admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কায় ডলার সংকট তিনটি বিদেশি মিশন বন্ধ করে দিচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচানোর জন্য তিনটি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় আমদানিতে অর্থায়নের জন্য ডলারের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাইজেরিয়ায় অবস্থিত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন এবং জার্মানি ও সাইপ্রাসের কনস্যুলেট জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকবে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং বিদেশে শ্রীলঙ্কার মিশনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া নেয়া হয়েছে। গত দুই বছরে করোনা মহামারির কারণে দ্বীপরাষ্ট্রটির পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ব্যাপকাহারে আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল দেশটির সরকার। এর ফলে জ্বালানি ও চিনির মতো প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা হয়।
এ অবস্থায় শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিট্যান্সের উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করলে তিনটি মিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের ১০ শতাংশ থেকে এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত সরকারের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করার জন্য ব্যাংক থেকে আরো কম ডলার পাওয়া যাবে। গত নভেম্বরের শেষে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক রিজার্ভ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাকসে দায়িত্ব নেওয়ার সময় রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা চেয়ে সবার কাছে আবেদন জানিয়েছে। এমনকি বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের হাতে থাকা ভাঙতি ডলারও তারা নিয়ে যেতে চাইছে। ডলার বাঁচাতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার কৃষিখাতে রাসায়নিক আমদানির উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এতে খাদ্য ঘাটতি আরো বেড়ে যায়। পরে তীব্র কৃষক বিক্ষোভের পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।