admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২০ ১২:২৬ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিনিয়ার হাসিনুর রহমানঃ স্কাউটিংয়ের বয়স শতবর্ষেরও বেশী হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশেও প্রায় ৫০ বছর হলো। আবু মহী উদ্দীন স্কাউটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন ৫৫ বছর আগে। এই সময়ে দেশে সংগঠন বিস্তার লাভ করেছে । সরকারি পৃষ্টপোষকতা বেড়েছে। যদিও প্রোগ্রাম ও তার মান নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন এবং আক্ষেপ রয়েছে। প্র্য়াই প্রোগ্রাম আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগী করার কথা হয়েছে। সে সবের জন্য কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। দড়ির গেরো বা পাইওনিয়ারিং আজকের যুগে কি কাজে লাগবে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো সিলেবাসে আছে। যদিও চর্চা কম। আবু মহী উদ্দীন দেশের জাম্বুরীতে যোগ দিয়েছেন এবং প্রোগ্রাম ডাইরেক্টরদের কার্যকলাপ কাছে থেকে দেখে এবং কখনো কখনো ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসাবে দায়িত্বও পালন করেছেন। জাম্বুরী পরিচালনায় এসব প্রোগ্রামে অংশগ্রহন করে তার ধারনা জন্মেছে , প্রোগ্রাম যাই ই হোক না কেন, প্রোগ্রাম ডাইরেক্টরের ক্রিয়েটিভিটির উপর প্রোগ্রামের গ্রহন যোগ্যতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল। জাম্বুরী বা সমাবেশের প্রোগ্রাম পরিচালনার কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনেকের কার্যক্রমে মনে হয়েছে প্রোভাইডেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ এলাকা বা অঞ্চল কভারেজ দিতে গিয়েই তা করা হয়েছে।
আগেকার সমাবেশ গুলিতে কর্মকর্তারা সমাবেশ স্থানে গিয়ে জানতে পারতেন তার কি দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে সে ধারার পরিবর্তন হয়েছে। যেমন ৯৭ সালে সিলেট শহরের আবু মহী উদ্দীন সাহেবকে হন্যে হয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার খুজতে হয়েছে। বেচারার কপাল খারাপ। সিলেট শহরে গ্যাসের সংযোগ আছে। কিন্তু সিলিন্ডার বিক্রি হয়না। তিনি তাঁবু জলসার ডিরেক্টর হিসাবে এশিয়া প্যাসেফিক রোভারমুটে তাঁবু জলসায় আতশবাজি চালু করে নুতন মাত্রা যোগ করেছিলেন। আবার চতুর্থ জাতীয় জাম্বুরীতে তাঁবু জলসায় কনসার্ট যোগ করে তাঁবু জলসাকে আরো আকর্ষনীয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজশাহী অঞ্চলের সমাবেশগুলিতে তিনি এককভাবে ডিজাইন করতেন এবং তা বাস্তবায়ন করতেন। আর আমরা তার নির্দেশনা মানতাম। একেবারে ছাত্র শিক্ষকের মতো। ফলে তাঁর নির্দেশনায় মহাতাঁবু জলসায় গুলো হতো ছবির মতো। এবং অনুষ্ঠান এমনভাবে শেষ করতেন মনেই হতো দর্শকদের আত্মা অতৃপ্তই থেকে যেতো। কোন অনুষ্ঠানেই দর্শক চলে যেতে দেখিনি। মজার ব্যপার হলো এক সমাবেশের পর আর এক সমাবেশে তিনি নুতন মাত্রা যোগ করতেন। সে কারনে প্রতিটি সমাবেশেই তার কাছ থেকে নুতন ধারনা পেয়ে আমরা সমৃদ্ধ হতাম।
