admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৪ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
মিরু হসান,স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার মালতিনগরে বসতবাড়িতে বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া তাসনিম বুশরা (১৪) নামের মেয়েটি ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। ফলে বড় হয়ে পুলিশ হওয়ার স্বপ্নটি তার অধরা থেকে গেল।
সে মালতীনগর মোল্লাপাড়া এলাকার আলী হোসেন বাবুর মেয়ে এবং বুশরা মালতীনগর হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বনানি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ এপ্রিল রাতে মালতীনগর মোল্লাপাড়ায় রেজাউল করিমের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রেজাউলের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায়ে এত গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী বুশরা (১৪) ঢাকায় ছয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে। তার মরদেহ রবিবার রাত সাড়ে ১০ টায় নিজ বাড়িতে নেয়া হচ্ছে।
এসময় বুশরার সাথে আরও তিনজন আহত হন৷
বুশরার মা জানান, আমার এক মাত্র সন্তান তার অনেক স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে সে একজন বড় পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। লেখাপাড়াতেও তার ফলাফল ভালো করত। সে নিজেও স্বপ্ন দেখতো আমাদেরকেও স্বপ্ন দেখাতো। তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে স্বপ্ন দেখানোর সন্তান বুশরা আজ চিরোতরে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেল। এমন মৃত্যু যেন আল্লাহ আর কাউকে না দেয়।
পরে এ ঘটনায় পুলিশ রেজাউলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, ‘গত রবিবার রাতে রেজাউলের বাড়িতে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িতে থাকা তিন শিশুসহ চারজন গুরুতর আহত হন ৷ এছাড়াও রেজাউলের বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে সুতলি দিয়ে পেঁচানো ২৪০ পিস বিস্ফোরক দ্রব্য, বিস্ফোরণ দ্রব্য তৈরির কাজে ব্যবহৃত ৪০ পিস ছোট ছোট কাগজ, পেঁচানো সুতলির পোটলা, একটি ভাঙা টিনের কৌটা এবং এক মাথা পোড়া একটি গ্যাস সিলিন্ডারের রেগুলেটর।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করলে বাড়ির মালিক রেজাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তিনি আরও জানান, সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের আট সদস্যের একটি টিম আসে। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায় তদন্তকরা জন্য।