admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২০ ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
আবাসিক খাতে অবশেষে গ্যাস সংযোগ পেতে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। প্রায় ১০ বছর অপেক্ষার পরে অবশেষে আবাসিক খাতে আবারও গ্যাস সংযোগ পেতে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক সম্মতিও মিলেছে জানিয়ে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন বিচার-বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর পাইপলাইনের মাধ্যমে আবাসিকে (বাসা-বাড়ি) গ্যাস সংযোগের দুয়ার খুলছে। ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এখন সামগ্রিক বিষয় বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। ডিমান্ড নোটের ভিত্তিতে চার ক্যাটাগরিতে গ্রাহকরা এই সংযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, বিচার-বিশ্লেষণ চলছেÑ কী আছে, কী লাগবে, কী দিতে হবে, কী পরিমাণ আবেদন পেন্ডিং আছে। এগুলো নিয়ে আমরা এক্সারসাইজ করছি। এরপর আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যাব। তিনি বলেন, অনেকে বেশ কয়েক বছর আগে ডিমান্ড নোট জমা দিয়েছিল, এমন একটা ক্যাটাগরি আছে।
কিছু আছে ডিমান্ড ইস্যু করা হয়েছিল কিন্তু টাকা জমা হয়নি, কিছু অ্যাপ্লিকেশন ছিল, কিছু আছে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে যাচ্ছে। এই চার ক্যাটাগরিতে কীসংখ্যক আছে, হয়তো ১০ শতাংশ কম-বেশি হবে। এর সঙ্গে আমাদের পজিশন কী, এই চার ক্যাটাগরিতে সংযোগের ক্ষেত্রে কী পরিমাণ গ্যাস লাগবে, কতজনকে আমরা সংযোগ দিতে পারব, কী পরিমাণ গ্যাসের সংস্থান আমাদের আছে। এগুলো বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে হাইকোর্টে মামলা মোকদ্দমাও হয়েছিল, এ বিষয়ে অর্ডারও আছে। সবকিছু নিয়ে যাচাই-বাছাই করে তারপর এগোব কীভাবে কী করা যায়। তখন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা তার সঙ্গে আলোচনা করেছি, সবকিছু বিস্তারিতভাবে এক্সারসাইজ করে প্রস্তাব পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন আনতে হবে। আশা করছি আগামী কিছুদিনের মধ্যেই একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব। দ্রুত কিছু করার চেষ্টা করব, যাতে কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু করা যায়। একসঙ্গে হয়তো সবাইকে দিতে (গ্যাস সংযোগ) পারব না, ধীরে ধীরে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২১ জুলাই থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। এরপর ২০১০ সালের ১৩ জুলাই থেকে আবাসিকেও নতুন গ্যাস-সংযোগ বন্ধ করা হয়। ২০১৩ সালের ৭ মে আবাসিকে সংযোগ দেওয়া শুরু হলেও কিছুদিন পর তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ২৯টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে এবং সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ২০১৭ সালে ভোলা।[১] বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হলো তিতাস গ্যাসক্ষেত্র। এটি ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিস্কৃত হয়। প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
| ক্রম | নাম | আবিস্কার | অবস্থান | আবিস্কারক সংস্থা | মোট মজুদ | উত্তোলনযোগ্য মজুদ | উত্তোলন | অবশিষ্ট মজুদ |
| ১ | হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৫৫ | সিলেট | বার্মাওয়েল | ০.৪৪৪ | ০.২৬৬ | ০.১৫৮ | ০.১০৮ |
| ২ | ছাতক গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৫৯ | সুনামগঞ্জ | বার্মাওয়েল | ১.৯০০ | ১.১৪০ | ০.০২৯ | ১.১১৩ |
| ৩ | রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৬০ | হবিগঞ্জ | পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি | ২.২৪২ | ১.৩০৯ | ০.০৮০ | ১.২২৭ |