যে কোন প্রোগ্রাম উপস্থাপন এবং পরিচালনা কৌশল ছিল অসম্ভব গ্রহণযোগ্য। অঞ্চলের বড় রড় প্রোগ্রাম নিজে যেমন আকর্ষনীয়ভাবে উপস্থাপন করতেন, তেমন সহযোগিদের প্রস্তুত করতেন। ফলে বর্তমান সময়ে আর যাই ই হোক উপস্থাপকের অভাবে কোন প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হবেনা। ৮৭ সালে তার প্রোগ্রাম উপস্থাপনায় নাটোরের জেলা প্রশাসক জালাল উদ্দীন আহমেদ দুপুর রাতে স্যাকরার বাড়ীতে গিয়ে স্যাকরাকে ডেকে মেডেল বানিয়ে সকালের অনুষ্টানে আবু মহী উদ্দীনকে মেডেল উপহার দিয়েছিলেন। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষও জানতেন প্রোগ্রাম উপস্থাপনার বিষয়ে তাদের দুঃশ্চিন্তার কোন কারন নেই। রাজশাহী অঞ্চলের ১৫ টি সমাবেশের মধ্যে ১ম সমাবেশ নীলফামারীর সমাবেশ ছাড়া বাঁকী ১৪ টি সমাবেশেই তার সরব পদচারনা ও দক্ষতার কারনেই গোটা অঞ্চলের ১৬ টি জেলাতেই তিান ব্যপক পরিচিত এবং প্রশংসিত হয়েছেন। সে কারনে জেলা ক্রীড়া অফিসার হিসাবে কর্মরত জেলা সমুহে সকল বড় বড় সরকারি প্রোগ্রাম পরিচালনায় তার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অত্যাবশ্যক। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা পঞ্চগড় আসলে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ও তিনি পরিচালনা করেছেন দক্ষতার সাথে।
প্রোগ্রাম পরিচালনায় ক্রিয়েটিভিটির কারনে প্রতিটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষভাবে উপকৃত হতো এবং আকর্ষন বোধ করতো। অংশগ্রহণকারী স্কাউটরা অলস বসে থাকার সুযোগ পেতোনা। সকল অবসর সময়ই দারুন কাজে লাগতো। মনে হতো হঠাৎ হঠাৎ করে নুতন নুতন আইডিয়া কার্যকরী হচ্ছে। বিষয়টা মোটেও সে রকম নয়। সমাবেশের আগেই তিনি পরিকল্পনা করে রাখতেন অংশগ্রহনকারীদের স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনা করে। অবসর সময়ে অগ্রসরমানদের জন্য মুল্যায়নের কাজে ব্যয় করতেন। যেমন পোষাক ও ব্যাজ পরিধানের প্রতিযোগিতা। রেকর্ড বই লেখার প্রতিযোগিতা , আইন প্রতিজ্ঞা বলার প্রতিযোগিতা। নটিং রীলে প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। বিষয়টি এমনভাবে প্রতিযোগিতা হতো যাতে করে শিক্ষকরাও প্রশিক্ষিত হতে পারতো। সেই ব্যবস্থাটা কৌশলে থাকতো। কোন এক ফাঁকে ইউনিট লিডারদের নিয়ে বিষয়টির প্রশিক্ষন হতো। রাতে ইউনিট লিডাররা ছেলেদের শেখাতো। পরদিন কোন এক ফাকে তাদের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। ফলে প্রতিটা সমাবেশ শেষে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হতো ইউনিট লিডাররা। শিক্ষক এবং স্কাউটদের জন্য অনেক বিষয়ে ডেমোর ব্যবস্থা করা হতো।
বিশাল সমাবেশকে মুহুর্তেও মধ্যেই নিয়ন্ত্রনে আনা এবং তাদের পরিচালনা করার মতো অনন্য গুনের অধিকারী তিনি ছিলেন। কোন সমাবেশের কুচকাওয়াজকে আকর্ষনীয় করার জন্য তার মহড়া পরিচালনা করতেন অত্যন্ত কৌশলে। ব্যক্তিগত কুচকাওয়াজের প্রতিযোগিতা করতেন। ফলে সকল অংশগ্রহণকারীরাই মোটামুটিভাবে কুচকাওয়াজে পারদর্শিতা অর্জন করতো। তবে ট্রেনিং পরিচালনায় ক্রিয়েটিভিটি এবং উপস্থাপন কৌশলের কারনে আপাতত: রাজশাহী দিনাজপুর অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ট্রেনার হিসাবে সবাই তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একথা নবীনরা যেমন অনুসরন করে প্রবীনরাও তেমনি স্বীকার করে। জাতীয় জাম্বুরী সমুহে খেলাাধুলা একটা চ্যালেঞ্জ থাকতো। সেটা কোথায় কিভাবে হতো কেউ টেরই পেতোনা। আর হতোও