admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২১ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
মোঃ শামীম হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ বিতরণে দলীয়করণ, আতœীয়করণ ও দুস্থ ও অসহায় মানুষকে না দিয়ে সামর্থ্যবান মানুষদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
স্থানীয়রা জানান, এবার জেলার সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ বিতরণে দলীয়করণ, আতœীয়করণ ও দুস্থ ও অসহায় মানুষকে না দিয়ে সামর্থ্যবান মানুষদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগ এ ইউনিয়নের স্থানীয় মানুষদের। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ হোসেন শুধু তার অনুসারী, পরিচিত ব্যক্তিবর্গ ঘনিষ্টজন ও কিছু দলীয় ব্যক্তিদের এ অনুদানের অর্থ প্রদান করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ অনুদানের টাকা অসহায়, দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের পাওয়ায় কথা থাকলেও তারা পাননি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে প্রকৃত উপকারভোগিরা এ প্রধানমন্ত্রীর ঈদকালীন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
১১নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তি জানান, আমাদের ওয়ার্ডে বেশির ভাগ স্বচ্ছল বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধাভোগিরা এ অনুদান পেয়েছে। আর প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। ১১নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ০৭ নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের চেয়ারম্যান সোহাগ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ বিতরণে দলীয়করণ, আত্মীয়করণ করেছেন। শুধু পরিচিত তার ঘনিষ্টজন বা তার অনুসারী ছাড়া বাকিরা এ অনুদান পাননি। আমাদের ওয়ার্ডে অনেক দুস্থ ও দরিদ্র মানুষরা থাকলেও তারা এ অনুদান পাননি। এ ওয়ার্ডের অনেক মানুষ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, শুধু এই প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা নয়, যত রকমের অনুদান বা সরকারি সুযোগ সুবিধা আসে চেয়ারম্যান শুধু তার নিজস্ব লোক ও অনুসারীদেরই বারে বারে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করেন। ফলে এখানকার অসহায় দরিদ্র ও দুস্থ মানুষরা বরাবরেই বঞ্চিত হয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই অভিযোগ করেন, ১১নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ডের আকবর আলী ও শরিফুল ইসলাম। এ বিষয়ে ১১নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: সোহাগ হোসেন কে বার বার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি শুনিনি। তবে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়মের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১১নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে এ সহয়তা প্রদান করা হয়। মোহাম্মদ পুর ইউনিয়ন এলাকার এসব অসহায় দরিদ্রদের প্রত্যেককে ৪৫০ টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল সোমবার বেলা দিনব্যাপি মোহাম্মদ পুর ইউনিয়ন পরিষদের চত্বরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে করোনা ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের উপলক্ষ্য ৯ টি ওয়ার্ডের ১২১৫ পরিবার প্রধান কে নগদ অর্থ বিতরণ করেন।
এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ১১ নং মোহাম্মদ পুর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান সোহাগ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সোয়দ মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও এ সময় মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিট ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ নুর আলম, ইউপি সচিব আব্দুলা আর ফরাদ, ট্যাগ অফিসার মোঃ মাহাবুবুর রহমান, সকল ইউপি সদস্যসহ ইউপি আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১১নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা হিসেবে ইউনিয়নে মোট ১২১৫জন উপকারভোগির মাঝে মোট ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭ শ ৫০টাকা বিতরণ করা হয়।