| ৪ | কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৬২ | সিলেট | পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি | ৩.৬৫৭ | ২.৫২৯ | ০.১০৮ | ২.৪২১ |
| ৫ | তিতাস গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৬২ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি | ৪.১৩২ | ২.১০০ | ০.৩৫৩ | ০.৭৪৭ |
| ৬ | হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৬৩ | হবিগঞ্জ | পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি | ৩.৬৬৯ | ১.৮৯৫ | ০.৫৬৭ | ১.৩২৮ |
| ৭ | সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৬৯ | খাগড়াছড়ি | ওজিডিসি | ০.১৬৪ | ০.০৯৮ | ০.০৯৮ | |
| ৮ | বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৬৯ | কুমিল্লা | পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি | ১.৪৩২ | ০.৮৬৭ | ০.৫০১ | ০.৩৬৬ |
| ৯ | কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৭৭ | কক্সবাজার | ইউনিয়ন ওয়েল | ০.৭৮০ | ০.৪৬৮ | ০.৪৬৮ | |
| ১০ | বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৭৭ | নোয়াখালী | পেট্রোবাংলা | ০.০২৫ | ০.০১৪ | ০.০১৪ | |
| ১১ | বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৮১ | সিলেট | পেট্রোবাংলা | ০.২৪৩ | ০.১১৩ | ০.১১৩ | |
| ১২ | ফেনী গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৮১ | ফেনী | পেট্রোবাংলা | ০.১৩২ | ০.০৮০ | ০.০৩৬ | ০.০৪৪ |
| ১৩ | কামতা গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৮১ | গাজীপুর | পেট্রোবাংলা | ০.৩২৫ | ০.১৯৫ | ০.০২১ | ০.১৭৪ |
| ১৪ | জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৮৯ | সিলেট | সিমিটার | ১.৫০০ | ০.৯০০ | ০.৯০০ | |
| ১৫ | ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৮৯ | সিলেট | পেট্রোবাংলা | ০.৩৫০ | ০.২১০ | ০.২১০ | |
| ১৬ | মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৯০ | নরসিংদী | পেট্রোবাংলা | ০.১৯৪ | ০.১২৬ | ০.০০৪ | ০.০৮০ |
| ১৭ | নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৯০ | নরসিংদী | পেট্রোবাংলা | ১৫৯ | ১১১ | ২৯.০৩ | ৮১.৯৭ |
| ১৮ | শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৯৫ | ভোলা | বাপেক্স | ০.৫০৪ | ০.৩৩৩ | ০.৩৩৩ | |
| ১৯ | সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৯৬ | চট্টগ্রাম | কেয়ার্ল এনার্জি | ১.০৩১ | ০.৮৪৮ | ||
| ২০ | সালদা গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৯৬ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | বাপেক্স | ০.২০০ | ০.১৪০ | ০.১৪০ | |
| ২১ | মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৯৭ | মৌলভীবাজার | ইউনিকল | ০.১৪৭ | ০.১১০ | ০.১১০ | |
| ২২ | বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র | ১৯৯৮ | হবিগঞ্জ | ইউনিকল | ২.৪ | ১.৭৭ | ১.৭৭ | |
| ২৩ | লালমাই গ্যাসক্ষেত্র | ২০০৫ | কুমিল্লা | ট্যাল্লো | ||||
| ২৪ | ভাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র | ২০০৫ | কুমিল্লা | বাপেক্স | ৪৫৭ | |||
| ২৫ | সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্র | ২০১১ | নোয়াখালী | বাপেক্স | ||||
| ২৬ | সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র | ২০১১ | সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা | বাপেক্স | ||||
| ২৭ | শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র | ২০১২ | কুমিল্লা | বাপেক্স | ||||
| ২৮ | পাবনা গ্যাসক্ষেত্র | ২০১৭ | মোবারকপুর,সাঁথিয়া,পাবনা | বাপেক্স | ||||
| ২৯ | ভোলা উত্তর-১ | ২০১৭ | শাহবাজপুর,ভোলা | বাপেক্স | ১.৫ ট্রিলিয়ন |