দায়সাড়া গোছের। ৯০ সালের জাতীয় জাম্বুরীতে চ্যালেজ্ঞ ১০ খেলাধুলা পরিচালনার জন্য ডাইরেক্টর মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। সে বারে খেলাধুলাকে অংশগ্রহণকারিদের কাছে দারুন উপভোগ্য ও আকর্ষনীয় করে তুলেছিলেন। বিকালে মৌচাকের মাঠে মেলা লাগতো সে এক আকর্ষনীয় দৃশ্য। জাম্বুরীর সকল কর্মকর্তাই এক বাক্যে তা সমর্থন করেছেন। পরের জাম্বুরীতে তিনি হয়েছিলেন তাঁবু জলসার ডাইরেক্টর। চালু করলেন প্রথমবারের মতো কনসার্ট ব্যবস্থা। অভুতপুর্ব পরিবর্তন আসলো তাঁবু জলসার উপস্থাপনায়।
৪র্থ সার্ক জাম্বুরীতে তিনি বি পি পিটি এবং এরোবিকসের ডাইরেক্টর হয়েছিলেন। আমাদের ধারনা ছিল তার ডিমোশন হলো। তখন তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটিরও সদস্য। আঞ্চলিক উপ কমিশনার (ট্রেনিং) ইত্যাদি। তিনি মন খারাপ করেননি। এই জাম্বুরীর ১২,০০০ অংশগ্রহনকারীদের কাছে বিপি পিটি এবং এেেরাবিকসকে একদম প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দান করলেন। যাতে এই একটি বিষয়েই পৌছে গেছেন সকল স্কাউটের কাছে। বিপি পিটি’র অডিও ক্যাসেট এবং ভিডিও সিডি তৈরি করে অমরত্ব লাভ করলেন। এখনো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাবেশে তার সিডি ব্যবহার হয়। তার এই সিডি বিদেশেও গিয়েছে। মাঘ মাসের প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেই তার এই অনবদ্য সৃষ্টি লেপের উসুম থেকে ভোরে স্কাউটদেরকে স্বত:স্ফুতভাবে মাঠে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। তার কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে অংশগ্রহণকারী স্কাউটরা। সেবার জাম্বুরী প্রোগ্রাম মুল্যায়ন করা হয়েছিল । অংশগ্র্রহণকারী সকল স্কাউটদের মাঝে মুল্যায়নপত্র বিতরন করে। সার্বিক প্রোগ্রাম মুল্যায়নে ৮৭.৮৪% নম্বর স্কোর করে বিপি পিটি এবং এ্যরোবিকস প্রথম স্থান অর্জন করে।
সিরজগঞ্জের হুন্দাই বাঁধের পাশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় রোভার মুট এবং কমডেকা। মুটের বুলেটিনে তিনি জাম্বুরী অন দি ট্রেন নামে একটি কনসেপ্চুয়াল থিম লিখেছিলেন। লেখাটির অর্ধেক ছাপা হয়েছিল। অনেক কর্মকর্তারা নাক সিটকিয়েছিলেন এই ধারনার বিষয়ে। তারা এখনো স্কাউটের বড় কর্মকর্তা এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। অথচ ২০০৭ সালে স্কাউট আন্দোলনের শত বর্ষে সবচেয়ে আকর্ষনীয় , বহুল প্রচারিত এবং শুধু দেশেই নয় বিশ্বে প্রথম চট্রগ্রাম থেকে দিনাজপুর অনুষ্ঠিত হলো জাম্বুরী অনদি ট্রেন। আবু মহী উদ্দীন অনরুট ক্যাম্প জয়পুরহাটের ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলেন। সার্বিক মুল্যায়নে জয়পুরহাটের ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় সেরা বিবেচিত হয়। জাতীয় স্কাউট পত্রিকা অগ্রদুতে বিষয়টি ছাপানো হয়েছে। স্থানীয় , জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের সমাবেশগুলিতে প্রতি আয়োজনেই এক ঝাঁক করে স্কাউট প্রোগ্রাম পরিচালক তৈরি করা তার নেশায় পরিনত হয়েছিল। নিশ্চয় করে অন্তত: এ কথা বলা যায় , জয়পুরহাট , পঞ্চগড় , নীলফামারী জেলা সমুহে কোন স্কাউট প্রোগ্রাম আয়োজন করে পরিচালকের অভাব অনুভুত হবেনা। সে যে পর্যায়েরই হোক না কেন?
