admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২২ ১০:০৪ অপরাহ্ণ
মোঃ মহিবুল আলম রানা ও জিল্লুর রহমান, ঢাকা থেকেঃ সাভারে প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারী খালের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রী করছে একটি অসাধু চক্র। কয়েকটি ভেকু দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর করে খালের মাটি কেটে নেয়ায় পার্শ্ববর্তী কৃষি জমিগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন সময় কৃষকরে জমির পার ভেঙ্গে চলে যেতে পারে খালের গভীরে।
এছাড়া মাটি খেকোরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় দরিদ্র কৃষকেরা ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেনা। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসেই খালের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রী করছে মাটি খেকোরা।
আর মাটি বিক্রী টাকা সময়মতো সহযোগীদের হাতে পৌছে যাওয়ায় বার বার অভিযোগ করা স্বত্ত্বেও মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা প্রশাসন।
সরেজমিনে সাভার উপজেলা পরিষদ থেকে তিন কিলোমিটার দুরে সাদাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সরকারী খালের গভীরে কয়েকটি ভেকু দিয়ে মাটি কাটছেন স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন ও ইদ্রিস মোল্লার লোকজন। এসব মাটি ট্রাকে করে নিয়ে ফেলা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইটভাটায়। সরকারী খালটি অন্যান্য স্থানে সরু এবং ভরাট হয়ে গেলেও ওই স্থানে অনেক চওড়া এবং প্রায় ৩০-৪০ ফুট গভীর করে মাটি কাটছেন এসব অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা।
এভাবে প্রকাশ্যে সরকারী খালের মাটি কেটে দেদারছে ইটভাটায় বিক্রী করার ফলে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমির মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। বার বার এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও পরিচালনা হয়নি কোন অভিযান। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, ফরহাদ ও ইদ্রিস মোল্লা গেন্ডা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের নিজেদেরও রয়েছে ইটের ভাটা। এজন্য তারা প্রতিবছরই এই খালের মাটি কেটে ভাটায় ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যদের কাছে বিক্রী করে মোটা অঙ্কোর টাকা হাতিয়ে নেয়।
তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী গভীর করে খালের মাটি কেটে নেয়ায় যে কোন সময় আমাদের কৃষি জমি ভেঙ্গে খালের ভিতরে চলে যেতে পারে। এ বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও মাটি খেকো ফরহাদ ও ইদ্রিস লোল্লা সরকার দলীয় লোকজনের ছত্রছায়ায় থেকে প্রশানকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যায়। পরে উল্টো আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে আরও বেশী গর্ত করে খালের মাটি কেটে বিক্রী করে তারা।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি কোন খালের মাটি কাটিনা। নিজের ইটভাটার জন্য জমি কিনে সেখান থেকে মাটি সংগ্রহ করি। এবার যেখান থেকে মাটি কাটছি তার পাশেই একটি খাল আছে শুনেছি। আপনি দুই একদিন পরে এসে আমার সাথে দেখা কইরেন। তবে সরকারী খালের মাটি কেটে ইটভাই বিক্রীর বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে সে বিষয়ে জানকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম এবং সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকরবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাসেস দিয়ে জানতে চেয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।