admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২২ ৬:০৯ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ ঠাকুরগাঁও জেলায় বাংলাদেশের প্রথম পরিবেশ বান্ধব ছাই থেকে সিলিকা উৎপাদন হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও সদর হতে ১২ কিলোমিটার আখানগর চিলারং এর প্রত্যান্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে পরিবেশ বান্ধব সিলিকা উৎপাদন কারখানা। জানাজায় সাস্টেইনেবল এনার্জী এন্ড এ্যগ্রো রিসোর্স লিমিটেড (এস ই এ এল) নামের একটি প্রতিষ্ঠান ধানের তুষ পুড়িয়ে গ্যাস তৈরী করে তা থেকে কারেন্ট উৎপন্ন করে গ্যাস চালিত জেনারেটর এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে নিজেস্ব প্লান্ট চালাচ্ছে। এবং জেনারেটরের নিঃসৃত কার্বন গ্যাসকে পরিবেশে ছেড়ে না দিয়ে তা পাইপের মাধ্যমে পরিবহণ করে সিলিকা উৎপাদন করছে। মুক্ত কলম প্রতিনিধিকে উক্ত ফ্যাক্টরীর মালিক মোঃ মাসুদুর রহমান বাবু জানান বাংলাদেশে এই প্রথম পরিবেশ বান্ধব সিলিকা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই খাতে ইনফ্রেসট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড ( আই ডি সি ও এল ) অর্থায়নে সিলিকা উৎপাদন শুরু হয়েছে।
সিলিকা উৎপাদন করে (সিলিকন ডাই অক্সাইড) ব্যবহার অরা হয় কসমেটিক্স আইটেম যেমন সাবান, সিরামিক, কাগজ, পেপার বোর্ড, প্লাস্টিক, টায়ার, স্যান্ডেল কন্সট্রাশন কাজে কাচাঁমাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানী করা হয়, সোডিয়াম সিলিকেটের চাহিদা আনুমানিক ২ হাজার মেট্রিক ট্রন পেরিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ২৫ সালের মধ্যে চাহিদা আরও বাড়বে। দেশে বিপুল পরিমাণে সোডিয়াম সিলিকেট (সিলিকা) তৈরির কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর সোডিয়াম সিলিকেট আমদানি করার জন্য অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। দেশের মাটিতে সিলিকা তৈরীর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে দেশের ৫৫-৬০ ভাগ সোডিয়াম সিলিকেটের চাহিদা পূরণ করা যাবে।
এতে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। দেশের প্রথম বারের মত ধানের তুষ দিয়ে সিলিকা উৎপাদন করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার চিলারং গ্রামে সাসটেইনেবল এনার্জি এন্ড এগ্রো রিসোর্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান সিলিকা উৎপাদনের কাজ করছে গত দশ বছর ধরে তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মন্ডলী জানান তাঁরা গত বছর থেকে উৎপাদনে গিয়েছেন প্রতিদিন ৫ শত কেজি সিলিকা উৎপাদন করছেন পরবর্তীতে দৌনিক ১ টন করে বানাতে পারবেন। জানাযায় এই সিলিকা তৈরী করতে ধান থেকে চাল প্রক্রিয়াজাত করার পরে আমরা একটি বর্জ (তুষ) পেয়ে থাকি, তুষকে পুরিয়ে ছাই করলে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সিলিকা পাওয়া যায়।
কষ্টিক ডাইজেশন করে সোডিয়াম সিলিকেট তৈরী করে বাণিজ্যিক ভাবে বাজারজাত করা যায়। প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধানের তুষের ছাই মেপে ডাইজেস্টরে নিয়ে কষ্টিক সোডা দিয়ে রিএ্যাক্টরের মাধমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ডাইজেশন প্রক্রিয়াটি ১০০-২০০ ডিগ্রী সেল তাপমাত্রায় ১-২ ঘণ্টা চালানো হয়। তুষ পুরিয়ে উৎপন্নকৃত বিদ্যুৎ দিয়ে পুরো ইউনিটে সরবরাহ দেওয়া হয়ে থাকে। এতে করে সরকারি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না নিজেস্ব বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে পারে।
সিলিকা প্রক্রিয়াজাত তরল সোডিয়াম সিলিকেট ২-৩ মাইক্রন ছাকনি দ্বারা ফিল্টারিং করা হয়। এতে বিশুদ্ধ তরল সোডিয়াম সিলিকেট পাওয়া যায়। চাহিদা অনুযায়ী সোডিয়াম সিলিকেটে পানির পরিমাণ ঠিক রাখার জন্য বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি বাষ্পীভূত করা হয়। এরপর এই বিশুদ্ধ সোডিয়াম সিলিকেট ২৫০ লিটার স্টিল এর ড্রামে ভরে বাজারজাত করা হয়। ছাকনি হতে প্রাপ্ত বর্জ্য পদার্থ এক্টিভেটেড কার্বন ড্রাইয়ার এর মাধ্যমে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। উৎপান অনুযায়ী বাজারের চাহিদা অনেক পরিমাণে বেশী। স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে বাজার চাহিদা পূরণের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালক মন্ডলী।
প্রতিষ্ঠানটির ফোরম্যান দুলাল হোসেন বলেন আমরা এ প্রতিষ্ঠানে ১৭ জন কর্মরত আছি। প্রায় ছয় বছর থেকে প্রতিষ্ঠানটির সাথে আছি। গত বছর থেকে আমাদের প্রোডাকশন হচ্ছে। আমরা ধানের তুষ থেকে সিলিকা পাউডার তৈরী করছি পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি ৷ যারা কাজ করি একেকজন একেকটি মেশিন দেখা-শুনা করি। আর এখানে সবাই আমরা মাসিক বেতনে কাজ করছি। শত ভাগ পরিবেশ বান্ধব, ঠাকুরগাঁও জেলায় এ ধরণের শিল্প কারখানায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে ৷ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রকৌশলী মানিক হোসেন বলেন, আমরা ধানের তুষ দিয়ে সিলিকা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। যে প্রক্রিয়া সম্পুর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব। পৃথিবীর অল্প কয়েকটি প্ল্যান্টের মধ্যে এটি একটি। আমাদের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ পরিবেশবান্ধব। আমরা আশা করছি এটির মাধ্যমে আমরা দেশের যে সিলিকার চাহিদা তা মেটাতে চেষ্টা করবো ৷ বর্তমানে তাঁরা প্রতি কেজি সিলিকা ১৬০ টাকা কেজি দরে বাংলাদেশের মার্কেটে বিক্রয় করছে।
সাসটেইনেবল এনার্জি এন্ড এগ্রো রিসোর্স লিমিটেড (সোর্স) এর ম্যানেজিং ডাইরেক্ট মাকসুদুর রহমান বাবু বলেন আমরা বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০ কেজি সিলিকন পার অক্সাইড পাউডার ও দানা তৈরী করছি৷ আমরাই প্রথম দেশে পরিবেশ বান্ধব সিলিকা উৎপাদন করছি ৷ আমরা ক্রমানুয়ে প্রোডাকশন আরো বৃদ্ধি করব ৷ এক টন ক্যাপাসিটিতে আমরা খুব শীঘ্রই যাবো ৷ আগামি আগস্ট মাস থেকে মাসে ৩০ থেকে ৪০ টন উৎপাদন করতে পারবো। তিনি আরও বলেন আমরা যেহেতু শত ভাগ পরিবেশ বান্ধবভাবে উৎপাদন করছি, সেক্ষেত্রে সরকার সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে আরো উৎপাদন করে দেশের চাহিদা পুরণ করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারবো বলে আমি আশা করি ৷