শাপলা কাব , প্রেসিডেন্ট স্কাউট বানানো তার অন্যতম নেশা ছিল। কখনো অন্যের দলে সহায়তা দিয়েছেন কখনো নিজে মুক্ত দল করে। দেশে শাপলা কাব এওয়ার্ড পাওয়া শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরেও রাজশাহী বিভাগের কেউ শাপলা কাব এওয়ার্ড অর্জন করেনি। ৯৫ সালে তিনি পঞ্চগড় জেলা স্কাউটস এর কমিশনার হিসাবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পরই শুরু করেন কর্মকান্ড। যে জেলাতে ১ টি কাব দলই ছিলনা সেই জেলাতে শুরু হলো কাব দল গঠন কর্মযজ্ঞ। কাব দল গঠন , দীক্ষা অনুষ্ঠান , কাব লিডারদের ট্রেনিং, রিফ্রেসারস কোর্স। কোন ¯ু‹লের দীক্ষানুষ্ঠান মানেই উৎসব। সঙ্গে পেলেন ডি পি ইও দেলোয়ার হোসেন , ডি ই ও কুতুব উদ্দীনকে। হয়ে গেলেন হরিহর আত্মা। খুজে বের করলেন আরিফ হোসেনকে। নিয়ে আসলেন প্রশিক্ষনে। আরিফকে নিয়োগ করলেন জেলা কাব লিডার হিসাবে। শুরু হলো কার্যক্রম। প্রশিক্ষণ , ওয়ার্কশপ। শাপলা কাব ফরম গেলো জাতীয় পর্যায়ে। পরীক্ষা হলো ।
পরিশ্রমের ফসল ফললো। রাজশাহী বিভাগের ১ম ,২য়, ৩য় . ৪র্থ শাপলা এলো পঞ্চগড়ে , অজ পাড়াগাঁয়ের স্কুল থেকে। শহীদের স্কুল বালাভীল গোয়ালপাড়া (এখন তিনি প্রথম আলোর রিপোর্টার) । এর পর আল ফিরে তাকাতে হয়নি। এবারে সংগে নেওয়া হলো দেবীগঞ্জকে। আবিস্কার হলো ওয়াজেদ আলী। তার পর থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৫৪ জন শাপলা কাব এওয়ার্ড পেয়ে রাজশাহী বিভাগের শীর্ষস্থান দখল করলো পঞ্চগড় জেলা । বর্তমানে রংপুর বিভাগেও ( দিনাজপুর অঞ্চল) শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পঞ্চগড় জেলা। একই সঙ্গে তিনি ঠাকুরগাও জেলার দিকেও নজর দিয়েছিলেন। ঠাকুরগাঁয়ে তার কয়েক জন আত্মীয় রয়েছেন উৎসাহী ইউনিট লিডার। তাদের সঙ্গে নিলেন। ২০০০ সালে তিনি বদলী হয়ে এলেন ঠাকুরগাও। জেলা কমিশনারের দ্বায়িত্ব বর্তালো। কাজ শুরু করলেন। দ্বায়িত্ব নেওয়ার সময় শাপলা কাবের সংখ্যা ছিল ১৩। শাপলা কাব ২০০৩ এর মধ্যে পৌছালো ৩৩ এ । যা রাজশাহী বিভাগেও ২য় স্থান। এখনো রংপুর বিভাগে ২য় স্থান।
২০০৩ সালের জুলাই মাসে বদলী হলেন নীলফামারী জেলায়। ২০০৩ সালেও নীলফামারী জেলা শাপলা কাবের তালিকায় নাম লিখতে পারেনি। শুরু হলো প্রক্রিয়া। নীলফামারীতে তাকে অনেকগুলি প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়েছিল। অনেকটা কাবের অভিযানের মতো। নিজেই পানিতে নামলেন সাঁতার শেখানোর জন্য। যা তিনি ঠাকুরগাও পঞ্চগড়েও করেছেন। অবশেষে নীলফামারী জেলাও শাপলা কাবের খাতা খুললো। ডিমলা এবং পাড়াগায়ের ছেলেমেয়েরাই তা অর্জন করলো।
