admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২২ ৬:১১ অপরাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু ,ব্যুরো প্রধান ঢাকাঃ পঁচিশ বছর আগে ১৯৯৭ সালে টাঙ্গাইলের করোটিয়ায় মোকামে কাপড় কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন আবুল কালাম আজাদ। এরপর এখন পর্যন্ত সে মৃত বা জীবিত এমন কোন খোঁজ পাননি তার পরিবার।
ধামরাইয়ের রোয়ইল ইউনিয়নের খরারচর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ স্থায়ী বাসিন্দা। নিখোঁজ আজাদের ভাই তারা মিয়া ১৯৯৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ধামরাই থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। নিখোঁজের এত বছর পর আবুল কালাম আজাদের ভাই তারা মিয়া ও ফজুল হক মিয়া তার মৃত্যু সনদপত্র নিতে মরিয়া হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আজাদের পরিবারের অভিযোগ, তারা মিয়া ও ফজুল হক মিয়া মৃত্যু সনদ নিতে পারলে আজাদের সম্পত্তিতে অংশীদার হয়ে তার পরিবারকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করবে।
শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের খরারচর গ্রামের পশ্চিম পাড়া গ্রামে গিয়ে নিখোঁজ আবুল কালাম আজাদের পরিবারের কাছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ আজাদের ছেলে মো. মশিউর রহমান বলেন, আমার বাবা কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি ১৯৯৭ সালে টাঙ্গাইল কাপড় কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। তখন আমি একেবারে ছোট মাত্র দুই বছর বয়স ছিল আমার । বাবার সঙ্গে কাপড়ের মোকামে কুটি নামের আরেকজন দোকানদার গিয়েছিল।
কুটি কাকা তিন দিন পর ফিরে এলেও বাবার ফিরে আসেনি। কুটি কাকার কাছ থেকে জানতে পেরেছি বাবা ও তিনি মলম পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন। বাবা হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে একটি কথাই বলেছেন দীর্ঘ ২৫ বছর আগে বাবা আমাদের থেকে নিখোঁজ হয় বাবার স্মৃতি চারণ করে আমরা এখনো বাবা ফিরে আসবে সে আশায় বসে আছি অথচ আমার দুই চাচা আমার বাবাকে মৃত ঘোষণা করে মৃত্যু সনদ নেয়ার জন্য চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিদিনই যাচ্ছে আমার বাবার ক্রয় কৃত সম্পত্তি ওয়ারিশ তো আমরা হব, আমার দুই চাচা কিভাবে এইসব সম্পত্তির মালিক হয় সেটা আমাদের জানা নাই।
তিনি বলেন, বাবা নিখোঁজের কয়েকবছর পর দাদা মারা গেছেন। বাবার নামে থাকা সম্পত্তির ওয়ারিশ হিসেবে ভাগ নিতে চায় কাকারা। কিন্তু বাবা তো আমাদের কাছে মারা যায়নি। তার লাশও তো আমরা পাইনি।আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। নিখোঁজ আজাদের স্ত্রী মোছা. খোদেজা বেগম বলেন, আমার স্বামী ২৫ বছর ধরে নিখোঁজ। সেই ছোটবেলা থেকেই এক ছেলে ও এক মেয়েকে খুব কষ্ট করে মানুষ করেছি। এর মধ্যে কারো কোনো খোঁজ-খবর ছিলনা। আজ সম্পত্তি হাত করার জন্য আমার স্বামীকে মৃত বানাতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সাবেক ইউপি সদস্য আইবুর রহমান বলেন, আমাদের বাড়ি ও আজাদের বাড়ি কিন্তু বেশি দুরে নয়। তিনি টাঙ্গাইলে কাপড় কিনতে মোকাম করার জন্য টাকা-পয়সা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর ২৫ বছর পার হয়ে গেল আজও তিনি বাড়িতে ফিরে আসেনি। চেয়ারম্যানের কাছে মৃত্যু সনদ চাওয়ার ব্যাপারটি নিখোঁজ আবুল কালাম আজাদের ভাই তারা মিয়া অস্বীকার করেন। তিনি এই বিষয়ে কোনো কথাও বলতে চান না। তার বাড়িতে গেলে তিনি কাজের কথা বলে পালিয়ে যান।
তবে বর্তমান রোয়ইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তির দুই ভাই এক সপ্তাহ আগে মৃত সনদ পত্র নেওয়ার জন্য আমার কাছে আসে, আমি তাদেরকে প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ সনদ দিয়েছি কিন্তু যার মৃত্যু সনদপত্র নেওয়ার জন্য এসেছে সে জীবিত বা মৃত সেটা অস্পষ্ট। তাদের বলেছি মৃত্যু সনদের বিষয়টি অনেক জটিল। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবো। পরে ইউএনও’র সঙ্গে আলোচনা করেছি তিনি বলেছেন আগে থানায় একটি জিডি করতে। তারপর একটি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে পরামর্শ করতে এসেছিলেন। যেহেতু ২৫ বছর হয়ে গেছে। আমি তাকে বলেছি দুই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করার জন্য। এখানে আবার সম্পত্তির কথা এসেছে যেটা আমি শুনিনি। বিষয়টি জটিল। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে চেয়ারম্যানকে সমাধান করতে বলেছি।