admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২০ ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
রাজরাজেশ্বর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীর চরে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয় কাম ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রটি। কিন্তু এর আশপাশে নেই কোনো ভূমি। চারপাশে শুধু থৈ থৈ পানি। যেনো পদ্মার মাঝ নদীতে ভাসছে তিনতলা একটি ভবন। নদীর স্রোতে যেকোনো সময় তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম বিদ্যালয়টির।
স্থানীয়রা জানান, গত কিছুদিন ধরে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে এ এলাকায়। কোনোভাবেই এই ভাঙনের ব্যাপকতা ঠেকানো যাচ্ছে না। উন্মত্ত পদ্মার তাণ্ডবে রাজরাজেশ্বর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টারটি নদীর প্রায় ১০০ গজ ভেতরে চলে গেছে। এর আশপাশে এখন আর কোনো স্থাপনা বা বসতি অবশিষ্ট নেই। যেকোনো সময় বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সফিউল্লাহ সরকার বলেন, ১৯৮৮ সালে লক্ষ্মীর চরের এই স্থানেই প্রথম বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। পরে বেশ কয়েকবার ভাঙনের শিকার হওয়ায় বিদ্যালয়টি পাশের বলিয়ার চরে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই একটি টিনের ঘরে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালানা করা হচ্ছে। এদিকে লক্ষ্মীর চরেই বিদ্যালয়টির একটি ভবন নিমার্ণ করে সরকার। কিন্তু কার্যাক্রম চালু করার আগেই সেটি আবার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালে বিদ্যালয়টি নির্মাণের উদ্যোগ নেন শিক্ষামন্ত্রী ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. দীপু মনি। ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় এক বছরের মাথায় তিনতলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় কাম আশ্রয়কেন্দ্রটির নির্মাণও শেষ হয়। কিন্তু নদীর ভাঙনে এখন এর আশপাশ যেভাবে তলিয়ে গেছে এতে বিদ্যালয়টি শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কিনা এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা বলেন, ২০১৪ সালে প্রথম বিদ্যালয়টি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। এরপর এর স্থান ঠিক করা হয়। তখন নদী বিদ্যালয়ের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ছিলো। পরবর্তীতে ওই স্থানে বিদ্যালয় কাম ঘূর্ণিঝড় সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ করে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। এরপর নদী ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়টির কাছে চলে আসে। এখন এটি রক্ষার আর কোনো ব্যবস্থা নেই।