admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২১ ৯:২৬ অপরাহ্ণ
চীন তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে ২০ বছরের লড়াই শেষে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এখন তালেবান, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে এই অবস্থায় তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে চীন। আজ সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং। কাতার-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে দেশ ছেড়ে পালান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। এর পর আজ সোমবার দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হুয়া চুনিং।
এ সময় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর পর থেকেই তালেবানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে থাকে বেইজিং। সীমান্ত ঘেঁষা চীনের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সমর্থন তালেবানকে দেশ দখলে আরো উজ্জীবিত করে তোলে। এমনকি অভিযোগ করা হচ্ছে, তালেবানের সাম্প্রতিক উত্থানে চীন ও রাশিয়ার হাত রয়েছে।
জানা যায়, চীনে সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রায় ৭৬ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই তালেবানকে নিয়ে এর আগে অস্বস্তিতে ছিল বেইজিং। তাদের আশঙ্কা ছিল, আফগানিস্তানে তালেবানদের প্রভাব বাড়লে বা তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে চীনের উইঘুর মুসলিমরা তাদের সহযোগিতা পেতে পারে। তবে সাম্প্রতিক বেশ কিছু বৈঠকে চীনকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে তালেবান।
সম্প্রতি তালেবান প্রতিশ্রুতি দেয় যে, চীন বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তাদের এই প্রতিশ্রুতির জবাবে বেইজিং জানায় যে, তারা আফগানিস্তানের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। বরং দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাজ করবে চীন।
এদিকে, আফগানিস্তানে যুদ্ধের অবসান এবং দেশটির পুনর্গঠনে তালেবান তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে- এমন আশাবাদ জানিয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইস্ট তুর্কমেনিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট নামের সংগঠন যে সংগঠন চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়াং অঞ্চল তৎপরতা চালাচ্ছে তা দমনে তালেবান সহায়তা করবে বলে তারা মনে করে। চীনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি এই গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে তালেবান তাদের দমন করবে বলে বিবৃতিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বেইজিং