admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর, ২০২০ ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ পরিচালক বলেছে আংশিক ভাস্কর্য জায়েজ ! পূর্ণ প্রতিকৃতি নয়, বরং অর্ধেক কিংবা শরীরের কোনো ভঙ্গি বা অঙ্গের ভাস্কর্য জায়েজ আছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সিকদার। এ সময় উদাহরণ হিসেবে নির্মাণাধীন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে তার হাতের তর্জনির ভাস্কর্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সিকদার জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্যের ব্যাপারে মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সিকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে, বিশেষ করে মিশরের আলেমরা কিছু ক্ষেত্রে এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। এবাদতের উদ্দেশ্যে যেটা করা হয়, সেটা মূর্তি এবং এক্ষেত্রে সব মাজহাবই মুসলমানদের জন্য এটা হারাম বলছে।
ইসলামের মৌলিক বিষয় হলো ‘একত্ববাদ’ এবং মূর্তি এর বিরুদ্ধে যায়। অন্যদিকে, ভাস্কর্য এবাদতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌন্দর্যবর্ধন অথবা কোনো ব্যক্তিকে স্মরণ করার জন্যই তৈরি করা হয়। তবে এ ব্যাপারেও নানা মতভেদ আছে, বিশেষ করে পূর্ণ প্রতিকৃতি নয়, বরং অর্ধেক কিংবা শরীরের কোনো ভঙ্গি বা অঙ্গের ভাস্কর্য জায়েজ আছে। যেমন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে তার হাতের তর্জনির ভাস্কর্য। এটা নিয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নাই, সবাই এক।’
তবে পুরো শরীরের যদি ভাস্কর্য হয় সেটা নিয়ে নানা মত ও বিতর্ক আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিশরের আলেমরা স্মরণ বা সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পুরো শরীরের ভাস্কর্যকে জায়েজ বললেও কট্টরপন্থিরা এটা সমর্থন করেন না। তাদের ধারণা, একটা সময় এই ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে মূর্তি পূজা শুরু হয়ে যেতে পারে।
পবিত্র কোরআনে ভাস্কর্য নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা আছে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে এই আলেম বলেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। কিন্তু ভাস্কর্য তো আর শরিক করার জন্য বানানো হয় না। কাউকে স্মরণ বা সম্মান দেখানোর জন্যই করা হয়ে থাকে। তাছাড়া এখানে পর্যটনেরও একটা ব্যাপার আছে, যেমন স্ট্যাচু অব লিবার্টি মানুষ দেখতে যায়। তবে দেশে ভাস্কর্য বা মূর্তি নির্মাণ বন্ধ হয়ে গেলেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি নির্মাণ বন্ধ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য ধর্মের মানুষকে মূর্তি নির্মাণে বাধা দেয়ার কোনো অধিকার ইসলামে নেই। এ নিয়ে কোরআনে অনেক আয়াত আছে।