admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ এপ্রিল, ২০২২ ১১:০২ অপরাহ্ণ
মোঃ মহিবুল আলম রানা ও মোঃ রফিকুল ইসলাম জিলু, স্টাফ রিপোর্টারঃ সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার বাবুল ব্যাপারী ও তার স্বজনদের দৌরাত্বে জিম্মি হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক। শত শত বিঘা কৃষিক্ষেত থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেয়ায় এসব ক্ষেত এখন গভীর পুকুরে পরিনত হয়েছে। মাটি লুটেরা বাবুল গংরা এলাকার প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় স্থানীয় কৃষকেরা ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা। কেউ মাটি কাটায় বাঁধা প্রদান করলে তাদেরকে হুমকি ধামকিসহ মারধর করে থাকে বাবুল ব্যাপারীরা। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার ইউপি সদস্য এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসনের কাছে তাদের বিচার দাবি করেছেন।
সরেজমিনে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে দিগন্ত জোরা কৃষি ক্ষেত। কোথাও সবুজ ধানের ক্ষেতে আবার কোথাও লাউ ক্ষেত, শসা ক্ষেত কিংবা টমেটো ক্ষেত। দুর থেকে দেখলে কিছুই বোঝার উপায় নাই। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নেমে যাওয়া একটি শাখা সড়ক দিয়ে কিছুদুর এগোলেই চোখে পড়ে সারি সারি ইটভাটা। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব ইটভাটা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুর থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরত্বে কৃষি জমি এবং নদীর তীরে এসব ভাটা স্থাপন করায় কখনও এদিকে অভিযান পরিচালনা করেনি ভ্রাম্যমান আদালত কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ের বলিয়াপুর এবং সালেহপুর ব্রীজের মাঝামাঝি এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ডাম্পিং জোন। এর ঠিক পিছনেই রয়েছে অন্তত ১৫টি অবৈধ ইটভাটা। সম্পুর্ন কৃষি জমি এবং নদীর তীরে অবস্থিত এসব ভাটায় ইট তৈরীর জন্য আশপাশের কৃষি জমি থেকে মাটি সরবরাহ করে থাকে বনগ্রাম এলাকার বাবুল বেপারী, আরিফ হোসেন, মামুনসহ মাটি লুট চক্রের অন্যান্য সদস্যরা। চোখের সামনেই ক্ষেতের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও দুই ফোটা চোখের জল ফেলা ছাড়া নিরীহ খেটে খাওয়া কৃষকের যেন কিছুই করার নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, আমার তিন বিঘা জমিতে লাউ ক্ষেত করেছিলাম। একটি সকালে গিয়ে দেখি প্রায় এক বিঘা জমির মাটি রাতের আঁধারে চুরি করে নিয়ে গেছে কে বা কারা। এ বিষয়ে যারা মাটি কাটে তাদের কাছে জানতে গেলে আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। কৃষক মুসলেম বলেন, আমিও দুই বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে কোনভাবে সংসার চালাচ্ছিলাম। কিন্তু আমার জমির দুই পাশ থেকে অন্তত ৪০-৫০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রী করায় ধীরে আমার জমিটিও ভেঙ্গে গর্তে চলে যাচ্ছে। বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, বাবুল বেপারী ও তার আত্মীয় স্বজনরা কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রী করে এটা এলাকার সবাই জানে। তার ছোট ভাই গত নির্বাচনে চশমা প্রতিকে আমার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছে। তারা আমাদের দলীয় লোক নয়, জাতীয় পার্টি করে। আপনারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেন। জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাবুল বেপারী কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার কথা শিকার করে বলেন, আমি কারও জমি থেকে চুরি করে মাটি কাটিনা। টাকা দিয়ে জমি কিনেই কাটি এবং ইটভাটায় সরবরাহ করি। সরকার যদি ভাটা বন্ধ করে দেয় আমিও মাটি কাটা বন্ধ করে দিবো। জানতে চাইলে সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি তাসলিমা শিরিন বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। আমি দ্রুত লোক পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।