সাড়ে ৪ বছর পর তিনি আবার বদলী হলেন ঠাকুরগাও। ঠাকুরগায়ে তিনি টাঙ্গন মুক্ত মহাদল নামে একটা মুক্ত দল রেখে দিয়েছিলেন। আবার দলটির হাল ধরলেন।
নীলফামারীতেও তিনি নীলসাগর মুক্ত মহাদল নামে একটা দল করেছিলেন। অল্প দিনেই দলটি ব্যপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হলো। ২০১০ সালে ঠাকুরগাও এ টাঙ্গন মুক্ত মহাদলের একজন কাব আকিব আহম্মেদ শরন দিনাজপুর অঞ্চলের একমাত্র কাব হিসাবে শাপলা কাব এওয়ার্ড অর্জন করে দিনাজপুরের মুখ রক্ষা করে। ২০০৩ এ তিনি যখন ঠাকুরগাঁও ছাড়েন তখন ঠাকুরগায়ের শাপলা ছিল ৩৩ । ২০০৮ এ ফিরে এসে দেখেন ৩৩। ২০১০ এ হলো ৩৪। মজার ব্যাপার হলো তিনি পঞ্চগড় ছাড়লেন ৫৪ রেখে আজো ৫৪ , ঠাকুরগাও ছাড়লেন ৩৩ ফিরে এসে পেলেন ৩৩ নীলফামারী ছাড়লেন সাড়ে চার বছর পর । এখন নীলফামারীতেও আর শাপলা কাব হচ্ছেনা।
তাঁর নিজ জেলা জয়পুরহাটে নিজে প্রেসিডেন্ট স্কাউট করেছেন ৬ জন। আরো ডজন খানেক হতো , তবে রাজশাহী অঞ্চলের দাপ্তরিক অদক্ষতার কারনে তারা সে সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের প্রথম প্রেসিডেন্ট স্কাউট আরিফুজ্জামানের প্রেসিডেন্ট স্কাউট তৈরিতে অনবদ্য ভুমিকা পালন করেছেন। জয়পুরহাটের আবু সুফিয়ান রাজু , জাহিদুল ইসলাম বিদ্যুৎ ,আব্দুল মান্নান চটুল , রফিকুল ইসলাম সৈকত তার প্রোডাক্ট। ঠাকুরগায়ের ইনতেখাব আলম শুভ কে তিনি প্রেসিডেন্ট স্কাউট বানিয়েছেন।
তিনি শাপলা , প্রেসিডেন্ট স্কাউট এবং প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউটের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় একাধিকবার পরীক্ষক হিসাবে অংশগ্রহনের সুবাদে অনুভব করেছিলেন আমাদের স্কাউটরা সাধারণ জ্ঞান বা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করে , ভালো করেনা স্কিল বিষয়ে। তাই ২ বছরের পরিশ্রমে তিনি ৩ ডি এনিমেশনে তৈরি করেছেন একেবারে কাব থেকে রোভার পর্যন্ত এবং সকল বিভাগের যাবতীয় দড়ির গোরো , ল্যাশিং , দড়ির যত্ন সহ পাইওনিয়ারিংয়ের যাবতীয় বিষয় সহ ট্রেনিং সিডি তৈরি করেছেন। সিডিটি ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যারা পাইওনিয়ারিং ব্যাজ অর্জন করতে চায় বা প্রেসিডেন্ট স্কাউট হতে চায় তাদেরকে এই সিডিটি দারুন সহায়তা করবে। বি.পি ,পি.টি এবং এরোবিকস এর সিডিটিতো আছেই। স্কিল বিষয়ে আরো কয়েকটি সিডি তৈরি করার কাজে তিনি হাত দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ও এস ডি।