admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ জুন, ২০২১ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ বলেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো। দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দুর্নীতির ডিপো বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন এবং এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তিনি। জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ সোমবার এসব কথা বলেন বিএনপির এ সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে কথা বলতে বলতে বেহাল হয়ে গেছি আমরা। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্য বিভাগে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার আপত্তি আছে। ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে কী করবেন? এই করোনাকালে যে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছেন তা ব্যয়ের হিসাব আমাদের জানাতে হবে। আগের বরাদ্দই তো ব্যয় করতে পারেননি। হারুনুর রশীদ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সংস্কার করতে হবে। কীভাবে আপনি এর সংস্কার করতে চাচ্ছেন? একটা কমিটি করেন। ইচ্ছা করলেও আপনি তা পারবেন না। কারণ চিকিৎসকদের শতকরা ৮০ ভাগ সরকারি দলের সদস্য। এ সময় নিজ এলাকার হাসপাতালের করুণ চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।
আলোচিত এ সংসদ সদস্য বলেন, লক্ষাধিক মানুষ প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ সেদেশে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে ঢেলে সাজাতে পারি, সংস্কার করতে পারি, তাহলে এই টাকা আটকানো সম্ভব হবে। করোনার টিকা প্রসঙ্গে বিএনপি সমর্থিত এ এমপি বলেন, আমরা কবে থেকে টিকার কার্যক্রম চালাব, সেটা স্পষ্টভাবে জানাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। মান ঠিক রেখে যদি টিকা কর্মসূচি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে আগামী এক বছরের মধ্যে ৮০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও উন্মুক্ত করতে হবে। এখানে কোনো দুর্নীতি থাকা চলবে না।
ভারতের সঙ্গে করা টিকার চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন ভারত চুক্তি বাতিল করলো? স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী কারণে টাকা চাচ্ছেন? তিনি কী কারণে টাকা ব্যয় করতে পারলেন না? এসবের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। হাসপাতালে সরঞ্জাম দেবেন, কিন্তু ডাক্তার নেই, টেকনোলজিস্ট নেই। পড়ে সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ সময় দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে হারুনুর রশীদ বলেন, আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলছি যে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, তাকে যেন বিদেশ নিয়ে তার সুচিকিৎসা করানোর সুযোগটা দেওয়া হয়।