admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২১ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ লায়ন অ্যাাড আঃ মজিদঃ দূঃখজনক হলেও সত্য যে, দিনাজপুরের প্রতিথযশা সিনিয়র সাংবাদিক শেখ আবুল হাসনাতের অবস্থা অত্যন্ত আশংকাজনক হলেও এখন পর্যন্ত দিনাজপুরের কোনো সাংবাদিক তাকে অর্থিক সাহায্য প্রদান করা তো দূরের কথা কেউ তাকে দেখতে বা কোনো সমবেদনা জ্ঞাপনও করেননি।
শেখ আবুল হাসনাত সত্যিকার অর্থেই একজন প্রকৃত ও ক্ষুরধার সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনেক সাংবাদিকের বিভিন্ন ব্যবসা-বানিজ্য থাকলেও হাসনাতের এসবের কোনো কিছুই নেই এবং ছিলও না। শেখ আবুল হাসনাতের কোনো ব্যবসা-বানিজ্য থাকা তো দূরের কথা নিজের একটি বসতভিটাও তার নেই। পৈতিক সূত্রে দিনাজপুর উপশহরে রিফিউজিদের জন্য সরকারিভাবে তৈরি করা দুই রুমের একটি বসত ভিটা পেলেও সেটা ভাগাভাগি হতে হতে শেষবধি হাসনাতের কপালে একটি কক্ষের অর্ধেক তার কপালে জুটেছে।।
শেখ আবুল হাসনাত একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এটি দিনাজপুরের সকল জনগণ না জানলেও দিনাজপুরের সকল সাংবাদিকগণ জানেন। দিনাজপুরের এমন কোনো পত্রিকা নেই যেখানে হাসনাত সাংবাদিকতা করেননি। হাসনাতের এই আশংকাজনক অবস্থার কথা ফেসবুক, সকল সাংবাদিক বন্ধুদের ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়েছি এবং আমার পত্রিকায় হাসনাতের মূমুর্ষ অবস্থার ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ করেছি, কিন্তু এতকিছুর পরও কোনো লাভ হয়নি।
শেখ আবুল হাসনাত দিনাজপুরের দু’টি প্রেসক্লাবের কোনটির সদস্য নন। মৃত্যু পথযাত্রী হাসনাতকে দেখতে গেলে গ্রুপিংয়ের কোনো প্রশ্নই উঠছে না। একজন সাংবাদিক অনেকেরই অপছন্দের মানুষ হতে পারে, কিন্তু মরণাপন্ন ও মৃত্যু পথযাত্রী জ্যেষ্ঠ সহকর্মীর উপরে কোনো অবস্থাতেই কারো মান-অভিমান থাকার কথা নয়।
যেকোনো দিন যে কোনো সাংবাদিক যে কোন কারণে মুমূর্ষু অবস্থায় পতিত বা মৃত্যুবরণ করতেই পারেন, সেক্ষেত্রে হাসনাতের মতো তাকেও যদি কোনো সাংবাদিক বন্ধুকে দেখতে, সাহায্য করতে ও সহমর্মিতা প্রকাশ করতে না আসে – সেদিন সেই চরম মুমুর্ষ অবস্থায় পতিত সাংবাদিকের মানসিক অবস্থা কি হতে পারে সেটি আমরা একটু চোখ বন্ধ করে নীরব থেকে কল্পনা করে দেখে নিতে পারি।
কাউকে আহত বা আক্রমন করার জন্য আমার এই লেখনীর উদ্দেশ্য নয়। হাসনাতকে আমাদের সহকর্মী বন্ধু হিসেবে যদি গণ্য নাও করি কিন্তু তিনি তো একজন অসহায় মৃত্যু পথযাত্রী। বন্ধু বা সহকর্মী হিসেবে না হোক অন্তত দিনাজপুরের একজন সন্তান হিসেবে আমরা কি হাসনাতের চিকিৎসার জন্য আমাদের সাহায্য, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি না!
“মানুষ মানুষের জন্য একটু সহনুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না!
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
সাংবাদিক শেখ আবুল হাসনাতের অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাকে গত ৯ জুন বুধবার বিকেলে দিনাজপুর উপশহরস্হ বেস্ট ক্লিনিকে (জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের বিপরীতে) ভর্তি করানো হয়েছে। তাকে দেখাশোনা ও সেবা করার জন্য অর্থের অভাবে কোনো পুরুষ সেনক বা মহিলা সেবিকা না থাকায় ভাবীকে বিরতিহীনভাবে রাতদিন জেগে সেবা করার কারণে এখন ভাবীর অবস্হাও মরনাপন্ন। হাসনাত বর্তমানে বেস্ট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসনাতের চিকিৎসার ও সেবার জন্য তার স্ত্রী চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তাই এই পরিবারটির পাশে দাড়ানোর আহব্বান জানাচ্ছি।