admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কড়াকড়ির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে কাশ্মীরের শিশুরা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিখণ্ডিত হিমালয়ান রাজ্য কাশ্মীরের জন্য ২০১৯ সালটি নাটকীয় রাজনৈতিক অগ্ন্যুৎপাতের এক সময় হিসাবে এসেছে। সেই উত্তেজনা শিখরে ওঠে অগাস্ট মাসে, যখন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আইনে পরিবর্তন আনে ভারত সরকার, যার ফলে হতবাক হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। তবে কাশ্মীর এমন একটি অঞ্চল যা বরাবরই উত্তেজনার কারণ। ১৯৪৭ সালে ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন অবসানের পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে তিন দফা যুদ্ধ করেছে ভারত ও পাকিস্তান। আশির দশকের পর থেকে দফায় দফায় পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট ইসলামপন্থী আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে, যাতে নিহত হয়েছে অন্তত ৭০হাজার মানুষ।
কেন ২০১৯ সাল অঞ্চলটির জন্য এতো অস্থিরতার?
পাকিস্তান ভিত্তিক জইশ-ই-মুহাম্মদ জঙ্গি গ্রুপ সংশ্লিষ্ট একটি হামলার মধ্য দিয়ে বছরটি শুরু হয়েছিল। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামার ২২ বছর বয়সী এক তরুণ সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে বিস্ফোরক নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায়, যাতে নিহত হয়েছিল অন্তত ৪০জন সেনা সদস্য। এক বছর আগে থেকে নিখোঁজ ছিল ওই তরুণ। হামলার পরপরই তরুণের ভিডিও পোস্ট করে হামলার কৃতিত্ব দাবি করে জইশ-ই-মোহাম্মদ। এই হামলার পরে ১৯৭১ সালের পর আবার সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান ভূখণ্ডে অভিযান পরিচালনা করে ভারত। ২৬শে ফেব্রুয়ারি ভারতীয় জেট বিমান বালাকোট অঞ্চলে উড়ে গিয়ে, তাদের ভাষায়, জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলে।এই হামলায় ভারতের অন্ততপক্ষে দুইটি বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং একজন ভারতীয় পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। এটা পাকিস্তানকে বিশেষ সুবিধা এনে দেয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে বালাকোট সংঘর্ষের সময় ভারতীয় পাইলটকে আটক করতে পারা পাকিস্তানকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থান এনে দেয়।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কড়াকড়ির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে কাশ্মীরের শিশুরা
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিমান হামলার সময় একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় তা সত্ত্বেও, ‘শুভেচ্ছার নিদর্শন’ হিসাবে আটক পাইলটকে দ্রুত ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তান। এই পদক্ষেপকে বিদেশের কিছু মহল প্রশংসা করলেও, অনেকে একে দেখেছেন উত্তেজনা বৃদ্ধি হওয়া ঠেকাতে পাকিস্তানের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে, যে জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী প্রস্তুত নয়।
পাকিস্তান আরো একধাপ এগিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গি গ্রুপগুলোর দপ্তর বন্ধ করে দেয়। স্পষ্টতই ভারতের হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক মতামত সন্তুষ্ট করার জন্য এই পদক্ষেপ নেয় দেশটি। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী – ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী একজন নেতা – পুলওয়ামা এবং বালাকোট অভিযান, উভয় ঘটনাকে দেশে তার নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন আদায়ের জন্য ব্যবহার করেন এবং তিনমাস পরের সাধারণ নির্বাচনে বিশাল জয় লাভ করেন। তার এই বিজয়ের ডানায় ভর করেই গত অগাস্ট মাসে তিনি কাশ্মীরকে একীভূত করার পদক্ষেপ নেন, যা তাকে পার্লামেন্টে অপ্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষমতা এনে দেয়।