আমির হোসেন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ফসল তলিয়ে যাওয়ায় ডিসি ইলিয়াস মিয়াকে কুকুরের বাচ্চা বলে আখ্যা দিলেন কৃষকেরা। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে পাউবো এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে ১২টি উপজেলায় সফল সমাবেশ শেষে এবার জেলা সদরে কৃষক জনতার গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনারে জেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন সুনামগঞ্জের উদোগে এ গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন এর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী। কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের কৃষানী সুলতানা বেগম,মতিউর রহমান, মির্জা ফারুক, শাহাব উদ্দিন, আব্দুল হান্নান, রমজান আলী, মোশাহিদ আলী, নুরুল আমিন, আব্দুল কাদির, জাবেদুল্লাহ, মতিউর রহমান,ছাতক হাওর ও নদী রক্ষা উপজেলার সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, মধ্যনগর উপজেলার আহব্বায়ক আশরাফ উদ্দিন হিল্লোল,শান্তিগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক ইমদাদ হোসেন, জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক রুবেল মিয়া ভুইয়া, সদস্য সচিব কাইয়ূম আহমদ, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসান প্রমূখ।
বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন এর উপদেষ্টা প্রফেসর মহিবুল ইসলাম, কমরেড চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন মনির, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম কর্মী জাহাঙ্গীর আলম, সমাজ সেবক নুরুল হক,হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহ সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম মজনু, সুহেল আলম, আলী খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দীন, আকিক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হাসান ও বাঁধ বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমূখ।
সমাবেশে পিআইসি বাণিজ্যের জন্য সুনামগঞ্জে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ জেলা প্রশাসক ড.মোঃ ইলিয়াস মিয়া ও তার সকল দুর্নীতিবাজ সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করে নিম্নোক্ত ১০ দফা দাবী উত্থাপন করা হয়। প্রথমত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রকাশ পূর্বক যাচাই বাচাই করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে দ্বিতীয়ত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কৃষি ঋন,এনজিও ঋন সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে তৃতীয়ত সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় অপরিকল্পিত বাঁধ সমূহ চিহ্নিত করে অপসারণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুসারে পরিকল্পিত সুইসগেট স্থাপন করতে হবে চতুর্থত অপ্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত পিআইসিগুলোকে চিহ্নিত করে পুনঃ তদন্তের মাধ্যমে মেজারমেন্ট করে বিল প্রদান করতে হবে, পঞ্চমত ফসল রক্ষা বাঁধের নামে ফসলি জমি কর্তন, হাওরের কান্দা কর্তন ও মাটি লুটতরাজ বন্ধ করতে হবে,ষষ্ঠত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর ১ ও পওর ২ দায়িত্ব প্রাপ্ত),জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ জেলার সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে, সেই সাথে তাদেরকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
সপ্তমত ফসল রক্ষা বাঁধ কার্যক্রমের সার্ভে ও প্রাক্কলন যথা সময়ে শুরু ও শেষ করতে হবে, সেই সাথে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যম কে অবহিত করতে হবে। কাবিটা নীতিমালা ২০২৩ (সংশোধিত) এর আলোকে পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর ও দৃশ্যমান গণশুনানী করতে হবে। অষ্টমত হাওরে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। সুনামগঞ্জ জেলার ১২ টি উপজেলার সকল হাওরের সাথে সংযুক্ত নদী,খাল ও বিল সমূহকে পরিকল্পিত ভাবে দ্রুত খনন করতে হবে,দশমত যাদুকাটা, ধোপাযান, চিলাই নদী, খাসিয়ামারা নদীসহ অন্যান্য নদীতে ইজারা ও ইজারা বর্হিভূত জায়গা থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। এদিকে জেলা সদরে যখন গণসামাবেশ চলছিল ঠিক এর আগে জেলার অন্যতম দেখার হাওরে পূর্বের নির্মিত একটি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্রবলবেগে হাওরে প্রবেশ করে পাহাড়ী ঢলের পানি।
এতে হাওরটির প্রায় এক তৃতীয়াংশ বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসলরক্ষা করতে মরিয়া কৃষকরা এজন্য জেলা প্রশাসক ড.ইলিয়াস মিয়াকে দায়ী করে কুকুরের বাচ্চা বলে আখ্যা দেন কৃষকেরা এবং অবিলম্বে সুনামগঞ্জ থেকে তাকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।