admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২৩ ১:২৮ অপরাহ্ণ
ইক্কা আরেমা, স্টাফ রিপোর্টার মালয়েশিয়াঃ পাম অয়েলের দাম চলতি বছর ২৩% কমতে পারে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। পাম অয়েল উৎপাদন ২০২২ সালের তুলনায় কিছুটা বেড়ে মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারে। এতে তিন বছরের মধ্যে প্রথম দেশটির পাম অয়েলের বছরওয়ারি দাম কমতে যাচ্ছে।শিল্পসংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের ওপর এ সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে বলা হয়, পাম অয়েলের বাজার আদর্শ দাম গত বছর টনপ্রতি ৪ হাজার ৯১০ রিঙ্গিতে উন্নীত হয়েছিল। তবে এ বছর তা কমে ৩ হাজার ৮০০ ডলারে নামতে পারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম কমবে ২৩ শতাংশ।মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের পরিচালক (মার্কেটিং) ফয়সাল ইকবাল বলেন, এ বছরও বাজারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও করোনা মহামারীর নেতিবাচক প্রভাব বজায় থাকবে। তবে আমাদের প্রত্যাশা, গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে অস্থিতিশীলতার তীব্রতা কিছুটা কমবে।
চীন ও ভারত বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল ক্রেতা দেশ। দেশ দুটির মধ্যে চীন ক্রমাগত কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করছে। সবশেষ দেশটি সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ভারত পাম অয়েল আমদানি বাড়াচ্ছে।
দেশ দুটিতে ব্যবহার বাড়ার কারণে বৈশ্বিক চাহিদায় বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণেই শীর্ষ উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া চলতি বছর পাম অয়েল উৎপাদন বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।চলতি বছর বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দাম নিম্নমুখী থাকবে। তবে এ সময় বাজারে মন্দা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। শীর্ষ দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল সরবরাহের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় পণ্যটির দাম ২৩ শতাংশ কমতে পারে। এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে।
বিদায়ী বছর ইন্দোনেশিয়া ৪ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার টন পাম অয়েল উৎপাদন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বছর উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ কোটি ৮০ লাখ টনে। সে হিসাবে উৎপাদন ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে।অন্যদিকে মালয়েশিয়ার উৎপাদন এক বছরের ব্যবধানে ৩ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৯০ টনে উন্নীত হতে পারে। গত বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টন। দেশটির সরকার শ্রমিক সংকট লাঘবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ায় এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে। তবে গত বছরের মতো এবার সার ব্যবহার কমে গেলে উৎপাদন প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়তে পারে।
ইন্দোনেশিয়া জৈব জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানিটি তৈরিতে আগের চেয়ে বেশি পাম অয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে দেশটি সম্প্রতি পণ্যটির রফতানি কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কারণে চলতি বছর পাম অয়েলের দাম কমলেও সেটির মাত্রা থাকবে সীমিত। অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এলএমসি ইন্টারন্যাশনালের অর্থনীতিবিদ ফাই লু বলেন, ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন সত্ত্বেও চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রফতানি খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে মালয়েশিয়া রফতানি অনেক বেশি বাড়ানোর সুযোগ পাবে। তবে আগামী ছয় মাসে পাম অয়েলের বৈশ্বিক সরবরাহ কমবে বলেও জানান তিনি।