admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২২ ১১:০৯ অপরাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, স্টাফ রিপোর্টারঃসাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছোটবলিমেহের মোজার অবৈধ দখলে থাকা ৫.৮৮ একর জমি উদ্ধার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভ্রাম্যমাণ আদালত। । দিনভর অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে দোতলা তিন তালা বাড়িসহ পাকা, আধাপাকা বেশ কিছু ঘরবাড়ি ।
৩০ মার্চ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী এলাকায় জমি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদুর রহমান।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে। এছাড়া এক যুবক পেট্রোল ঢেলে শরীরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতো কিছুর পরেও পুলিশের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এসব জায়গায় বসবাসকারী অনেকের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মেনে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বাস করে আসছিলেন তারা। উচ্ছেদ হওয়া একটি বাড়ির মালিক রেনু আরা মাহমুদ বলেন, ‘এখনে কেউ ২০ বছর, কেউ ২৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। প্রচুর মানুষ দুই থেকে চার তলা বাড়ি করে থাকছে। আমাদের ১৫ দিনও সময় দেয়নি।
‘আমার জমি আছে ৫ শতাংশ। ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা শতাংশ করে জমি কিনেছি আমরা। দুই দিনও সময় দেয় নাই সব ভেঙে দিচ্ছে। আমি বিএস, আরএস খতিয়ান দেখে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছি। বিদ্যুত, পানি, গ্যাস এসব বিলও আমরা দিয়ে বসবাস করছি। সরকারি জমি হলে তারা এসব নিলো কেন এতদিন? আমার সারা জীবনের একটু একটু করে টাকা জমায় এখানে বাড়ি করছি।
আমরাতো হারাম পয়সা দিয়ে এই বাড়ি করিনি। এটা ভেঙে দিলে আমি সর্বশান্ত হয়ে যাবে। এই ক্ষতিপূরণ আমাকে কে দেবে?’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা ১৯৯৩ সালে ৩ শতাংশ পরিমাণ এই জমিটা কিনছি। আগের মালিকদের কাগজপত্র দেখেশুনে তারপর কিনছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করতেছে, তারা সরকারের কাছে লিজ নিয়েছে। তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। তারপরও বিভিন্ন দফায় দফায় ওনারা আমাদের জমি দখল করতে চাচ্ছিল। ‘এরপর আমি হাইকোর্টে একটা রিট পিটিশন করায় আমার বাড়ির ওপর স্টে-অর্ডার দিয়েছে। তারপরও আতঙ্কে বাড়ির সব মালপত্র আজ তরিঘরি করে বের করেছি। আশপাশের অনেকের বাড়ি ভেঙে দিয়েছে তারা।’ বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ নামে আরেকজন বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। হঠাৎ তিন দিন আগে শুধুমাত্র মাইকিং করে আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আমাদের আগে থেকে কোনো নোটিশও দেয় নাই তারা। ৩০ মার্চ বুধবার সব স্থাপনা তারা ভেঙে দিয়েছে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, ‘সরকারি জমি সেটা ৬৬ বছর আগের হোক আর ১০ বছর আগের হোক, যখন এটার সপক্ষে সব কাগজপত্র রেডি থাকে, তখন আমি উচ্ছেদ করতে পারি। সেই সঙ্গে বাজেটের দরকার হয়, ডিসি অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দরকার হয়, একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত লাগে, পুলিশ ফোর্স লাগে। এসব কিছু একত্রিত করতে যে সময় লাগে সেটার জন্যই সময় ঠিক করা হয়েছে আজকে থেকে অভিযান। এটার নোটিশ হয়েছে প্রায় ১ মাস আগে।
নোটিশ হওয়ার পর এলাকার লোকজনকে জানানো হয়েছে। ডিসি অফিস, এসিল্যান্ড ও আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার এসে জমির দলিল, পর্চা, খতিয়ান ম্যাপ দেখে শুধু সরকারি জায়গাতে নির্মাণ করা স্থাপনাতেই দাগ দেয়া হয়েছে। সেই স্থাপনা গুলো আমরা আজ ভাঙা শুরু করেছি। প্রায় ৫.৮৮ একর জায়গার অধীনে থাকা স্থাপনা পর্যায়ক্রমে ভেঙে দখলমুক্ত করা হবে।’ সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুর রহমান বলেন, ‘ গত কয়দিন ধরে দখলদারদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। আমাদের এখানে যে কয়টা দাগে মামলা আছে, আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ আছে সেগুলো বাদ রেখে উচ্ছেদ করছি।
অনেকেই নিজেরাই তাদের মালপত্র সরিয়ে নিয়েছে। সুতরাং তারা যে জানেন না সেটা গ্রহণযোগ্য না। সকাল থেকেই আমরা এখানে কাজ করছি। অনেকেই আমাদের সহযোগিতা করছেন।’ সরকারি জমি অন্যের কাছে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা হলে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন তারা। নিজের জমি না তারপরও অন্যের কাছে বিক্রি করেছেন তারা। এ ধরনের কাজ কেউ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখানে বসবাসরতদের কেউ খারিজের কাগজ দেখাতে পারেননি। অভিযানে পৌরসভা সরঞ্জামও লোকবল দিয়ে সহযোগিতা করেছে। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এধরনের আরও অভিযান চলবে।