admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২১ ৮:২৩ অপরাহ্ণ
যুবকের ৪ দাবিতে সংসদের গেটে অভিনব কর্মসূচি। ৩ জুন আগামী (২০২১-২২) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এখন চলছে বাজেটের ওপর আলোচনা। আগামী ৩০ জুন পরবর্তী বছরের এই বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের বেকার-যুবকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় যুব সমাজের মধ্যে হতাশ রয়েছে। সেই বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে জাতীয় সংসদের গেটে অভিনব এক কর্মসূচি পালন করেছেন এক যুবক। হানিফ বাংলাদেশি নামের এই যুবক জাতীয় সংসদের গেটে ঘণ্টা বাজিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। আজ রোববার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংসদ ভবনের বকুল তলা গেটে তিনি এককভাবে এই কর্মসূচি পালন করেন।
তার এই কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করছি, অথচ আজও জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। দিন দিন দেশে বেড়েই চলেছে বেকারত্বের হার। অথচ একটি দেশ যদি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তাহলে সেই দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি।
হানিফ বাংলাদেশি আরো বলেন, আগেই বাংলাদেশে মহামারি আকার নিয়েছে বেকার সমস্যা। করোনাকালে তা আরো প্রকট হয়েছে। বিভিন্ন জরিপের তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, বর্তমানে দেশে শুধু শিক্ষিত বেকার রয়েছেন প্রায় ৭৪ লাখ। এর বাইরে প্রশিক্ষিত, চাকরিচ্যুত, বিদেশফেরত মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি যুবক বেকার রয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, তার ৪ দফা দাবি পূরণ করা হলে দেশের যুবকদের সমস্যা অনেকটাই লাঘব হবে। হানিফ বাংলাদেশির ৪ দফা দাবি হলো-
১. শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত যুবক- যারা করোনাকালে চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তাদের মধ্যে যারা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান, কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা তাদেরকে সহজ শর্ত ও সহজ কিস্তিতে বিনা সুদে ঋণ দিতে হবে।
২. যেসব যুবক বিদেশ যেতে ইচ্ছুক তাদের সরকারি খরচে বিদেশ পাঠাতে হবে। যাওয়ার পর কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩. চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩৫ বছর করতে হবে এবং আবেদন ফি মওকুফ করতে হবে। একই সঙ্গে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা প্রদান করতে হবে।
৪. সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যেসব শূন্য পদ রয়েছে চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবকদের ওই সব পদে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে করোনাকালে চাকরিচ্যুতদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া দেশের যেসব অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে, তা ফেরত এনে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।