admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২১ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি মধ্য-নিম্নবিত্তের নাভিশ্বাস। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জাঁতাকলে মধ্য ও নিম্নবিত্তে নাভিশ্বাস উঠেছে। চাল, ডাল, আটা, তেল, পেঁয়াজ, চিনিসহ সব ধরনের কাঁচামাল বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ৬৫-৭০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে মানুষের আয় রোজগার স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যে খুলেছে বাচ্চাদের স্কুল, নানা ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের চড়া দাম সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারের নানা পদক্ষেপেও বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম কমাতে ৩ ধরনের পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করতে আবারও চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তারপর শিগগিরই দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দাম শিগগিরই নাগালে আসবে। সরকারের সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন পণ্যের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে আটা সাদা (খোলা) ১.৪৯ শতাংশ, সয়াবিন তেল (খোলা) ৩.৭৭ শতাংশ, পাম অয়েল (খোলা) .৭৯ শতাংশ, পাম অয়েল (সুপার) .৩৮ শতাংশ, পেঁয়াজ (দেশি) ১১.৫৪ শতাংশ, পেঁয়াজ (আমদানি) ১৩.৬৪ শতাংশ, রসুন (আমদানি) ৮.৭০ শতাংশ, আদা (আমদানি) ৪.৩৫ শতাংশ, লবঙ্গ ২.২৭ শতাংশ, মুরগি (ব্রয়লার) ১.৪৯ শতাংশ, চিনি .৬৩ শতাংশ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদন অনুসারে, গত এক বছরের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম কমেনি; বরং পণ্যভেদে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চাল মোটা কেজিতে বেড়েছে ৭.৫৬ শতাংশ, সয়াবিন তেল লিটারে ৩৮ শতাংশ, পাম অয়েল খোলা লিটারে ৭০.৩৮ শতাংশ, পাম অয়েল সুপার লিটারে ৬১ শতাংশ, চিনি কেজিতে ২৬ শতাংশ, আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিতে ৩০ শতাংশ ও আমদানি করা রসুন কেজিতে বেড়েছে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত।
এ প্রসঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। শিগগিরই এই পণ্যের দাম জনসাধারণের হাতের নাগালে আসবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়েছে; বিশেষ করে ৩-৪টি পণ্যের দাম বেড়েছে। যেটা আমাদের আমদানিনির্ভর। সেটা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের দেশেও দাম বেড়েছে।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের কোনো কোনো জায়গায় অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং দুর্গাপূজার কারণে ট্রান্সপোর্ট সমস্যা হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে গতকাল (সোমবার) আমাদের সঙ্গে কথা বলার পর আজকে (মঙ্গলবার) বাজার লক্ষ করেছেন ১০ টাকা কমে গেছে। তবে আরও এক মাস পর্যন্ত চাপ থাকবে। আমরা চেষ্টা করছি, অন্য সোর্স থেকে পেঁয়াজ আনার জন্য। তবে শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য একটা আবেদন করা হয়েছে। সেটা পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেটা আমরা পাইনি। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্য তেলের সব ধরনের আমদানি শুল্ক আপাতত স্থগিত রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত রবিবার দ্রব্যমূল্য নিয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) অনুবিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমদানিনির্ভর পণ্যে যেন দাম কমে সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। কিন্তু চাল, কাঁচামালে আমাদের কোনো হাত নেই। এ জন্য পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্য তেলের সব ধরনের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের অনুমোদন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে আবার তাগাদা দিয়ে আবারও চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি দু-এক দিনের মধ্যেই সার্কুলার জারি হবে। গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে শফিকুর রহমান নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার কারণে বেশ কিছু দিন বেতন ৫০ শতাংশ কম পেয়েছি। এই সময়ে সংসারের ব্যয় মেটাতে কিছুটা ধারদেনা করেছি। এখন বেতন স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু ছেলেমেয়ের স্কুল খুলেছে। এর মধ্যে বাজারে সবকিছুর দামে আগুন।
তিনি আরও বলেন, ব্রয়লার মুরগি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেশি। বেশ বেকায়দায় আছি। আয় বাড়েনি, কিন্তু সংসার চালাতে বাড়তি ব্যয় ঠিকই করতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংসার চালাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে; বিশেষ করে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই সময়টাতে সাধারণত নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা চড়া থাকে। কিন্তু সরকার আগেই পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু সেটা হয় না। বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে গেলে পরে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ বাড়তি দামেই বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। দুদিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটারে ২ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে সারাদেশে কাঁচাবাজার নিত্যপণ্য দাম, বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে কাঁচামাল, সবজি, মাছ, মাংসের দাম বাড়তি।