admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২১ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের আগ্রাসন ফিলিস্তিনি রকেট বৃষ্টিতে ঘুম হারাম, জ্বলছে ইসরায়েল। বর্বরতা ও বিমান হামলার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধারা। অপারেশন আল কুদস সোর্ড নামের এই অভিযানে অন্তত দেড় হাজার রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মুহুর্মুহু এসব হামলা ঠেকাতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম। দেশটির অত্যাধুনিক এই সুরক্ষা বলয় ভেদ করে একের পর এক রকেট আসড়ে পড়ছে লক্ষবস্তুতে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ছোঁড়া ফিলিস্তিনি রকেট ইসরায়েলের আশকেলনের একটি পাইপলাইনে আঘাত হানে। এতে জ্বালানি ট্যাংকারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চ্যানেল-১২ বলছে, হামলায় আশকেলন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ না হলেও ব্যাপাক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছে তেল আবিব কর্তৃপক্ষ।
দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, গত কয়েক দিনে গাজা থেকে দেড় হাজার রকেট ছুঁড়েছে ফিলিস্তিনিরা। রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকা ও স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে গত তিন দিনে হামাসের রকেট হামলায় অন্তত ৬ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে মারা যান ৩ জন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরো কয়েক ডজন ইসরায়েলি।
ফিলিস্তিনি রকেট হামলার জেরে ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিওন সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, গাজার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় কয়েক শ’ বার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত কয়েক দিনের মধ্যে মঙ্গলবার রাত ও বুধবার ভোরে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নতুন করে আরো ৮ জনসহ ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরো অনেক মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

এর আগে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেড শপথ করেছিল, ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে দেশটির আশকেলন শহরকে ‘জাহান্নামে’ পরিণত করা হবে। পার্সটুডে জানায়, হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকা থেকে নতুন এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে একটি ‘জয়েন্ট অপারেশন রুমের’ মাধ্যমে। এর ফলে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো প্রথমবারের মতো সমন্বিত হামলা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। যা ইসরায়েলের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।
বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, পবিত্র জেরুজালেম তথা আল কুদস এবং এলাকাটির জনগণকে মুক্ত করতে অভিযান শুরু হয়েছে। পবিত্র আল-আকসা মসজিদে হামলা এবং শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবির থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার প্রতিবাদে এই হামলা। ইসরায়েলের ভেতরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে জানিয়ে তারা বলছে, গাজা সীমান্তে একটি ইসরায়েলি গাড়িতে রকেট ছোঁড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই হামলা ধাপে ধাপে বিস্তৃত করা হয়। এক পর্যায়ে দেশটির রাজধানী তেল আবিরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে ব্যাপকভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।