admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
মেহেরপুরে ২০ বছর ধরে পেটের মধ্যে কাঁচি নিয়ে ঘুরছেন এক নারী। যানা জায় গাংণী উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার এক নারী ২০০১ সালে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে পিত্তথলীর অপারেশনের পর থেকে গত বিশ বছর ধরে পেটের মধ্যে আর্টারি ফরসেপ বয়ে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু বিশেষ এ কাঁচিটি কিভাবে তার পেটে থেকে গেলো সেটি তিনিও যেমন জানেন না তেমনি বলতে পারেননি তার অপারেশনের সাথে জড়িত থাকা চিকিৎসকরাও।তবে এখন আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় সম্প্রতি এক্সরে তে এটি ধরা পড়লেও উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস থাকায় তার শরীর থেকে এখনো এটি অপসারণ করা যায়নি।
প্রায় ৫০ বছর বয়সী এ নারীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদা হাপানিয়া গ্রামে যা মেহেরপুরের গাংণীর নিকটবর্তী।সেখানকার কুষ্টিয়া রোডে রাজা ক্লিনিকে যে চিকিৎসকরা ওই নারীর পিত্তথলির অপারেশন করেছিলেন তাদের একজন ছিলেন ক্লিনিকটির মালিক ডাঃ পারভিয়াস হোসেন রাজা। তিনি বলছেন, এক্সরে তে দেখা যাচ্ছে যে আর্টারি ফরসেপটি তার শরীরে আছে। তার অপারেশনের সময় আমি সহকারী হিসেবে ছিলাম। কিন্তু কীভাবে এটি থেকে গেলো মনে করতে পারছি না। এখন যেহেতু ধরা পড়েছে আমরা অন্য ক্লিনিকে সেটি অপসারণের ব্যবস্থা করবো। তবে তার ডায়াবেটিস বেশি হওয়াতে অপারেশন করা যাচ্ছে না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এলে আমরা এটি করবো।
তবে রাজা ক্লিনিকের সাথে মৌখিক সমঝোতার কারণে বিষয়টি নিয়ে তারা আর গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন ওই নারীর পরিবারের একজন সদস্য। মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী বলছেন ঘটনাটি তদন্তে আজই তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ডাঃ পারভিয়াস হোসেন রাজা বলছেন এটি কোন প্রাণসংহারি কিছু নয়। তেমনটি হলে এতদিন উনি সহ্য করতে পারতেন না।
যদিও সার্জারি আমি না করলেও সার্জারি টিমের সদস্য হিসেবে ভুল যে হয়েছে সেটি স্বীকার করতে কোন দ্বিধা করছি না। ওনার জন্য যা করার সেটি আমরা করবো, বলছিলেন তিনি। তিনি বলেন এক্সরে তে দেখা যাচ্ছে আর্টারি ফরসেপটি লিভারের নীচে শরীরের ওয়ালের সাথে সেটে আছে। এতে এ ঘটনায় রীতিমত বিস্মিত মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী। আমি রীতিমত অবাক। এতদিন এটা সহ্য করলেন কি করে তিনি। আর ধরাই বা পড়লোনা কেন। তবে আল্লাহর ইচ্ছা। আমরা তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদন্ত হলে জানা যাবে বলছিলেন তিনি।