admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৩ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
আবু মহীউদ্দীন, নাগরিক ভাবনাঃ বঙ্গবন্ধুর খেদোক্তির অবসান ঘটিয়ে আমরা গৌরবোজ্জল ইতিহাস রচনা করতে চাই। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৫ টি দামী গাড়ীর অপব্যবহার হচ্ছে। পারিবারিক কাজে পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করছে। এসব গাড়ীর চালক সরকারি , গাড়ী সরকারি , তেল মবিল সরকারি, মেরামত মেইটেনেন্স সরকারি। এসব ব্যবহার করেন প্রতিমন্ত্রী , সংসদীয় কমিটির সভাপতি , সচিব , প্রধান প্রকৌশলীর পরিবার।
অনেকগুলো গাড়ী গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন, আরো ব্যবহার করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আকতার সাহসী সরল উচ্চারন করেছেন। ‘কিছু সনাতন নিয়মের বাইরে ব্যবহার হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ম বহির্ভূত এটা সত্য, আসলে চলে আসা বিষয়টি আমরা বন্ধ করিনি’ খবরের মধ্যে আরো কিছু বিষয় আছে তা খুবই বিবেচনাযোগ্য। তা হলো এই সব গাড়ী যারা ব্যবহার করেন সেই কর্মকর্তাদের প্রত্যেকেই ইতোপুর্বে প্রাধিকারপ্রাপ্ত হয়ে গাড়ী কেনার জন্য সুদমুক্ত সুবিধার ঋন নিয়েছেন। এবং এই গাড়ীর মেইটেনেন্স বাবদ মাসে মাসে সরকারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন।
সরকারি গাড়ী , পারিবারিক কাজে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত মন্ত্রী শরীফ আহম্মেদ কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনকে ফোন করে, এসএমএস পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছিউদ্দীনের দপ্তরে গিয়ে জানা গেছে তিনি বিদেশে আছেন। সুতরাং তার মতামত পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে নগর গণপূর্ত বিভাগের দ্বায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্নেন্দু শেখর মন্ডল কিছু বলেতে রাজী হননি। এ বিষয় জানতে ইডেন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারকে একাধিকবার টেলিফোন করা হলেও ধরেননি।
উপসচিব থেকে সচিব মর্যাদার কর্মকর্তারা বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই গাড়ী কিনতে ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋন এবং রক্ষণাবেক্ষণ , জালানী , চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। এ সুবিধা পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আর কোন সরকারি যানবাহন ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সুযোগ না থাকলে কি হবে , তারা সব সুবিধাই নিচ্ছেন। ছাপানো খবর পর্যালোচনা করলে বুঝতে কষ্ট হয়না যে, অনৈতিক সুবিধা নেওয়া কর্মকর্তারা প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের ভালো করার জন্য মেধাবী কর্মকর্তা হিসাবে প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষায় নির্বাচিত হয়ে প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে ঢুকেছেন।
প্রজাতন্ত্রের নাগরিক তাদের বৈধ অবৈধ সকল আয় ইনকামের জন্য ট্যাক্স দেয়। ভাবতে অবাক লাগে, দেশের মানুষ এই সব মেধাবী কর্মকর্তাদের দ্বারা কিভাবে প্রতারিত হচ্ছে। আমাদের বুঝতে কষ্ট হচ্ছেনা এই যে অনিয়ম, তছরুপ, এসব জানা বোঝার কেউ নেই। জিজ্ঞাসা করার কেউ নাই, এসব দেখারও কেউ নাই। মাঝে মাঝে অন্যান্য বিভাগেরও এই জাতীয় খবর জানা যায়। কতটুকুই বা জানা যায়।
কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন , মর্যাদা সমুন্নত করা , পরিবহণ সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার সুদমুক্ত ঋন এবং মেইনটেনেন্স খরচ এর ব্যবস্থা করেছে। লোভী কর্মকর্তারা বিষয়টি কোথায় নিয়েছেন ভাবতেই অবাক লাগে। সুদমুক্ত ঋনে কেনা অধিকাংশ গাড়ী উবারে খাটে এখানেও ইনকাম। এরা নাকি প্রজাতন্ত্রের জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য অঙ্গিকারাবদ্ধ। এরা নাকি জনগণের সেবক। এ থেকে মুক্তির রাস্তাওতো খুজতে হবে। রাজধানীতে মর্যাদাপূর্ন উবার পরিবহন চালু আছে। সচিব থেকে সরকারি কর্মকর্তারা তাদের অফিসে যাতায়তের জন্য উবার ব্যবহার করবেন।
এতে সরকারের যে পরিমান খরচ বাঁচবে এই টাকা দিয়ে রাজধানীর সকল স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহনের জন্য গাড়ী কিনে দেওয়া যাবে , বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ী কিনে দেওয়া যাবে। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া যাবে। অফিসের গ্যারেজ দরকার নাই , তেল চুরির ঘটনা ঘটবেনা, পরিবহণ পুল পরিচালনা করতে হবেনা। গাড়ী কিনতে হবেনা। পুরাতন গাড়ী বিক্রি করতে ঘাপলা হবেনা ।
গণপুর্তের গাড়ীর বিষয়ে খবর ছাপানো হয়েছে আজকের পত্রিকার ৩০ এপ্রিল সংখ্যায়। তার মানে এই নয় যে , বাঁকী মন্ত্রনালয় বা সরকারি অফিস একেবারে তুলশীপাতা। সরকার প্রধাণের একটি ঘোষণা আছে, জিরো টলারেন্স এর। আবার সকল বিভাগীয় প্রধানের দপ্তরে সরকারি টাকায় ব্যানার টানানো আছে ‘ আমি ও আমার অফিস দূর্ণীতিমুক্ত’। অফিসগুলো কতটা দূর্ণীতিমুক্ত তা খোঁজ খবর নেওয়া সরকারের পক্ষে কি একেবারে অসম্ভব? দেশে বিভিন্ন জাতের প্রতিযোগিতা আছে,কোন অফিস কতটা দূর্ণীতিমুক্ত তার একটা স্থায়ী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। দুদকের উদ্যোগে , সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে একটা মুল্যায়ন , টিআইবি দিয়ে একটা মূল্যায়ন। দুদকের দৃশ্যমানতা প্রমান করতে এই কাজটা সুফল দিবে বলে কেমন জানি আমাদের ধারণা হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তারা চুরি করবে,আর সেই চুরি ধরার জন্য খবরের কাগজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন,দফায় দফায় বছরের পর বছর তদন্ত করা , তার প্রতিবেদন দাখিল,মামলা দায়ের,কয়েক বছর ধরে মামলা পরিচালনা, ততদিনে দেশের মানুষ সব ভুলে যায়। দরকার কি , তার চেয়ে এমন ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে কেউ দূর্নীতি করার সুযোগই না পায়। সরকারি অফিসের বরাদ্দ ছাপিয়ে দিন। খরচের পরে হিসাব দাখিল করলে আবার ছাপিয়ে দিন। দূর্ণীতি পালিয়ে যেতে রাস্তা খুঁজেই পাবেনা।
দেশে তো বিভিন্ন সপ্তাহ উদযাপন করা হয় , দূর্ণীতি অনুসন্ধান সপ্তাহ আয়োজন করা যায় কিনা? সে সপ্তাহে একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়া যায়কিনা, যে সপ্তাহে সারা দেশের বিশেষ ব্যবস্থায় দূর্ণীতি সম্পর্কে খোজ খরবর নেওয়া যায়। দেশের মানুষ কতটুকু জানে এসব বিষয়ে। বিরোধী রাজনীতিকদের প্রচারণায় দেশের মানুষের ভুল ধারণাও তো তৈরি হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীতো চান দূর্ণীতিমুক্ত দেশ, জাতির জনকের খেদোক্তির অবসান ‘ সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি’ আর আমাদের সম্মানজনক প্রত্যাশা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইলে কি হবে , কারা এটা করতে দেয়না , কেন করতে দেয়না সেটা দেশের মানুষ জানে। কিন্তু এই পরামর্শ শুনবে কে? বিরোধী দলতো এ বিষয়ে আন্দোলন করতে পারে। তাদেরওতো দায় আছে। তবেতো দেশের মানুষের উপকারের জন্য কাজ হবে। নিজেরা সরকার গঠন করলেতো তারাও এই সমস্যা মোকাবেলা করবে, আর দূর্ণীতি থেমে গেলে তারাও এই সুবিধা ভোগ করবেন।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||