি ঘামছেন ।