admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৩ ২:০৫ অপরাহ্ণ
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু,ডোমার নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১ নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের চিলাহাটি সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি দলিল লেখক আতিকুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আরাফাত সিয়ামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে শোকের মাতম বইছে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মীর মোশারফ হোসেন হলে তার নিজ রুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে আরাফাত সিয়াম।
বুধবার ৫ এপ্রিল সকালে লাশবাহী এম্বুলেন্সে করে সিয়ামের লাশ তার গ্রামের বাড়ি চিলাহাটিতে আনা হয়। লাশবাহী গাড়ি থেকে কান্নায় ভেঙ্গে পরে বাবা আতিকুর রহমান সহ এলাকার অনেকেই। এরপর বাদ জোহর পারিবারিকভাবে তার জানাযা সম্পন্ন করে দাফন করা হয়। জানা গেছে- সিয়াম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, আরাফাত সর্বশেষ গত ০২ এপ্রিল বাড়িতে যোগাযোগ করে পড়াশোনার খরচের জন্য কিছু টাকা নেন। তখন তার আচরন স্বাভাবিক ছিলো বলে জানা পরিবারের লোকজন জানায়। তারা আরও জানান সদগুরু নামে ভারতীয় লেখকের সেই আধ্যাত্মিক বই পড়ার কারনেই আত্মহত্যা করেছেন বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।
আরাফাত আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে মৃত্যু সম্পর্কিত একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, যা আত্মহত্যা ইঙ্গিত করে। তিনি মেডিটেশন করতেন বলেও তার পোস্ট থেকে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকাল থেকে আরাফাতের রুম ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। সন্ধ্যায়ও বন্ধ দেখে একজন শিক্ষার্থী এসে রুমে ধাক্কা দেন। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন আরাফাতের দেহ ঝুলছে। এর পর দরজা ভেঙে বের করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সে সময় আরাফাতের টেবিলে উপর ভারতীয় লেখক সদগুরু নামে এক আধ্যাত্মিক গুরুর বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। বইটির নাম ‘ডেথ; আ বুক ফর অল দোজ হু শ্যাল ডাই’। বইয়ের বিষয়বস্তু এবং ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভাষ্য মিলিয়ে সহপাঠীরা বলছেন, এই ব্যক্তির বই ও লেকচার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন আরাফাত। এদিকে, আরাফাত রহমান আত্মহত্যা করার আগে সোমবার দিবাগত রাত ৪টা ২৫ মিনিটে তার ফেসবুক ওয়ালে (Arafat Siam) একটি স্ট্যাটাস দেন। যার শিরোনাম ছিল, ‘অন দ্য ওয়ে টু ইটারনিটি।পোস্টটির সারমর্ম ছিল- আমি আমার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। এটি একটি স্বর্গীয় মুহূর্ত। বহুদিন ধরে আমি মেডিটেশন করি। আজকেও অন্যান্য দিনের ন্যায় মেডিটেশনে থাকার সময় কেঁপে উঠি। এ অবস্থায় আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পাই। আমাদের দেহ মূলত সীমাবদ্ধ কিন্তু আত্মা অসীম। আর আত্মাই হচ্ছে মূল শক্তি। মৃত্যুতে এর কিছু হয় না। জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে হলে আগে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়। মৃত্যুকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আমি এখন জীবনের স্বাদ আস্বাদন করার জন্য প্রস্তুত। আমি জানি পৃথিবীর সকলেই আমার বিরোধিতা করবে। এর সঙ্গে তিনি গসপেল অব জনের মৃত্যু সম্পর্কিত একটি অংশ জুড়ে দেন।